সিটি নির্বাচনের কুটকৌশল :শফিউদ্দিনের দিদার আর মনিরের মাসুম
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডে এখন পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে এই ওয়ার্ডের প্রার্থীদের মধ্যে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তাই প্রার্থীরাও একে অন্যকে টেক্কা দিতে মারিয়া হয়ে উঠেছেন। সূত্র বলছে, ১৪ নং ওয়ার্ডের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির এবং শফিউদ্দিন প্রধান ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হতে নানান কুটকৌশল অবলম্বন করছেন। দেওভোগের স্থানীয় লোকজনের দাবি, শফিউদ্দিন প্রধান মনিরের নিজস্ব ভোট নষ্ট করতে তার এলাকা অর্থাৎ দেওভোগ আখড়ার স্থানীয় বাসীন্দা দিদার খন্দকারকে এবার কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন। তাই গত শুক্রবার দিদার দেওভোগে ব্যপক শোডাউনও করেছেন। তাছাড়া তিনি যে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন সেটিও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। মূলত দিদার খন্দকার একজন বিএনপি নেতা তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ ১নং সেন্ট্রাল ঘাটের ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে দিদার প্রথাম ১৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছিলো।
অন্যদিকে নন্দীপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মনিরের এলাকায় যেমন দিদারকে দাঁড় করানো হয়েছে, ঠিক তেমনি শফিউদ্দিনের এলাকা গোয়ালপাড়াতেও মাসুম আহম্মেদ নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা এই নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেছেন। তাই এতে শফিউদ্দিন প্রধানের ভোট কমে যাবে বলে অনেকের ধারনা। এদিকে কেউ কেউ বলছেন মাসুম আহমেদকে মনিরুজ্জামান মনিরই এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
গতকাল নন্দীপাড়া এলাকায় গিয়ে সৌরভ নামে এক হোসিয়ারী ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসলে এবার কে কাউন্সিলর হবে সেটা বলা কঠিন। মনিরের যেমন তার এলাকাতে প্রচুর ভোট আছে তেমনি শফিউদ্দিনেরও এই এলাকাতে অনেক ভোট আছে। তবে এবার যেহেতু গোয়ালপাড়া থেকে মাসুম ভাই নির্বাচন করবে, তাই শফিউদ্দিন প্রধানের ভোট কমে যাবে। তারপরও দেখা যাক কি হয়।
দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মুদি দোকানী রাসেল এ বিষয়ে বলেন, এবার দিদার কে এই এলাকা থেকে নির্বাচনে নামানো হইসে। এতে মানিরের ভোট কমবে। কারণ দিদার মনিরের নিজ এলাকারই লোক। মূলত এইটা শফিউদ্দিনেরই একটা চাল। কিন্তু এসব করে লাভ নাই ভোটাররা যাকে বেশি ভোট দিবে সেই। আমাদের কাউন্সিলর হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, দিদার একজন বিএনপি নেতা। আমি তার বিষয়ে এতোটুকুই জানি। সে এর আগে ২০১১ সালে একবার নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলো, এবারো করছে। আর ১৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, আমি এবার বিপুল ভোটে পাশ করবো।


