তল্লার আজমেরীবাগে মসজিদের দানের টাকা লুট
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তল্লার আজমেরীবাগ এলাকায় অবস্থিত বাইতুল নূর জামে মসজিদের মসজিদের দানের টাকা লুট করার অভিযোগে ফতুল্লা থানায় একটি জিডি হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি। জড়িতরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) আছরের নামাজের পরে মসজিদের সামনে কথা হয় বায়তুল নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনের সাথে। তিনি বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় মসজিদে মুসল্লিরা যে টাকা দান করেছেন সে টাকা তার গুনছিলেন। ৯ হাজার ৫০২ টাকা দান করেছিলেন মুসল্লিরা। গোনা শেষ হওয়া মাত্র মসজিদের ভেতর থেকে মসজিদের আগের কমিটির কোষাধক্ষ রোকন কাজী তার সহযোগি তারেক, কমল, মাসুদ কাজী, আবু খান, মান্নান মাষ্টার, মুরাদসহ লোকজন নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় এই দানের টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এসময় আব্দুল বাতেনের ডাক চিৎকারে মসজিদের কোষাধক্ষ আ ফ ম আব্দুল আউয়াল, দপ্তর সম্পাদক আনিস খান, ধর্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও মসজিদের খাদেমরা এগিয়ে আসলে টাকা ছিনতাইকারিরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।এবং মসজিদের ক্যাশে রক্ষিত সাড়ে চার লাখ টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতে থাকে। তাদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের হুমকির কারনে সাধারন মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সন্ত্রাসীরা টাকা নিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।
মসজিদ কমিটির কোষাধক্ষ আ ফ ম আউয়াল বলেন, রোকন কাজী আগে কমিটিতে ছিলো। কিন্তু তারা কমিটিতে থাকতে মসজিদের কোনো উন্নতি হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কথাও বলা যেতোনা। তারা প্রতি জুম্মায় কিছু মাস্তান এনে মসজিদে বসিয়ে রাখতো। যাতে কেউ মসজিদের কোনো সমস্যার ব্যাপারে কথা না বলতে পারে। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরে মসজিদের ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মসজিদ পাকা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সাবেক কমিটির কোষাধক্ষ মাস্তান বাহিনী নিয়ে এসে প্রায়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আর সর্বশেষ সে মসজিদের টাকা লুটের ঘটনা ঘটালো।
তাদের সাথে কথা বলতে বলতে মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সাধারন মুসল্লি ও এলাকাবাসি। নুরুল ইসলাম নামের একজন মুসল্লি বলেন, এলাকায় এ মসজিদ টিনের মসজিদ নামে পরিচিত। অথচ এ এলাকায় ধনী মানুষের অভাব নেই। বর্তমান কমিটি আসার পর এলাকার দানশীল ব্যাক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে মসজিদের উন্নতির পরিকল্পনা করেছে। তখন মসজিদের দানের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার মতো ঘটনা ন্যাক্কার জনক। আরেক মুসল্লি তৌফিক আলি বলেন, মসজিদের দানের টাকা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে ? যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অমানুষ। প্রশাসন কেন এখনো এ ধরনের অমানুষদের, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করছে না বুঝতে পারছিনা।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বিকার করে রোকন কাজী বলেন, ‘টাকা ছিনিয়ে নেইনি। মসজিদের কাজ করার জন্যই নিয়েছি। পরে আজ সকালে ফেরৎ দিতে চেয়েছি। কিন্তু তারা ফেরৎ নেয়নি।’ টাকা কি স্বেচ্ছায় আপনাকে দিয়েছে ? এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানার ওসি রকিবুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটির ব্যাপারে একটি অভিযোগ এসেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


