Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

সোহরাওয়ার্দী সড়ক

দোকানে দোকানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৯ পিএম

দোকানে দোকানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ!
Swapno


# সদর থানার বৈদ্যুতিক মিন্ত্রী তাহেরসহ জড়িত আরো তিন
# প্রতি মাসে লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি


 নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের ফুটপাতে গড়ে উঠা অন্ত্যত ১৫০ টি দোকানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। এরা দোকানে দোকানে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের ফকিরটোলা জামে মসজিদ এলাকার স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।


সূত্র বলছে, সোহরাওয়ার্দী সড়কে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তোলেন এই সিন্ডকেটের লোকজন। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধু সড়কের সোনার বাংলা মার্কেট থেকে সোহরাওয়ার্দী সড়কের ফজর আলী ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত ৬০ থেকে ৮০ টি দোকান তাহের নামে এক বৈদ্যুতিক মিন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। তাহের নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার বৈদ্যুতিক মিন্ত্রী। মূলত সেই সুবাদেই তাহের এখানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে টাকা কামাচ্ছেন। অন্যদিকে ফজর আলী ট্রেড সেন্টার থেকে ফরিকটোলা জামে মসজিদ পর্যন্ত আরো ৫০ টি দোকান নিয়ন্ত্রণ করে সিকো নামে পাক্কারোড এলাকার এক যুবক। সিকো স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছোট ভাইয়ের বন্ধু পরিচয়ে এখানে অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবসা করছে বলে জানা গেছে। তাছাড়া, এই কাজে সিকোর সাথে আল-আমিন, ও আকাশ নামে আরো দুজন জড়িত আছে বলেও জানা গেছে। তবে লোকচক্ষুর আড়ালে এবং ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শহরে কিভাবে বিদ্যুতের এমন পাহাড়সম চুরি করা হচ্ছে, তা ভেবেই অবাক হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার বলছেন, ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এখানে প্রতিটি দোকানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।  


এদিকে সড়েজমিনে ঘুরে এর প্রমাণও চোখে পড়েছে। দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইনং রেলগেট থেকে পূর্ব দিকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে গেছে পুরো সোহরাওয়ার্দী সড়ক। এই সড়কে প্রতিদিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় চাঁদাবাজির মহোৎসব। কারণ এ সময় ফুটপাতের বিভিন্ন দোকান থেকে কয়েক হাজার টাকা চাঁদা তোলেন কয়েকজন যুবক। মূলত দোকানীদের কাছে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার জন্যই এই টাকা তোলা হয়।


এ বিষয়ে ফকিরটোলা জামে মসজিদের উল্টো পাশের ফুটপাতে অবস্থিত এক কাপড়ের দোকানদার বলেন, আমাদের এখানে বৈধ বিদ্যুতের সংযোগ আছে বলে আমার মনে হয়না। আমরা সিকো নামে পাক্কারোড এলাকার এক যুবকের কাছে প্রতিদিন ৪০ টাকা করে দেই। তিনিই  আমাদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় এখানকার কিছু দোকানে বৈধ বিদ্যুতের সংযোগ আর অধিকাংশ সংযোগই অবৈধ। কিন্তু তারপর কোনো রকম ব্যবসা করছি। কারণ এই ছোট্ট একটা দোকানের জন্য আলাদা ভাবে কিসের মিটার নেবো।


সুজন নামে সোহরাওয়ার্দী সড়কের অন্য এক দোকানী বলেন, এখানে ১৫০ টির মতো দোকানে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ আছে। সদর থানার বিদ্যুতের মিস্ত্রী তাহের, জিএম আরাফাতের ছোট ভাইয়ের বন্ধু সিকোসহ আল-আমিন ও আরো কয়েকজন মিলে এই অবৈদ কাজ করছে এখানে। আসলে সরকারি (ডিপিডিসি) কর্মকর্তারা সজাগ থাকলে এখানে এসব করা যেতোনা। তাদেরও হাত আছে এখানে। মাসে কয়েক লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি হয় এখানে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন