Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

চাঁদায় সচল নিষিদ্ধ অটো

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৫ পিএম

চাঁদায় সচল নিষিদ্ধ অটো
Swapno


# শহরের ১২ স্পট থেকে মাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৩ কোটি টাকা

 

নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটো ইজিবাইক, অটো রিকশা থেকে শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরের ১২টি স্পটে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। যা মাসে দাঁড়ায় ৩ কোটি টাকা। প্রশাসেনর পুলিশ, ক্ষমতাসিন দলের নেতা কর্মীসহ পেশাদার চাঁদাবাজদের আসকারায় এই অর্থ তোলা হয়। নিষিদ্ধ এই যানবাহনে সয়লাব হয়ে পড়েছে শহরের রাস্তা-ঘাটসহ অলি-গলি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এসকল যানবাহন বন্ধ করার কোন উদ্যোগ নেই। বরং যতই দিন যাচ্ছে হরহামেশা বেড়েই চলছে। আর এজন্য নগরবাসীকে দুর্ঘটনা, যানজট সহ বিভিন্ন ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বড় রকমের চাঁদাবাজির ঘটনা।

 

যুগের চিন্তার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকার তথ্য।  নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় ১২ স্পটে থেকে  কয়েক হাজার অটো রিকশা, অটো ইজিবাইক, সিএনজি যানবাহনের স্ট্যাণ্ড থেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র এই চাঁদা  তোলেন। যে যেভাবেই পারছেন সেভাবেই হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যাটাি চালিত অবৈধ যানের চাঁদার টাকা।


অনুসনন্ধানে জানা যায়, শহরের সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় চাষাঢ়া গোল চত্বর থেকে। এই মোড়েই রয়েছে ৬ টি অবৈধ স্ট্যান্ড। চাষাঢ়া মোড় সোনালী ব্যাংক শাখা, সুগন্ধ্যা বেকারি, শান্তনা মাকের্ট, রাইফেল ক্লাবের মোড়, সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এবং কলেজ রোডের সামনে থেকে চাঁদা তোলেন নুরু মিয়া ও তার ছেলে সুজন হোসেন। 

 

প্রভাবশালী এমপির অনুগত ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আশ্রয়ে তারা এখান থেকে চাঁদা তোলে। জানা যায় এই চাঁদার সিংহভাগই চলে যায় প্রভাবশালী পরিবারের অনুগত নেতাদের হাতে। এসব মোড়ের প্রায় হাজার খানেক যানবাহন থেকে দৈনিক কমপক্ষে ২ লাখ টাকা চাদাঁ উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই একটি স্পট থেকেই  মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আসে। জেলার শহরে প্রবেশ করতে হলে চাষাঢ়ার এই কয়েকটি স্ট্যান্ড হয়ে চলাচল করতে হয়। প্রভাবশালী নেতাদের শেল্টারে এখানে ১০ জনের একটি চক্র চাঁদা তোলেন। যা নিয়ে পরিবহন চালকরাও বিপাকে আছেন। এজন্য যাত্রীদেরকেও ভাড়া গুণতে হচ্ছে বেশী।


অন্যদিকে পঞ্চবটি স্ট্যান্ড থেকে হুমায়নসহ ৫ জনের একটি চক্র দৈনিক প্রায় লাখ খানেক টাকা তুলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই স্ট্যান্ড শহরের বিসিকের সাথে একটি জনবহুল স্ট্যান্ড। এখানে প্রায় ৫শ’ থেকে ৭ শ’ যানচলাচল করে। এই স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তি ১ লাখ টাকার উপরে চাঁদা তোলেন। যার ভাগ বিভিন্ন নেতা ও জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে থানা পুলিশরাও পান বলে চালকরা জানান। এই স্ট্যান্ড থেকে মাসে ৩০ লাখ টাকা চাদা আদায় করে ক্ষমতাসিন দলের জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায়।


শহরের ব্যস্ততম খানপুর মোড়ে পুলিশের নামে চাঁদা তুলে অটো ইজিবাইক চালকদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় বলে জানা যায়। এই টাকা তুলে ওই খানপুর বা মেট্রো হল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ পরিবহন চালকদের ডেকে নিয়ে ড্রাইভারদের থেকে টাকা নিয়ে তাদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়। এখানেও প্রতিদিন প্রায় ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয় বলে জানা গেছে। যা গড়ে হাজার খানেক চালকদের থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরে বেশির ভাগ জায়গায় মোটা অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে অবৈধ এ যান চলাচলের মৌখিক বৈধতা দিচ্ছে পুলিশই।


নগরীর জিমখানা সিএনজি স্ট্যান্ড বিএনপির হাসান নামের এক নেতা নাসিক থেকে টেন্ডার নিলেও এখানে ৫ জনের একটি চক্র অবৈধভাবে অটো রিকশা, অটো ইজিবাইক চালকদের থেকে লাবলু, আকাশ নামের ব্যক্তি দৈনিক পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলেন। এখানে প্রায় ৫শ অবৈধ ইজিবাইক চলাচল করে। তাদের থেকে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ১৫০ টাকা নেয় একটি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গোষ্ঠি। যার ভাগ বিএনপি নেতা হাসান পান বলে জানান কয়েক চালক। এখানে মাসে চাঁদা উঠে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।


শহরের নগর ভবনের পাশেই নিতাইগঞ্জ স্ট্যান্ড প্রায় ২০০ অটো চালকদের থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও গাড়ি প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে শরীফ নামের এক চাদাঁবাজকে দিতে হয়। তিনি নাসিক ১৮ নম্বরের সাবেক কাউন্সিলর মুন্না এবং বর্তমান কাউন্সিলর কবিরকে ম্যানেজ করে এই স্ট্যান্ড পরিচালনা করেন। মাসে এখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা তুলেন বলেন জানান একাধিক ব্যক্তি। এছাড়া নগরীর গলাচিপা থেকে টিটু নামের লাইনম্যান অটো স্ট্যান্ড থেকে টাকা নেন। তিনিও এক জনপ্রতিনিধির শেল্টারে টাকা তুলেন বলে জানান চালকরা। তার পিছনে কয়েকজন প্রভাবশালীর ছায়া রয়েছে। 


শহরের একদিকে চাঁদা তোলার হিড়িক পড়েছে আরেক দিকে নগরবাসীর ভোগান্তি বেরেছে। সেই সাথে যানজটের কারণে পুরো শহর এক হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের তেমন উদ্যোগ না থাকায় নগরবাসী কোন স্বস্তি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন আগে মেয়র আইভী এক অনুষ্ঠানে বলেন, শহরে হঠাৎ করে যানজট বেরে যায়। এটা কেন হয় আমার বুঝে আসে না। আমাদের পুলিশ প্রশাসন কি দায়িত্ব পালন করে তারা নিজেরাই ভালো বলতে পারেন। নির্বাচন আসলেই শহরে এমন হ-য-ব-র-ল তৈরী হয়। যা গতবারও তৈরী হয়েছিল।


এখন নগরবাসী ও  সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, এতটুকু ছোট শহর থেকে যদি মাসে কয়েক কোটি টাকা টাকা চাঁদা তোলা হয় তাহলে চালকরা কই যাবে। যত্রতত্র স্ট্যান্ড থাকায় শহরের মানুষকে যানজটে পরতে হচ্ছে। এই ভোগান্তির কোন শেষ  কোথায়। নগরবাসী  কবে এসব থেকে পরিত্রাণ পাবে তা কেউ জানেনা।


জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘শহরে কোন বৈধ স্ট্যান্ড নেই। কেউ যদি চাঁদা তুলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিবো। আমাদের কাছে এবিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ নেই।’      
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন