নাসিক নির্বাচনে আইভীর বিরুদ্ধে আবারও নামানো হচ্ছে হেফাজতকে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২১, ০৯:০৭ পিএম
# এর আগে মসজিদ মাদ্রাসার ভুয়া ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমে নাস্তানাবুদ হয়েছেন
# রাজনৈতিক গুরুর নির্দেশে এবারও মাঠে নামছেন বলে অনেকের বিশ্বাস
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামানো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজতে ইসলামকে। এরই মাঝে মহানগর হেফাজতের নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ফেসবুকে একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, “সকল ইসলামী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাসিক নির্বাচনে ভূমিকা রাখার আহবান জানাচ্ছি।”
মূলত তার এই ঘোষনা মধ্য দিয়েই পরিস্কার হয়েছে আবারও তার রাজনৈতিক গুরু তাকে মাঠে নামাতে চাইছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত অপর হেফাজত নেতা মাওলানা আউয়াল কোনো ঘোষনা দেননি। তবে এই শহরে আউয়াল আর ফেরদাউস দুইজনেরই রাজনৈতিক গুরু একজনই। তাই ফেরদাউসের পর আউয়ালওযে সক্রিয় হবেন এতে তেমন কোনো সন্দেহ নেই কারো মাঝেই। কারন বিগত বছরগুলিতে বার বার আউয়াল আর ফেরদৌসকে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ হেফাজতের এই দুই নেতা মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে মসজিদ, মাদ্রাসার জায়গা দখল করা মিথ্যাচার চালাতে দেখা গেছে। তারা মেয়রের বিরুদ্ধে ডিআইটি মসজিদ, বাগে জান্নাত মসজিদ এবং কবরস্থান মাদ্রাসার জায়গা দখলের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। যা কিনা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসাবে প্রমানীত হয়েছে। মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার পেয়েছে যে মেয়র আইভী কোনো মসজিদ, মাদ্রাসার জায়গা দখল করাতো দূরের কথা উল্টো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় আরো সাতটি মসজিদ এবং একটি মাদ্রাসা নির্মান করেছেন। তিনি আরো মসজিদ নির্মান করছেন। মাসদাইর কবরস্থানে তিনি বিশাল মসজিদ নির্মান করেছেন। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কবরস্থানগুলির ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
এক কথায় কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম ক্ষতি সাধন করাতো দূরের কথা উল্টো তিনি আরো বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মান করেছেন এবং এখনো নির্মান করে চলেছেন। এরই মাঝে তিনি ইসদাইরে মাওলা আলী জামে মসজিদের জন্য মোটা অংকের বরাদ্ধ দিয়েছেন। তাই এসব বিষয় মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর তখন একেবারে চুপসে যান মাওলানা আউয়াল এবং মাওলানা ফেরদাউস। এছাড়া মামলানা ফেরদাউস নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের সিনামন রেস্টুরেন্টে বাগে জান্নাত মসজিদের জায়গা দখল হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে। কিন্তু তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি কোনো প্রমানই দিতে পারেননি কিভাবে বাগে জান্নাত মসজিদের জায়গা দখল হচ্ছে?
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন গোপন সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন এই জায়গা দখল হকে পারে। পরের দিন মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল প্রশ্ন তোলেন এরা কারা? কে এদেরকে মাঠে নামিয়েছে? মসজিদ কমিটিরতো কোনো অভিযোগ নেই। এছাড়া একই সময়ে মাসদাইর কবরস্থান মাদ্রাসার পরিচালক এবং মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক দাবি করেন সাত/আট বছর আগে কবরস্থানের জায়গায় একটি মাদ্রাসা ছিলো। ওই মাদ্রাসা সেখান থেকে তারা নিজেরাই সরিয়ে নেন। এবং অন্যত্র মাদ্রাসা নির্মানের জন্য তারা জায়গা ক্রয় করেছেন। এ বিষয়টি আরো সাত/আট বছর আগেই মিমাংসা হয়ে গেছে। আসলে কবরস্থানে মাদ্রাসার কোনো জায়গা ছিলো না।
মূলত এই দুইজনের বক্তব্যের পর একেবারে পাল্টে যায় চিত্র। প্রমান হয় ফেরদাউস এবং তার সহযোগীরা কোনো কিছুর খোঁজ খবর না নিয়েই তাদের রাজনৈতিক গুরুর নির্দেশে মাঠে নেমে পরেন মেয়র আইভীকে ঘায়েল করার জন্য। অপরদিকে ডিআইটি মসজিদের বিষয়টিও নিয়েও মেয়র আইভী নিজে মাওলানা আবদুল আউয়ালের সঙ্গে কথা বলেন এবং মেয়র আউয়ালের কাছে জানতে চান তিনি কেনো মসজিদের জায়গা দখল করার মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তখন মাওলানা আউয়ালও বলেন তিনি শুনেছেন যে ডিআইটি মসজিদের জায়গা দখল করার চেষ্ঠা চলছে। কিন্তু তার কাছে এই কথার কোনো প্রমান নেই। মেয়রের সঙ্গে মাওলানা আউয়ালের এই কথাপকথনের অডিও রেকর্ড ফেসবুকে প্রকাশ হলে মাওলানা আউয়ালও চুপসে যান।
মূলত এভাবেই রাজনৈতিক গুরুর নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে মারাত্বকভাবে নাজেহাল হন মাওলানা আউয়াল ও মাওলানা ফেরদাউস। সমাজে আলেম হিসাবে তাদের ইমেজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এখন আবার নতুন করে নাসিক নির্বাচনে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন মাওলানা ফেরদাউস। এতে বুঝাই যাচ্ছে আবারও কার ইশারায় তিনি কি বলতে চাইছেন। এবারও তাদের নিশানা যে হবেন মেয়র আইভী এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের কথা তেমন কেউ শুনবে বলে কেউ মনে করেন না। তাই এখন দেখার বিষয়, নাসিক নির্বাচনে তারা কি ভূমিকা রাখেন।


