নারীরা জন্মগতভাবেই যোদ্ধা : মেয়র আইভী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘করোনায় সবক্ষেত্রেই নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক, মানসিক, শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। তবে নারীরা অত্যন্ত শক্তিশালী। এই কারণে করোনায় নারীদের মৃত্যুহার কম। কারণ নারীরা জন্মগতভাবেই যোদ্ধা। তাকে বাবার বাড়িতে যুদ্ধ করতে হয়, শ্বশুরবাড়িতেও তাই। তাকে সাহস নিয়েই এগোতে হয়।’
গতকাল শনিবার রাতে নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ‘নারীদের উপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন। লায়ন্স ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ পার্পল নামে সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইভী বলেন, ‘বাচ্চা, স্বামীর পাশাপাশি নিজের শরীরের প্রতিও নজর দিতে হবে। মনোবল চাঙা রেখে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন। নারী তার নিজের শক্তিতে শক্তিশালী হোক। সে নিজেই শক্তিশালী, নিজেই যোদ্ধা।’ কোভিডকালীন সময়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সকল বিভাগে অনেক কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।
সিটি মেয়র বলেন, ‘করোনায় সারাবিশ্বই বিপর্যপ্ত হয়ে পড়েছে। করোনায় অনেকেই শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। করোনার সময় আমরা অনেক কাজ করেছি। তার মধ্যে প্রধান কাজ ছিল দাফন-সৎকারের কাজ। কেননা করোনা আক্রান্ত কেউ মারা যাওয়ার পর তাকে দাফনের জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। তার স্বজনরাও কাছে আসতো না। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় এই কাজটি আমরা করেছি। ডাক্তারদের নিয়ে টেলিমেডিসিন ব্যবস্থা চালু করেছি। কীভাবে মানুষের সেবা দিতে পারি সেই চিন্তা করেছি। আমার ডাক্তাররা যাদের পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের সাথে আমি নিজে কথা বলে পরামর্শ দিয়ে নিভৃত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের সহযোগিতা করা উচিত তাদের অনেকেই সেই সময় সহযোগিতা করেনি। আমরা কিন্তু এই কাজের জন্য দায়ী না। অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে সিভিল সার্জন কার্যালয়কে সহযোগিতা করতে আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়েছি, চব্বিশ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেছি, কাউন্সিলিং এর কাজ করেছি। সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোল বুথে ২৪ ঘন্টা ডাক্তাররা টেলিফোনে সেবা দিয়েছে। প্রতিটি কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেছে।’
এক বক্তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিটি মেয়র বলেন, ‘নারীদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে থাকতে চাই। বেশি আশা করি না। এই শহরের মানুষকে শান্তি দিতে চাই। মানুষকে ভালোবেসে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। মানুষের হাত ধরে মানুষের কল্যাণে দাঁড়াতে চাই।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. নূর-ই-নাজমা লিমা, ডা. শাহনাজ কাজি, লায়ন্স ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জের গভর্নর জালাল আহমেদ, সাবেক গভর্নর কামরুন্নাহার, প্রথম ভাইস গর্ভনর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল ওয়াহাব, দ্বিতীয় ভাইস গভর্নর বশির উল্লাহ।


