Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

জনগণের নেত্রী আইভীর নন্দিত পথচলা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৫ পিএম

জনগণের নেত্রী আইভীর নন্দিত পথচলা
Swapno

# শান্তিপ্রিয় অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জ গড়তে আইভীর বিকল্প নেই


# আইভীর হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর



‘দুনির্বার পথ চলায় পিছু হটুক সকল ভয়, সাহসী পদক্ষেপ নিক ছিনিয়ে অনন্ত জয়’ একথাটিকে যেন নন্দিত পথচলায় বারবার প্রমাণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সুদূর নিউজিল্যান্ডের আরামআয়েশ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় দেশে ছুটে এসেছিলেন জনগণের নেতা  আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ে ডা. আইভী। তখন  সন্ত্রাস আর জুজুর ভয়ে তটস্ত নারায়ণগঞ্জের মানুষ।

 

তবে ভয়ে  পিছু হটেননি জন্ম থেকে আওয়ামী লীগের রক্ত ধমনীতে বয়ে চলা মেয়র আইভী। সাধারণ মানুষকে বারবার রুখে দিয়েছেন অশুভ শক্তিকে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিলনা এই শহরের বাঘা বাঘা নেতারা যখন রাতের আধারে পালিয়ে গিয়েছিল তখন তৃণমূল আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তখন পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সারা দেশকে। দলের দুর্দিনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে ছিলেন সবসময়। পৌরসভার দায়িত্ব নেয়া অবস্থাতেই শহরের মানুষের মন জয় করে ফেলেছিলেন। পিতার মতো তিনিও সবসময় ছিলেন অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে।

 

২০১১ সালে সিটি করপোরেশন গঠনের পর সাধারণ মানুষের মনের ভেতর থেকে গণদাবি ছিল যাতে ডা. আইভীকেই জনগণের খেদমতের দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে একটি পক্ষ ভুল বুঝিয়ে সেই যাত্রা রুখে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে বাঁছাই করতে ভুলেননি। ভয় দেখিয়ে মানুষকে তটস্ত রাখার চেষ্টায় ওস্তাদ সেই হেভীওয়েট নেতাকে  এক লাখের চেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে হেঁচকা টানে আকাশ থেকে মাটিতে নিয়ে আসেন জনগণের এই নেত্রী। নারায়ণগঞ্জের মানুষকেও শেখালেন কিভাবে ভয়কে জয় করতে হয়। কিন্তু এই জয়ের পথ কখনোই অতোটা সহজ ছিলনা। প্রতি পদে পদে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে হয়েছে ষড়যন্ত্র, দেয়া হয়েছে হুমকি-ধমকি। এমনকি পরিবারের উপরও আক্রমন হয়েছে। ২০১৩ সালে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর বিনয়ী আইভী অগ্নিরূপ যেন দেখলো পুরো নারায়ণগঞ্জ। শুধু ত্বকী নয়, আশিক, বুলু, চঞ্চল হত্যার বিচারের দাবিতে অবিচল মেয়র আইভী। এই নীতি আর আদর্শের বার্তা যেন দেশ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ল। শান্ত-শিষ্ট আইভী হয়ে উঠলেন এক প্রতিবাদের নাম। নারায়ণগঞ্জের মানুষকে মেয়র আইভী শেখালেন কীভাবে জুজুর ভয় অতিক্রম করতে হয়।

 


সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে একটি মহলের ঘোরতম শত্রুতে পরিণত হয় মেয়র আইভী। তাদের কাছে আইভী মানেই যেন এক আতঙ্কের নাম। আইভীও নাছোড় বান্দা, তিনি ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসের সাথে কোন আপোষ নয়। তাকে বাগে আনতে না পেরে  মেয়রের চেয়ার থেকে কী করে সরানো যায় তার  অপকৌশল আঁটতে থাকে সেই প্রভাবশালী মহলটি। তবে জনগণ ছিলো পাশে। আর জনগণের ভালোবাসা দেখেই শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও  ২০১৬ সালে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপরই আস্থা রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়। মেয়র আইভী আবারো প্রমাণ করলেন তিনি কেন সেরা। কুচক্রী মহল তখন মুখে কুলুপ এটে পিছটান নিলো। তবে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য।

 

২০১৮ সালে মেয়র আইভী যখন নগরবাসীর স্বার্থে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে চাইলেন। বাধ সাধলো সেই কুচক্রী মহল। হকার বেশে ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি তাকে মেরে ফেলার চক্রান্তে হামলা করা হলো। আহত হলেন, কিন্তু নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলেননা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে রাজপথে কীভাবে সরকারদলীয় মেয়র আহত অবস্থায় পড়ে থাকে সেই ন্যাক্কারজনক দৃশ্যও যেমন মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে তেমনি মানবঢাল তৈরি করে স্বাক্ষাৎ মৃত্যু থেকে প্রিয় নেত্রীকে কীভাবে ঘিরে থাকে সেই শক্তির জানানও প্রত্যক্ষ করেছে এদেশের মানুষ।

 


তবে এরপরেও ষড়যন্ত্র থামেনি। আইভীকে ঠেকাতে কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা চলেছে এরপরেও। আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বছরখানেক ধরে নানা ইস্যুতে নগরের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হেফাজতকে মাঠে নামানো হয়েছে, আবার কখনো সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের ক্ষেপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছে। অসাম্প্রদায়িক আইভী সবার প্রিয়, সবার পছন্দেরই রয়েছেন।

 

 

শহরে, দেশে, দেশের বাইরে যেখানেই আইভীকে নেতিবাচক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে কুচক্রী মহল, কল্পিত সব অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করছে তবে সবজায়গাতেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের ভালোবাসা আর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থায় বারবার মেয়র হিসেবে আইভীই নগরবাসীকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। উন্নয়নে বদলে দিয়েছেন পুরো নারায়ণগঞ্জ নগরীকে। শুধু উন্নয়নই মুখ্য নয়, সবুজায়ন আর বসবাসযোগ্য নগরী তৈরি করতে সর্বদাই সচেষ্ট ছিলেন মেয়র আইভী। জনগণের নেত্রী আইভীর নন্দিত পথচলা আরো দীর্ঘজীবী হোক এমন প্রত্যাশা এই নগরীর  প্রতিটি মানুষের।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন