Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বিনা পয়সায় পুলিশের নাস্তা, মেহেদী পায় ৩০ টাকা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫০ পিএম

বিনা পয়সায় পুলিশের নাস্তা, মেহেদী পায় ৩০ টাকা
Swapno

# চাষাঢ়ায় ব্যবসা করতে হলে সবাইকে অর্থ দিতে হয়


# আমি কোন ছ্যাঁচড়া পরিবারের সন্তান নই- মেহেদী


# চাষাঢ়ায় কোন দোকান খোলা থাকতে পারবেনা- ওসি শাহজামান


 
নিয়মিত পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা নেয় ছাত্রলীগ নেতাও। তবুও রাতের চাষাঢ়ার ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বিনা পয়সায় নাস্তা খাওয়া শেষে পুলিশ সদস্যরা দোকানগুলো থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা নেয়ার আধঘন্টা পরই অভিযান পরিচালনা করছে। পুলিশ বলছে এসপি স্যারের নির্দেশ; চাষাঢ়া ভ্রাম্যমান কোন দোকান বসবে না। তবে প্রশ্ন উঠেছে এসপির এমন নির্দেশনার পরও পুলিশ কেন দোকানগুলো (ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী) থেকে দৈনিক চাঁদা উত্তোলন করে।


 
চাষাঢ়া জিয়া হলের সামনের নাস্তার দোকানদাররা অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন ২ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করেন তারা। ট্রাফিক বক্স, টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, সদর থানার কিলো ও স্পেশাল ডিউটিতে থাকা পুলিশকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। পুলিশ চাঁদা নেয়, আবার বিনা পয়সায় নাস্তাও করে এমন অভিযোগ তাদের। নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের এক নেতাকেও জানিয়েছেন একাধিক দোকান মালিক।


 
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, চাষাঢ়া জিয়া হলের সামনে প্রতিদিন রাত ১০টার পর ৫টি পরোটার দোকান, চায়ের দোকান ৪টি, ১টি করে চটপটি ও ডিমের দোকান ও ৭টি ফলের দোকান বসে। রাতভর ব্যবসা করে সকাল ৭টার আগে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে চলে যায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন রাতের চাষাঢ়ায় ব্যবসা করতে হলে সবাইকে অর্থ দিতে হয়। ১৮টি দোকানদার প্রত্যেক ৫০ টাকা করে মোট ৯০০ টাকা প্রদান করে চাষাঢ়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সে। পরোটার দোকান থেকে ১০০ টাকা, চায়ের দোকান ৮০ টাকা, ফল, চটপটি ও ডিমের দোকান থেকে ৩০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৯০ টাকা সদর থানার কিলো ডিউটি কিংবা স্পেশাল ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যকে প্রদান করতে হয়। টানবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে আলাদা করে ৩০০ টাকা দিতে হয় দৈনিক।


 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাটকেও নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের ওই নেতা দোকান প্রতি ৩০ টাকা করে আদায় করে থাকেন। মেহেদী অথবা তার নিয়োজিত লোক সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট এক চা দোকান থেকে পুরো সপ্তার টাকা এক সাথে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।


 
এদিকে ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাফিক পুলিশের কোন সদস্য এমন কোন কান্ডের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যদি এ অভিযোগের সত্যতা মিলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট চাঁদা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

 

তিনি জানান, সে কোন ছ্যাঁচড়া পরিবারের সন্তান নন; যে এমন কাজ করবেন। তিনি ব্যবসা করেন এবং মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস স্টোপিজ চাষাঢ়া। দেশের দূরদূরান্ত থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো নিয়মিত চাষাঢ়ায় যাত্রি উঠানামা করে থাকে, যা সারা রাত অব্যাহত থাকে। নগরীর চাষাঢ়া জিয়া হল প্রাঙ্গনের সামনে প্রতিদিন রাত ১০টার পর বেশ কয়েকটি চা-নাস্তার দোকান বসে। যেখানে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা নিজেদের ক্লান্তি ও ক্ষুদা নিবরাণের জন্য দোকানগুলোতে ভীড় জমায়। অপর দিকে চাষাঢ়ায় ছিনতাইকারীদের উপক্রম রয়েছে চোখে পড়ার মতো। নিরব চাষাঢ়ায় জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। সেখানে চায়ের দোকানগুলোর কারণে স্বস্তি পায় মানুষ।

 

   
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেছেন, রাতে চাষাঢ়ায় কোন দোকান খোলা থাকতে পারবেনা। তিনি বলছেন, পুলিশের কোন সদস্য যদি দোকানগুলোতে টাকা উত্তোলন করে থাকে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, দোকান থেকে পুলিশ সদস্য টাকা উত্তোলন করে এমন কোন তথ্য তার জানা নেই। পুলিশকে জনবান্ধন একটি সংস্থা করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ একযোগ কাজ করছে। এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পুলিশের ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন