ক্ষোভে খুন হয়েছিল দেওভোগের এনায়েত
মুহাম্মদ সোহেল ও বাদশা খাঁন
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২১, ০৮:৫৩ পিএম
# চাচা-ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি
# তিনবন্ধু ছিলো জননী গার্মেন্টসের শ্রমিক
ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অর্ধ্বগলিত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ছিলো নৌ পুলিশ। খবর পেয়ে সেই দিনই নিখোঁজ সন্তানকে শনাক্ত করেছিলো মা-বাবা। তবে পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবেই তাকে দাফন করে। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার জানা যায় মরদেহটি তাদের ছেলে পোশাক কারখানার শ্রমিক এনায়েতের। এঘটনায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করে পুলিশ।
পরে ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে এনায়েতকে হত্যা করা হয়েছে বলে জাননো হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব নেয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এ সংস্থার পরির্দশক বাবুল আক্তার তদন্ত করে বের করে করেন নানা অজানা তথ্য। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় দুই ঘাতককে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। র্দীঘ তদন্তের পর আদালতে মামলাটির চার্জশীট দিয়েছে বাবুল আক্তার।
সূত্রে জানা গেছে, নিহত এনায়েত নামের ওই যুবক দেওভোগের আর্দশ নগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিসিকের পঞ্চবটিতে অবস্থিত জননী গার্মেন্টসের মেশিন অপারেট হিসাবে কাজ করতেন। একই কারখানায় কর্মরত ছিলেন মো. ইমরান অরফে ঈমান (২৪) ও মো. ফরিদুল ইসলাম রাসেল (২৬) নামে আরও দুইজন। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। তারা দেওভোগের রঙ্গিলা রোড এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এনায়েত ছিলো তাদের সহকর্মী ও ঘনিষ্ট বন্ধু। প্রতিদিন গার্মেন্টস ছুটির পর তারা এক সাথে আড্ডা দিতো চায়ের দোকানে। তবে এনায়েত স্থানীয় হওয়ায় সে অনেক দাপট দেখাতো তাদের সাথে। মাঝে মধ্যে ঘাড় ধাক্কা ও বকাবাজিও করতো। এছাড়া গার্মেন্টেসের মেয়েদের আসা যাওয়ার পথে তাদেরকে আজেবাজে কথা বলত এনায়েত। তবে তা অপছন্দ করতো না ইমরান ও রাসেল। এ কারণে এনায়েতকে বাজে মন্তব্য করতে নিষেধ করতো। তবে তাদের নিষেধ করা পছন্দ করতো না এনায়েত। এ কারণে সে রাসেল ও ইমরানকে চরথাপ্পড় মারে।
আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল তাদের তিনজনই রাতে ওই পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ওই রাতে এনায়েত একটি মেয়েকে গালিগালাজ করে তখন রাসেল ও ইমরান প্রতিবাদ করায় তাদের মারতে আসে এবং খারাপ আচরন করে এনায়েত। তাই রাতেই তাকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে চাচা রাসেল ও ভাতিজা ইমরান। পরদিন ১ লা মে কারখানা ছুটি তাই সন্ধ্যায় এনায়েতকে ফোন করে চায়ের দোকানে আসতে বলে ইমরান। পরে এনায়েত আসার পর তাকে চা খায়িয়ে ইমরান বলে নদীর পাড়ে ঘুরতে যাবে কিন্ত এমায়েত বলে সে বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে তারপর তাদের সাথে যাবে। তবে এনায়েতকে আসার পথে বাড়িতে মোবাইল রেখে আসতে বলে ইমরান। অতপরঃ ভাত খেয়ে ফিরে আসে এনায়েত। তখন সাথে যুক্ত হয় রাসেলও।
এরপর তিনজন বক্তাবলী ঘাটের পাশ দিয়ে নদীর ধরে হাঁটতে থাকে। কিছুদূরে যাওয়ার পর একটি দো-চালা টিনের ছাপড়া ঘর পেয়ে সেখানে তারা অবস্থান করে। শুরু হয় তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা। এক পর্যায়ে রাসেল পেছন দিক থেকে এনায়েতের হাত চেপে ধরে, তখন ইমরান এনায়েতের গলা চেপে ধরলে সে মাটিতে পড়ে যায়। এপর এনায়েতের গলায় পা দিয়া চেপে ও বুকে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় তকে। পরে লাশটি নদীর পাশে ফেলে পালিয়ে যায় ইমরান ও রাসেল। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর কেরানীগঞ্জ থেকে ইমরান ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ঘটনার এমন বর্নণা দিয়েছে এই দুই ঘাতক।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বলেন, মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে। তবে তারা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইড। এরপর মামলার তদন্ত করে সিআইডির দুইজন কর্মকর্তা। তবে তারাও পুরোপুরি তদন্ত শেষ করতে পারেনি। সব মামলা তদন্ত দায়িত্ব পেয়ে এই হত্যা মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তদন্তে খোঁজ মিলে ঘাতকদের। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার মূল রহস্যা উদ্ঘাটন হয়।


