ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে নেই হিন্দু নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১৭ পিএম
# ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের চার নারীর মৃত্যু
# সংকটে দিনাতিপাত করছে স্বজনরা, নেতাদের পাশে না পেয়ে হতাশ অনেকেই
গত ১২ই নভেম্বর ফতুল্লার পূর্ব শেয়াচরের লালখা এলাকায় ৫ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ির নিচ তলায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের চার নারীর। তারা হলেন, নিহত মায়া রানী দাস, মঙ্গলী রানী দাস, ঝুমা রানী ও তুলসী রানী। একেবারেই নিম্নবিত্ত তিনটি পরিবারের কর্মঠে চার নারীর এমন আকষ্মিক মৃত্যুতে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে নিহতদের স্বজনরা। বিশেষ করে, তাদের রেখে যাওয়া শিশু সন্তানদের ভবিষ্যত ঢাকা পড়েছে অনিশ্চয়তার চাঁদরে। ঘটনার পর পরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ সৎকারের জন্য কিছুটা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও পরিবারগুলোর পাশে দেখা যায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দদের। ঘটনার প্রায় ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বাড়িয়ে দেননি সহায়তার হাত। তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, ঘটনাটি অবগত না থাকায় এখনো পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। এদিকে, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও সদর উপজেলার সভাপতি শ্রী রঞ্জিত মন্ডল বলছেন, তিনি তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো তাদের কাছে সহায়তার আবেদন না করায় এখনো আর্থিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াননি তিনি। তবে, তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে মানবাধিকার সংগঠনের ন্যায় বলে দাবি করেছেন সনাতন ধর্মালম্বিদের এই দুই নেতা।
বিগত সময়ে নগরীতে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বাইরেও ভিন্ন কোন জেলায় সংখ্যালঘু পরিবার তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সাম্প্রদায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলে আন্দোলন সংগ্রামে নামেন পুজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। বিশেষ করে জিউস পুকুর ইস্যুতে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে আন্দোলন সংগ্রামগুলোতে হিন্দু নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, কেবল জুলুম বা ফৌজদারি আইনের বিষয়েই নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারন কোন মানুষও যদি কোন দূর্ঘটনায় পতিত বা ক্ষতিগ্রস্থ হন, তাহলে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়াবেন।
তবে, ফতুল্লার লালখায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় নিম্নবিত্ত পরিবারের চার জন উপার্জনক্ষম নারী নির্মম ভাবে মৃত্যুবরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সংকটে পড়লেও এখনো তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেননি সনাতন ধর্মালম্বিদের এই নেতৃবৃন্দরা।
এই বিষয়ে নিহত মঙ্গলী রানী বিশ্বাসের মেয়ে আহত পূর্নিমা বিশ্বাস দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, আমার বাবা নেই। মা-ই ছিলো পরিবারের একমাত্র ভরসা। যিনি দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। আমার মা ঝুটের গোডাউনে কাজ করে যা পেত তা দিয়েই সংসার চলতো। কিন্তু এখন পরিবারে উপার্জন করার মত কেউ নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা করা হয়েছিলো। কিন্তু পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাসহ যারা আমাদের ধর্মীয় সংগঠনের নেতা, তারা এখনো আমাদের কোন ভাবে সহযোগিতা করেননি। খোঁজ খবরও নেয়নি কেউ।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম আলোচিত নেতা শিখন সরকার শিপন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের কোন ফান্ড নেই। আমরা আমাদের নিজেদের অর্থায়নে আন্দোলন সংগ্রাম এবং বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়াই।
এক্ষেত্রে আমাদের সংগঠনের সভাপতি দিপক সাহা সর্বদা সহায়তা করে থাকেন। আমরা মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বেশি প্রাধান্য দেই। তবে, লালখার ওই নিহত ও দগ্ধদের পরিবারের বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য আসেনি। আমাদের থানা বা উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এই বিষয়ে অবগত করেনি। তবে, যেহেতু জানতে পারলাম, সেহেতু অবশ্যই ওই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াবো।’
জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও সদর উপজেলার সভাপতি শ্রী রঞ্জিত মন্ডল বলেন, ‘আমাদের কোন ফান্ড নেই। তবে, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপক সাহা তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে সহযোগিতা করে থাকেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এই ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু ওই পরিবারগুলো আমাদের কাছে সহায়তার আবেদন করেনি বিধায় আমরা তাদের আর্থিক সহযোগিতা করিনি। তবে, যারা মারা গেছেন, তাদের কর্মপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে।’


