নগর ভবনের সামনে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ পিএম
# নগর ভবন এলাকা থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদের দাবি দীর্ঘদিনের
# এসব স্ট্যান্ডের জন্য পুরো শহরে যানজট তৈরি হয়- অসিত বরণ
# এমন কোনো আদেশ আমাদের কাছে আসেনি- ডিসি
জনগুরুত্বপূর্ণ নগরভবনের সামনে থেকে অবৈধ ট্র্যাকস্ট্রান্ড সরানোর দাবি নতুন নয়। এ নিয়ে জলও কম ঘোলা হয়নি। মাঝেসাঝে কিছুদিনের জন্য নগরভবনের সামনে থেকে ট্র্যাকস্ট্যান্ডটি সরানো গেলেও কোন এক অদৃশ্য ঈশারায় তা আবার পুনর্বহাল হয়েছে। সেখান থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমপি সেলিম ওসমানও।
ব্যাবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় সভার পরেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনিও। এসপি হারুন অর রশিদের সময়কালীন কিছুদিনের জন্য এ অবৈধ স্ট্যান্ডটি সরানো হয়েছিলো। কিন্তু এখন আবার আগের অবস্থাই। অবশেষে নগর ভবনের সামনে থেকে ট্রাকের স্ট্যান্ডসহ সব ধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের স্থায়ী আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মূলত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নগর ভবন) এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে নাসিকের করা একটি রিট পিটিশনের পর, উক্ত এলাকায় কোনো ট্রাকের স্ট্যান্ড অথবা অবৈধ স্থাপনা না রাখার এই আদেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট।
গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একে.এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপারকে এই আদেশ দেন। তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রাশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের কাছে হাইকোর্ট থেকে এখনো এমন কোনো আদেশ আসেনি। আসলে তিনি দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা নিতাইগঞ্জ থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ট্রাকের স্ট্যান্ড তৈরি করে রাখায়, রাস্তাটিতে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। এদিকে, শহরের ১৫০ শয্যা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় এখানেই অবস্থিত। তাই এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় অবৈধ ট্রাকের স্ট্যান্ডের জন্য হাসপাতালের রোগী সহ অসংখ্য মানুষকে ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে।
তাই নগরবাসীর ভোগান্তীর কথা চিন্তা করে নগর ভবনসহ আশপাশের এলাকা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৬ সালে একটি রিট পিটিশনটি করেছিলেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের আদেশ দেন। কিন্তু দেখা যায় এই আদেশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার নিতাইগঞ্জ ও মণ্ডলপাড়া এলাকার ট্রাকের স্ট্যান্ডগুলো উচ্ছেদ করা হলেও, এরপর আবার অদৃশ্য শক্তির বলে সেখানে ট্রাকের স্ট্যান্ড গড়ে উঠে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান নিজেও একবার সিটি করপোরেশনের একটি সভায় ট্রাকের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের বিষয়ে বলেছিলেন। কিন্ত দেখা যায়, এমপি ও মাহামান্য হাইকোর্টের আদেশ এক্ষেত্রে বরাবরই অমান্য করা হয়েছে। তাছাড়া, এসব অবৈধ স্ট্যান্ডকে ঘিরে শহরের একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের লোকজন বছরে কোটি টাকার চাঁদা আদায় করে বলেও জানা গেছে।
নিতাইগঞ্জ মোড়ে সেলিম শ্যামল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, যানজটের জন্য নিতাইগঞ্জের রাস্তায় রিক্সা বা অন্য গাড়ি দিয়ে আমাদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। আর এর প্রধান কারণ এই ট্রাক স্ট্যান্ড। এসপি হারুন সাহেব থাকতে এখানে একবার উচ্ছেদ হয়েছিলো। তখন আমরা কিছুদিন ভালো ভাবেই রাস্তায় চলাচল করেছি। কিন্তু এখন আবার আগের মতো অবস্থা। আসলে এই স্ট্যান্ডগুলোতে অনেক টাকার চাঁদাবাজি হয়। কোনো ভাবেই এটি উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, নিতাইগঞ্জ এবং এর আশপাশের এলাকায় ট্রাকের অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে পুরো নগরজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের ভোগান্তী মাঝেমধ্যে অনেক বেড়ে যায়। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিদেশ থেকে বড় বড় সংস্থার প্রতিনিধিরা আসেন। তখন নগর ভবনের সামনে তারাও এসব ট্রাকের স্ট্যান্ড দেখতে পায়। এতে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কাছে আমরা ছোট হই! তাই আমি মনেকরি দ্রুতই এই বিষয়টার একটা স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। আর হাইকোর্ট থেকে সম্প্রতি এই স্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্য স্থায়ী আদেশও দেওয়া হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।
কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ পাননি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আমরা এমন কোনো আদেশ পাইনি। পেলে উচ্ছেদের আদেশ দেওয়া হবে।
এদিকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমকে ফোন করা হলেও, তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।


