এক পরিবারেই জিম্মি দেওভোগ গাঙ্গুলী বাড়ি এলাকা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৮ পিএম
নগরীর দেওভোগ শেষ মাথা (গাঙ্গুলী বাড়ী) এলাকার কথিত প্রভাবশালী একটি পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। ব্যবসা জবর দখল, অবৈধ মাদক ব্যবসা, সরকারি খাস জমি দখল করে বাসস্থান নির্মাণসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের একাধিক অভিযোগ রয়েছে পরিবারটির বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মরহুম রহমত উল্লাহ মাষ্টার ছেলে ও তাদের সন্তানদের অপকর্ম দিনের দিন বেড়ই চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৃত শহীদুল্লা’র ছেলে মাসুম ও রেফায়েত উল্লাহ পূর্ব থেকেই এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। ২০১৮ সালে নিজ বাড়ী থেকে ৭০ বোতল ফেন্সিডিলসহ রেফায়েত উল্লাহকে ফতুল্লা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া ২০১৩ ও ২০১৫ সালে রেফায়েত উল্লাহসহ তার ভাই মাসুমের বিরুদ্ধে মারামারি, চুরি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরো ২টি মামলা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে। এদিকে একই পরিবারের আরেক সদস্য নাছির উল্লাহ বাবুল। নাছির উল্লাহ বাবুলের ছেলে ইবাদত উল্লাহ নিশু দেওভোগ গাঙ্গুলী বাড়ী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বেশ কয়েক বছর আগে নিশুকে ফতুল্লা পুলিশ অবৈধ মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল।
ফতুল্লা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে ২০১৭ সালে নগরীর চাষাড়া এলাকা থেকে ৩৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এবাদত উল্লাহ নিশু, সিফাত মিয়া ও মো. মামুন শেখ নামের তিন যুবকে এবং একই বছর ফতুল্লা পঞ্চবটি এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নিশু ও মো. সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছিল ফতুল্লা পুলিশ। ইবাদতল উল্লাহ নিশু গাঙ্গুলী বাড়ী এলাকায় নাবিলা ক্যাবলস নেটওয়ার্কস নামের একটি ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে পুনরায় এলাকায় মাদক সরবরাহ শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে নিশো, যা পরবর্তীতে স্থানীয় কিশোর গ্যাংদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় দেওভোগসহ সমগ্র নারায়ণগঞ্জে।
এদিকে নিশুর আরেক চাচা কথিত মসজিদ কমিটির সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ খোকন। পঞ্চায়েত কিমিটর সভাপতি হলেও ইদানিং সে নিজেকে বৃহত্তর মসজিদ কিমিটর সভাপতি দাবি করছেন। হেদায়েত উল্লাহ খোকন পঞ্চায়েত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বিচার শালিশ করে থাকেন এমন অভিযোগ এলাকাবাসী। স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, খোকনের নিজ বাড়ীর নিচ তলায় রয়েছে একটি জুয়ার আসর। অভিযোগ রয়েছে ওই জুয়ার আসরে স্থানীয় ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের লোকজন নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। হেদায়েত উল্লাহ খোকনের বিরুদ্ধে চুরি ও মারামারির মামলা রয়েছে ফতুল্লা মডেল থানায়।
এ বিষয়ে খোকন যুগের চিন্তাকে জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল মামলা রয়েছে তা এসপি অফিসে বসে মিট করা হয়েছে। পুলিশ বলছে মামলা হলে সেটার মিমাংসা করবে আদালত। এসপি অফিসে কোন মামলা মিমাংসা করা হয়না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই পরিবারটির বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তাদের সকলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, ইন্টারনেট, ডিস ও ইট-বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রনও তদের কাছে। বেশ কয়েক বছর আগে রেফায়েত উল্লাহ প্রভাব খাটিয়ে আপন মামা শশুরের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ডিস ব্যবসার কিছু অংশ দখল করে নেয়।
পরিবারটির পিছনে এক অদৃশ্য শক্তি রয়েছে। যার কারণে তারা শত অপকর্ম করেও এলাকা ঘুরে বেড়ায়। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে হেদায়েত উল্লাহ খোকনের ছেলে সৈকত কাউন্সিল পদপ্রার্থী। এমনিতেই তাদের প্রভাবে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে, তার মধ্যে সৈকত যদি হয় কাউন্সিলর তাহলে দেওভোগ এলাকায় গজব নেমে আসবে।


