Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

মেয়র আইভীর প্রতিবাদ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৪ পিএম

মেয়র আইভীর প্রতিবাদ
Swapno

একটি জাতীয় পত্রিকায় “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভীর অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দুদকে অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিকে তীব নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোশেরেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি মেয়র আইভী এক প্রতিবাদলিপিতে বলেন, এই ভিত্তিহীন ও অসত্য সংবাদ প্রচারের মধ্য দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গর্হিত কাজ। সংবাদটি তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মানসিকতা নিয়ে উদ্দেশ্য প্রনােদিতভাবে কোনরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়া মনগড়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

 


মেয়র আইভী বলেন, প্রকাশিত ওই সংবাদের তথ্যে আয়কর বিবরণীতে আইভী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১২ শতাংশ জমি দেখাননি মর্মে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা অসত্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১২ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি দলিল করে মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। সংবাদে বাড়ি নির্মাণ, নিম্নস্বাক্ষরকারীর ভাই কর্তৃক জমি দখল ও ভাঙচুর, পাঠাগারসহ টেন্ডারের বিষয়ে যে সকল অভিযােগ করা হয়েছে, তা অসত্য তথ্য উপাত্ত সম্বলিত সারগর্ভহীন প্রচারণা। মেয়র ও তার পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রি মহলের ইন্দনে অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙ্গচুরের অভিযােগ সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।

 

মেয়র আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা এবং ২০১১ ও ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারি বিধি-বিধান প্রতিপালন পূর্বক টেন্ডার আহ্বানসহ কর্পোরেশন পরিচালনা করে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী কোন জলাশয় ভরাট করা যাবে না। এই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর ১৩তম সভায় মেয়র আইভীর প্রস্তাব অনুযায়ী লেক ভরাট না করে পূণরায় নকশা প্রনয়ন করার জন্য সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার মডেল মসজিদ নির্মাণে মসজিদ কমিটির সাথে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ আলােচনা সাপেক্ষে গত ২০/০২/২০২০খ্রি. তারিখে মসজিদ কমিটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তিতে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনাপত্তি পত্র প্রদান করে। তৎপ্রেক্ষিতে সরকারের সকল বিধি-বিধান প্রতিপালন পূর্বক ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তথাপি একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ করতে মামলা দায়ের করে। প্রকৃত অর্থে বর্ণিত সংবাদে ৫৩৯ বছরের পুরাতন মোঘল আমলের মসজিদ ও ওয়াকফ করা ৩০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার বক্তব্য সম্পূর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিত। মডেল মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তি সম্পর্কে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। ধর্মপ্রাণ স্থানীয় মুসলিম জনসাধারনের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে মডেল মসজিদ বিষয়ে জড়িত করে মিথ্যা বক্তব্যে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোঘল আমলের মসজিদসহ ওয়াকফকৃত সম্পত্তি অদ্যবধি বহাল তবিয়তে মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে আছে। মেয়র ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অসত্য তথ্য প্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

 

মেয়র আইভী বলেন, নগরীর দেওভােগ এলাকার প্রাইভেট দেবােত্তর সম্পত্তিটি ১৯৩৫ সাল হতে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭.৫ একর ভূমি কম-বেশি ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট সাব-কবলা দলিল মূলে বিক্রয় করে এবং উক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়কৃত প্রাইভেট দেবােত্তর সম্পত্তিতে বাড়ি-ঘর স্থাপনা নির্মান করে অদ্যবধি বিনা বাধায় ভোগ দখলে আছেন। তন্মধ্যে মেয়র আইভীর নানা একজন সাধারণ ক্রেতা। কিন্তু অন্য সকল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে মন্দির কমিটি আজ পর্যন্ত বিক্রিত প্রাইভেট দেবোত্তর সম্পত্তির দাবী করেনি।

 

এছাড়া মেয়র আইভী বলেন, শেখ রাসেল পার্কের নামকরণের বিষয়ে মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমােরেয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক অনুমোদিত নামকরণ “শেখ রাসেল পার্ক”। জলাধার সংরক্ষন আইন-২০০০, ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বর্ণিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। রহতুল্লাহ ইন্সটিটিউট প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, ১৯৪২ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা রহমত উল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউটকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভূমি অস্থায়ী লীজ প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ১৯৮৫ সালে ডি.আই.টি কর্তৃক ‘অলটারনেটিভ প্লট’ হিসেবে পুরাতন ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে ২৪ শতাংশ ভূমি বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

 

গত ১১/০২/২০০৮খ্রি. তারিখে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট এর কার্যকরী পরিষদের সভায় পুরাতন ভবনটি ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এহেন ভিত্তিহীন ও অসত্য সংবাদ প্রচারের মধ্য দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গর্হিত কাজ। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্তি ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন