Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শহর জুড়েই অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৮:০৮ পিএম

শহর জুড়েই অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি
Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্যতম প্রবেশপথ চাষাঢ়া। চাষাঢ়া হতে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত গড়ে উঠেছে প্রায় ২০টির বেশি অবৈধ স্ট্যান্ড। আর ব্যস্ততম চাষাঢ়া চত্বরের আশপাশের সড়কের ওপরেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছেবাস, ট্রাক, লেগুনা, প্রাইভেট কার, ইজিবাইক ও সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব অবৈধ স্ট্যান্ড ঘিরে গড়ে ওঠেছে নামে-বেনামে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

 

যার ফলে পর্দার আড়ালে বসে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শহর জুড়ে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট চক্র। শহর জুড়েই এসকল অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি আর লাখ লাখ টাকার ব্যাপক চাঁদাবাজি। আর এসকল অবৈধ স্ট্যান্ড মূলত রাস্তার পাশে। এতে করে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট আর ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিতরে ও বাইরে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি, ইজিবাইক ও লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ড রয়েছে অর্ধশত অবৈধ স্ট্যান্ড । এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাব ও মোজাফ্ফর তেলের পাম্পর, বাইতুল আমান, চাষাঢ়া সুগন্ধা বেকারী, শহীদ মিনার, প্রান্তিক তেলের পাম্প, খাজা মার্কেট, হকার্স মার্কেটের সামনে, সোনালী ব্যাংক, সরকারী মহিলা কলেজ, ২নং রেল গেইট, মিট টাউন, ডায়মন্ড হল চত্তর, ফজর আলী ট্রেড সেন্টার, মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, নবাব সলিমুল্লা রোড, ১নং রেল গেট, মেট্রো হলের মোড়, খানপুর, কালির বাজার, মন্ডলপাড়া, জিমখানা মোড়, নিতাইগঞ্জ মোড় এলাকায় অবস্থিত বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার অবৈধ স্ট্যান্ড। এসকল অবৈধ স্ট্যান্ডের গাড়ি গুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে মূলত সড়কের উপরে। ব্যস্ততম এসব এলাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এর কারনে প্রায়ই সময়ে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সবচেয়ে বেশি যানজট লেগে থাকে। শহর জুড়েই সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি।

 


এদিকে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড ঘিরে গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন নামে-বেনামে শ্রমিক সংগঠন। যার ফলে পর্দার আড়ালে বসে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শহর জুড়ে কয়েকটি সিন্ডিকেট। বিভিন্ন নামে বলে চাঁদা আদায় করছে প্রতিটি বাস, ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে। আর চাঁদা না দিলে দেওয়া হয় বাঁধা ও হয়রানি স্বীকারও হতে হয়। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের মাধমে গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিনই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

 

একটি সূত্র মতে জানা যায়, প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে টাকার চাঁদা উঠানো হচ্ছে। আর এসব আদায়কৃত চাঁদার ভাগ যাচ্ছে আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার পকেটে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রাক, সিএনজি ও ইজিবাইক থেকে এই টাকা চাঁদা আদায় করছে একটি চত্রু। এসব চক্রে নেপথ্যে যেমন রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, তেমনি রয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

 


ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এর বিরোধীতা করলেও অদৃশ্য কারণে মিলছে না তার কোনো প্রতিকার। কেবল খবরের কাগজে শিরোনাম হলেই ক্ষণিক সময়ের জন্য দেখা যায় প্রশাসনের তোরজোর। তবে সময়ের ব্যবধানে আবারও ভেসে উঠে সেই পুরনো চিত্র। এদিকে শহরের যানজট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ স্ট্যান্ড ও শহরের সকল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু দখলমুক্ত করলে ও পরেরদিন দেখা যায় ফের এলাকায় মূল সড়ক দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

 


এক সিএনজি অটোরিকশা চালন রাজা মিয়া বলেন, গাড়ি রাখার লেইগ্যা আমাদের স্ট্যান্ডের দরকার। কিন্তু অন্য কোনোখানে জায়গা নাই দেইখ্যা এইখানে গাড়ি রাখা হয়। এতে কিছুটা যানজট হয়। কিন্তু আমরা তো এইজন্য স্ট্যান্ডে চাঁদা দিতেছি। চাঁদা দিতে না চাইলে তারা সিরিয়াল বাতিল করে এবং পরে স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখতে নিষেধ করা হয়।

 


এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো. কামরুল ইসলাম বেগ  বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিদের্শনাক্রমে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। শহরে মধ্যে কোনো অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না। যদি থাকে তাহলে আমরা তা উচ্ছেদ করে দিবো। আমাদের টিআইদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। এছাড়াও আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন