Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

সিটি নির্বাচন নিয়ে গ্যারাকলে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২১, ০৮:০৫ পিএম

সিটি নির্বাচন নিয়ে গ্যারাকলে বিএনপি
Swapno

# হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা


# জনসমর্থন যাঁচাই করতে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অনেকে


# বিএনপি নির্বাচনে গেলে প্রস্তুতি আছে : সাখাওয়াত হোসেন খান


# স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোন কথাই বলিনি : আতাউর রহমান মুকুল


# নির্বাচন করলে অনেকের সাথে আমিও মনোনয়ন চাইবো : এড.টিপু



কোভিড-১৯’র চোখ রাঙানিতে যথাসময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে সেসব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সিটি নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস, মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ঝাপ লক্ষ্য করা গেলেও বিএনপিতে সেসব একেবারেই নেই।  

 

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এড.সাখাওয়াত হোসেনও দলীয় সিগন্যালেরই যেন অপেক্ষায় আছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নিয়ে টু শব্দটি করেনি বিএনপির হাইকমান্ড। তবে স্থানীয়ভাবে নানাজন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে থাকার উঁকিঝুঁকি দিয়েছেন। তবে সেসব ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হলেও বিএনপির ট্যাগ নিয়ে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না তা নিয়ে ঘোরতর সংশয় রয়েছে।



সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নাসিকের প্রথম নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকার। তবে শেষ পর্যন্ত মাঝ রাতে হঠাৎ নির্বাচন থেকে ছিটকে যান তিনি। পরবর্তীতে দল তার উপর ভরসা রাখেনি পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। সাতখুন মামলার আইনজীবী হিসেবে দেশব্যাপী প্রশংসা কুড়ান জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান। বিএনপির পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া হয়।

 

তবে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী  ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে প্রায় লাখ খানেক ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। যদিও বিএনপির অনেকে দাবি করে থাকেন, ওই নির্বাচনে এড, তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির হেভীওয়েট নেতাকে প্রার্থী করার চিন্তা করেছিল বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কেউই সাহস করতে পারেননি বিধায় মনোনয়ন পান এড.সাখাওয়াত হোসেন খান। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এতো বড় ব্যবধানের পরাজয়ের পেছনেও মূল কারিগর ছিল মনোনয়ন নিতে সাহস করতে না পারা ব্যক্তিরা। যদি তারা সকলে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করতো তবে পরাজয়ের ব্যবধানটা অন্তত আরো অনেক কম হতো।



সূত্র জানায়,  সময় গড়িয়েছে অনেক। বিএনপির রাজনীতিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষয়িষ্ণু হয়ে মহানগর বিএনপির রাজনীতির আদালতের নির্দেশনায় বর্তমানে কোমায়। জেলা বিএনপিও রয়েছে নড়বড়ে অবস্থানে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। এঅবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান কী হবে তা নিয়ে অন্ধর মহলে রয়েছে বিএনপির নেতারাই। তবে কেউ কেউ চাইছেন জয়-পরাজয় যাই হোক নির্বাচনে অন্তত অংশগ্রহণ করুক বিএনপি।



সূত্র জানিয়েছে,  ২০১৬ সালে নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হারলেও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান পরের কয়েকবছর সিটি এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কাজ করেছেন মূলত সিটি নির্বাচনকে ঘিরেই। এমনকি মহানগর বিএনপির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব বেড়েছে এই প্রভাব বাড়াতে গিয়ে। জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও তার ভাই সিটি কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নাসিক নির্বাচনে মনোননয় চাইতে পারেন এমন শঙ্কায় দুরুত্ব বেড়েছে কয়েকগুন।

 

অপরদিকে সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড.আবুল কালামও মাঠের রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও মূলত সিটি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে দুরুত্ব সাখাওয়াতের সাথে। সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয়ভাবে বিএনপির আগাম কোন প্রস্তুতির আভাস না মিললেও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুল মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসতে পারেন। তবে সেটি দলীয়ভাবে কিংবা স্বতন্ত্র সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। সূত্র জানিয়েছে, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল। বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও সরকার দলীয় নেতা ও এমপির সাথে ঘনিষ্টতার দরুণ বিএনপির রাজনীতিতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই নেতিবাচক খাতায় নাম থাকে তার। তবে একটি সূত্র বলছে, পরিস্থিতি বুঝে এবারের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে তার প্রার্থী হবার জোর সম্ভবনা আছে।



তবে এখানেই শেষ নয়, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু আসন্ন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হবার আগ্রহ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সূদূর আমেরিকায় অবস্থান নেওয়া এটিএম কামালও। এমন সুপ্ত আগ্রহ আরো অনেক বড় নেতার থাকলেও মূলত দলীয় কোন আভাস না মেলায় এনিয়ে টু শব্দটিও তারা করছেননা।

 

তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম বিচার করে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারে বিএনপিও। সেক্ষেত্রে সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সাংসদ আবুল কালাম এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার আটঘাট বেধে মাঠে নামতে চাইলেও তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাঠের জরিপে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা যাঁচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে বিএনপির অনেক নেতাই নাসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী।  



২০১৬ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে জানান, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করেনা বিএনপি। দল এখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। দল অংশগ্রহণ না করলে আমার অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসেনা। শেষ সময়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া সম্ভবপর হবে কি না এমন প্রশ্নে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দল যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ভেবেচিন্তেই নিবে। তবে আমার মনে হয়, যদি দল নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা ভাবে তবে সে সিদ্ধান্ত নির্বাচনের বেশ আগেই আমরা জানতে পারবো।’  



স্থানীয় গণমাধ্যমে সম্প্রতি মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন এমন সংবাদ বেড়িয়েছে।এব্যাপারে বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, দলের উপরই আসলে পুরো ব্যাপারটি নির্ভর করছে। নির্বাচনে দল অংশগ্রহণ না করলে আমি বিএনপির প্রার্থী হতে পারিনা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়ে মুকুল জানান, এমন কোন সম্ভাবনাই নেই। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি একেবারেই ভিত্তিহীন।


বিএনপি নির্বাচনে আসা না আসার সিদ্ধান্ত অনেকটা পেন্ডুলামে ঝুলন্ত কিছুর মতোই রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা বলেছেন নানা সময়। এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তের কথাই জানি আমরা। তবে দল যদি তার অবস্থান বদলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে অনেকের সাথে আমিও নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো। আগামীকাল যদি নির্বাচন হয় তবে সেই নির্বাচনেও আমাদের অংশগ্রহণ করার সক্ষমতা আছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন