Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

হ্যাট্রিক বিজয়ে বাধা দলীয় গুপ্ত চক্রান্ত

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৫ পিএম

হ্যাট্রিক বিজয়ে বাধা দলীয় গুপ্ত চক্রান্ত
Swapno

# ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীকে ডুবিয়েছে নৌকার দলের লোকেরাই
# নৌকা প্রতীক পেলেই তার পক্ষে কাজ করবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই


সকল জরিপই বলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার দৌঁড়ে সকল ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছেন। আর সেই দৌঁড়ের প্রথম ধাপে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে জয়ের বিষয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন তিনি। তাই বলে এখনই বিজয়ের হাসি হেসে হাত-পা গুটিয়ে বসলে চলবে না। যেহেতু এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ এবং বাংলাদেশের যেকোন জায়গার তুলনায় এখানে এখনও আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদি যারা আওয়ামী লীগের গুণগান করে, বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা করে এবং দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বন্দনা করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোন কর্ম নাই যে তারা করতে পারে না এমন নেতাকর্মীর সংখ্যা বেশী।

 

এমনকি অন্যান্য জায়গায় আওয়ামী লীগের দুর্বল ও ফাঁক ফোঁকর গলে হাইব্রীড ও কাউয়ারা দলে প্রবেশ করলেও এখানকার আওয়ামী লীগের কর্ণধাররা তাদের আর্থিও ও স্বার্থের জন্য এধরণের হাইব্রীডদের ডেকে এনে দলে প্রবেশ করিয়ে দলে তাদের স্বার্থে আঘাত হানে এমন ধরণের ত্যাগী নেতাদের উপর ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা প্রদান করতেও পিছপা হন না। সেখানে নৌকার প্রতীক পেলেই যে তারা আইভীর জন্য কাজ করবে বা আইভীর জয়কে তরান্বিত করার চেষ্টা করবে এমনটা ভাবার কোন কারন নেই। তারা এখন দলীয় প্রধানের কাছে ভাল থাকার জন্য এবং কেন্দ্রের কাছে তাদের আওয়ামী প্রীতি নষ্ট না করার জন্য আইভীকে সমর্থন দিবে এটাকে স্বাভাবিক মনে হতে পারে। যদি এমনটা হয় তবে ভাল। তবে তারা যে নিজেদের আর্থিক, ক্ষমতা ও দাপট বৃদ্ধির জন্য মুখে রাম অন্তরে রহিম কিংবা মুখে রহিম অন্তরে রাম এমন মুনাফেকি করবে না এমন গ্যারান্টির কথা অন্তত নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিশ্বাস করবে না।

 

বিশেষ করে এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যারা একটু খোঁজ খবর রেখেছেন তারাতো না-ই। আর তারা যদি নিজেরা সাধু থেকে আইভীকে কোনভাবে পরাজিত করতে পারে তাহলেতো তাদের পোয়া বারো। একদিকে প্রতিশোধ নিতে পেরে নিজেদের একটি আত্মতৃপ্তি, অন্যদিকে দলের হাই কমান্ডের কাছে আইভীর ব্যর্থতাকে প্রমাণ করে আইভীর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধির কোশলে জয়ী। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আইভীকে নাসিক মেয়র পদে হেট্রিক বিজয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিভিন্ন কৌশলের সাথে সাথে নিজ দলের কিছু প্রভাবশালী নেতাদের অপকৌশলের দিকেও তীক্ষè নজর রাখতে হবে। আর প্রকাশ্য শুত্রুদের তুলনায় গোপন শত্রু অনেক বেশী হিংস্র হয় সেটা নতুন কিছু নয়।


 
রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, নারায়ণগঞ্জে সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের ধরাশায়ী হওয়ার কৌশলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই এ বিষয়টি স্পষ্ট বুঝা যাবে। সে নির্বাচনে কিন্তু শুধু মাত্র টাকার লোভে এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য শত্রু দল থেকে ডেকে এনে নৌকা প্রতীক দিয়ে জয়ী করা হয়েছে। বন্দর উপজেলার নির্বাচন গুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে শুধু মাত্র তাদের স্বার্থ সিদ্দির জন্য নৌকা প্রার্থীকে ডুবিয়েছে নৌকার দলের লোকেরাই। এরমধ্যে সবচেয়ে নির্লজ্জ যে ঘটনাটি সবচেয়ে বেশী মনে রাখার মতো তাহলো বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন। সেখানকার নৌকার প্রার্থী কাজিম উদ্দিন প্রধানকে হারতে হয়েছে যারা তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে অভিভাবকের ভূমিকায় ছিলেন সেই অভিভাবক নামের দলীয় লোকদের কাছে। কাজিম উদ্দিনের নির্বাচনের দিকে একবার খেয়াল করে বিশ্লেষণ করলেই এবারের নাসিক নির্বাচনের ভবিষ্যতের অনেকটাই আয়নার মতো ভেসে উঠবে বলে অনেক আওয়ামী লীগ বিশ্লেষকদেরও ধারণা। তাদের ধারণা কাজিম উদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধানের নিকট হারেননি। তিনি হেরেছেন তাকে যারা গড়ে তুলেছেন তার সেই অভিভাবকদের চক্রান্তের কাছে। যারা নিজেদের আওয়ামী লীগের সর্বেসর্বা বলে নিজেদের পরিচয় দিতে সদা ব্যস্ত থাকেন সেই আওয়ামী লীগের কর্ণধারদের কাছেই এই আওয়ামী লীগ নেতাকে হার মেনে নিতে হয়েছে বলে এখন প্রকাশ্যেই সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা মুখও খুলেছেন।
 


এছাড়াও ২০১১ সালের নাসিকের প্রথম নির্বাচন, ২০১৬ সালের নাসিকের দ্বিতীয় নির্বাচন এবং সর্বোপরি নির্বাচনী বছর হিসেবে এবার বছরের শুরু থেকে তাদের আইভী বিরোধী বিভিন্ন মিথ্যাচার থেকেই বুঝা যায়। তাই নৌকা প্রতীক ছিনিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় জয়ী হলেও তারা যে মরন কামড় দিবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যাদের সাধারণ জ্ঞানও রাখেন, তারাও বিনা বাধায় বলতে পারেন যে, নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়া পর্যন্ত তাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকবে না। যারা নিজের হাতে গড়ে তুলে তাদের সেই শীষ্যকেই শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্য প্রকাশ্যে বলি দিতে বিন্দু মাত্র দ্বিধা করেন না, সেখানে আইভীকে তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক শত্রুই নয়, তাকে পারিবারিক, ব্যবসায়িক, আর্থিকসহ সব ধরণের স্বার্থেই তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করে। আর যেহেতু এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে বতর্মান মেয়র আইভীর মেয়র পদে হেট্রিক হবে। তাই তার মেয়র পদে হেট্রিকের সুযোগে যে নিজ দলীয় সেইসব স্বার্থবাজ লোকেরা গোপন কাটা হয়ে দাঁড়াবে একথা মাথায় রেখেই আইভীকে তার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে। যদিও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমনটা কারো কাম্য নয়।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন