সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, যানজটে নাকাল নগরবাসী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক একটিই। বঙ্গবন্ধু সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যানজটে নাকাল হয়ে আছে। অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিক্সা, লেগুনা, সিএনজি ও পায়ে চালিত রিক্সার দাপটেই, এই সড়কে যানজট এখন নগরবাসীর প্রতিদিনের সঙ্গী। তাই যানজটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলছেন, গত ৪ থেকে ৫ মাস যাবৎ এই সড়কের যানজট অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দিনে ও রাতে অনেক সময় তাদের রাস্তায় নষ্ট হয়। তাই তাদের দাবি, দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ্যকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের অধিকাংশ চালকদেরই নেই কোন প্রশিক্ষণ, নেই লাইসেন্স। তাই জেনে না জেনেই এরা শহরে যানজট তৈরী করছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সূত্র বলছে, শহরে প্রায় ১০ হাজারের মতো রিক্সার প্লেট দেওয়া হয়েছে। তবে চলাচল করছে ৩০ হাজারের মতো রিক্সা। বৈধ-অবৈধ অনেক রিক্সার গ্যারেজ মাহাজন ও নাসিকের দেয়া প্লেটের মালিকদের অবস্থান ইউনিয়ন এলাকায়। তাই সিটি করপোরেশনের বাইরে থেকে এসে তারা এই শহরের যানজট সৃষ্টি করছে। মানছেনা কোনো ট্রাফিক আইন। আবার অনেকের মতে সড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নেই বলেই শহরে এতো যানজট।
তবে শহরে যানজনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে এই শহরের যানজট কমানো সম্ভব নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে, প্রথমে রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস স্টেশন শহরের বাইরে স্থাপন করতে হবে। এরপর সড়কের প্রশস্থতা ও বিভিন্ন ভবন, মার্কেট এবং প্রতিষ্ঠানে গাড়ীর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা রাখতে হবে। মূলত এতেই নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন রাস্তার যাটজট কমবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কে ৩ থেকে ৪টি লাইন করে প্রতিদিন রিক্সা চলাচল করছে। এতে সৃষ্ট যানজটের কারণে দিনের বেশির-ভাগ সময় দুইনং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত অনেকটা থেমেই চলাচল করে যানবাহন। ঢাকায় বাদ দেয়া হয়েছে এমন সিএনজিতেও সয়লাব পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক। শহরের চাষাঢ়া থেকে মোক্তারপুর রুটে চলাচলকারী সিএনজিগুলো সড়ক দখল করে রাখে সকলের চোখের সামনেই।
মোহাম্মদ সালাম নামে এক পথচারী বলেন, বঙ্গবন্ধু সড়কের সোনালী ব্যাংকের মোড় থেকে সমবায় মার্কেট পর্যন্ত অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে যাত্রী পরিবহন করা এসব সিএনজি থেকে মোটা অংকের চাঁদা তোলা হয়। চাঁদাবাজরা ক্ষমতাবানদের টাকা দিয়ে খুশি রাখে, তাই তাদের কেউ কিছু বলেনা। মাঝখানে ভোগান্তী পোহাই আমরা। তাই প্রশাসনের এখনই এ বিষয়ে একটি ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। নইলে আমাদের ভোগান্তী আরো বাড়বে।
অন্যদিকে, শহরের দুই নং রেলগেট এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকের সামনে প্রকাশ্যেই যাত্রী তুলতে দেখা যায়, শহরে নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত অসংখ্য অটো রিক্সাকে। এই অটোগুলো দুইনং রেলগেট থেকে, গোগনগর, কাশীপুর, মোক্তারপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রী পরিবহন করে। এতে সারাদিন দুইনং রেলগেইট এলাকায় যানজট গেলে থাকে।
আনিস নামে এক ব্যবসায়ী জানান, দুইনং রেলগেট এলাকায় দিনভর এই অবৈধ অটোরিক্সার জন্য যানজট সৃষ্টি হয়। একটি গাড়ীও নড়তে পারেনা। আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তাতেই বসে থাকতে হয়।
তাছাড়া এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে যানজট এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি। তাই ট্রাফিক পুলিশসহ প্রশাসনের উচিৎ হবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “শুধু ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে এই শহরের যানজট কমানো সম্ভব নয়। তাদের মতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে, প্রথমে রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস স্টেশন শহরের বাইরে স্থাপন করতে হবে। এরপর সড়কের প্রশস্থতা ও বিভিন্ন ভবন, মার্কেট এবং প্রতিষ্ঠানে গাড়ীর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা রাখতে হবে। মূলত এতেই নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন রাস্তার যাটজট কমবে”।
আর জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে। তার পরও যদি সেখানে তাদের অতিরিক্ত সহযোগিতা লাগে তাহলে আমরা সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। ’


