নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বল্পমূল্যে কিডনি ডায়ালাইসিস এর উদ্বোধন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, মাতৃভূমির টানে এবং দেশপ্রেমের তাগিদে প্রবাসে সুন্দর জীবন রেখে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় দেওভোগের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বল্পমূল্যে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ১৪-১৫ বছর প্রবাসে কাটিয়েছি। শিক্ষাজীবন ও সাংসারিক জীবন প্রবাসে কাটিয়েছি। প্রবাসে থাকলে দেশের জন্য বুক ফেটে কষ্ট লাগে। সেই দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির টানে সোভিয়েত, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ডের সুন্দর জীবন রেখে এসে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। অনেকেই জানতে চায়, আমি কীভাবে মানিয়ে নেই। আমি তাদের বলি, আমার মাটি, আমি মাটির গন্ধ পাই, গাছের গন্ধ পাই। আমি হেঁটে গেলে হিজলের গন্ধ পাই, কাশফুল দেখতে পাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দেশ এই সোনার বাংলাদেশ। সকল প্রবাসীর দেশপ্রেম একইরকম, সে একজন শ্রমিক হোক কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার।’
আইভী আরো বলেন, অনেকে উন্নয়ন বলতে রাস্তাঘাট, ড্রেন, ব্রিজ বোঝেন। কিন্তু পরিবেশ ঠিক রাখতে বাবুরাইল খাল থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জে অনেক পুকুর খনন করে দিয়েছি, খেলার মাঠ করেছি। যান্ত্রিক নারায়ণগঞ্জ, কলকারখানার নারায়ণগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শেখ রাসেল পার্ক করেছি। এসব খাল, পার্ক, মাঠ মানুষের কল্যাণে করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডেই পার্ক, মাঠ, পুকুরের কাজ করছি।
এ ছাড়াও মেয়র বলেন, অনেকে কেবল সমালোচনা করার জন্যই সমালোচনা করে। তারা বলে, স্বাস্থ্যসেবায় আইভী কিছুই করে নাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন করোনার সময় কোথায় ছিল বলে প্রশ্ন তোলে। আরে করোনার সময় তো মানুষের পাশে আমরাই ছিলাম, আপনারা তো ঘর বন্ধ করে রেখেছিলেন। গিটারিস্ট হিরোর লাশ রাস্তার উপর পড়ে ছিল। একজন মানুষও বের হন নাই। এমনকি তার মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদেছেন ও স্ত্রীও জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কে এসেছে যখন ৬-৭ ঘন্টা লাশ পড়ে ছিল? নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনই সেই লাশের গোসল থেকে দাফনের ব্যবস্থা করেছিল। তখন মন্ডলপাড়া মসজিদ থেকে পানিও দিতে চায়নি। পরে পাইকপাড়া কবরস্থানে পানির ব্যবস্থা ছিল, সেখানে পাঠিয়েছি। ছোঁয়াচে ভাবনা থেকে মানুষ আতঙ্কে ছিল। এই আতঙ্ক কাটাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন দিন-রাত কাজ করেছে। মৃত মানুষের কাছ করোনা ছড়ায় না, উল্লেখ করে আমরা প্রথম লিফলেট বিতরণ করেছি। স্বজনদের সাথে কথা বলেছি। অনেক বাড়িতে বাড়িতে কাউন্সিলরদের ফল, খাবার, চাল, ওষুধ কিনে পাঠিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চাল-ডাল-টাকা মানুষের মাঝে বিতরণ করতে গিয়ে আমার অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আমার চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও আমরা কাজ করেছি। এই কাজের ক্রেডিট আমার সকল কাউন্সিলর ও জনগণের। আমরা কবরস্থানে যেমন দাফনের ব্যবস্থা করেছি, তেমনি শ্মশানে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিয়ে চব্বিশ ঘন্টা শ্মশান খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছি। কোনো ধর্মের মধ্যে বিভেদ রাখিনি।
বাংলাদেশী প্রবাসীদের অনুদানে পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়াহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক সচিব হোসনে আরা বেগম, মহাসচিব সাজ্জাদ রাশেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন, প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ, সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের পণ্যদূত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এসআই টুটুল, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, নারী বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী প্রমুখ।


