# আনোয়ার হোসেনের সমর্থনে উচ্ছ্বসিত ২৭ ওয়ার্ডের কর্মীরা
# আবদুল হাইয়ের সমর্থনে দুরুত্ব অনেকটাই ঘুচে গেল
মাত্র কিছুদিন আগেই যতখানি মোটা দাগে বিভেদ ধরা পড়েছিল, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নৌকা দেয়ার পর সেই বিভেদ ধীরে ধীরে কমে এসেছে। এমনিতেই নিজের কর্মগুন, উন্নয়ন আর নেতৃত্বে আলাদা একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে আইভীর। কিছুদিন আগে সেটিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে টানা কয়েকমাস ধরে অপপ্রচার চালায়। এখনো সেই মহলটি প্রকাশ্যে আইভীর সমর্থন দেয়নি। তবুও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দুরুত্ব অনেকটা গুচে আসছে।
সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩ তারিখ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপরপরই কালবিলম্ব না করে মহানগর আওয়ামী লীগের সজ্জন রাজনীতিক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আইভীকে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন দেন। এতে আনোয়ার হোসেনের সাথে সাথে মহানগরের জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বও আইভীকে সমর্থন দেয়। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান, জিএম আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে আইভীর পক্ষে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এতে উজ্জিবিত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। যদিও এই কমিটির দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের ফলোয়ার নেতারা মহানগর আওয়ামী লীগের সমর্থন অনুষ্ঠানে আসেনি তাতে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি তৃণমূলে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বলেন, ‘যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভীকে আবারো নৌকা প্রদান করেছেন। যারা আওয়ামী লীগের সত্যিকারের কর্মী তারা নেত্রীর আদেশ অমান্য করতে পারেননা। যারা নিজের স্বার্থ চরিত্রার্থ করতে চান তারাই বিরোধীতা করবেন।’
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী অংশ আগে থেকেই মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সকল কুৎসার বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে প্রবীণ ও দক্ষ আওয়ামী লীগারদের চারিদিকে পরিবেষ্টিত ছিলেন মেয়র আইভী। তাই অবান্তর সমালোচনা তাকে ছুঁতে পারেনি।
আইভীর মনোনয়নপ্রাপ্তির ঘোষণার জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমর্থন দিতে দেরী হওয়ায় সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠার আভাসের সাথে সাথেই তার তড়িৎ সিদ্ধান্তে ঝঠিকা সভায় আইভীকে সমর্থন দেয়া হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল অনুপুস্থিত থাকলেও তার চিন্তা করেননি আবদুল হাই। দৃঢ়কণ্ঠে আবদুল হাই বলেছেন, ‘আইভী সেরা বিধায়ই তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তার হয়েই আওয়ামী লীগারদের কাজ করতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।’
আবদুল হাই পরে যোগ হলেও জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতার দক্ষ কারিশমাতেই এবার সুরক্ষিত ছিলেন আইভী। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, এড.আসাদুজ্জামান, আদিনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রানু খন্দকার , মহিলা সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, জেলা আওয়ামী লীগর প্রবীণ সদস্য মো. শহীদুল্লাহসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা গত কয়েকবছর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর চারপাশে সুরক্ষিত বলয় হিসেবে কাজ করেছেন। যার দরুণ তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ পায়নি । এমপি নজরুল ইসলাম বাবু এবং মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এর অকুন্ঠ সমর্থন পেয়েছেন ডা.আইভী। শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশও ছিলেন ছায়ার মতো।
জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইভীকে সমর্থন দেয়ার পর থেকে একেএক এখন অঙ্গসংগঠনগুলোও সমর্থন দিচ্ছে আইভীকে। এদিকে নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদাভাবে আইভীর পক্ষে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। গত ১৮ বছরের ক্ষমতায় থেকে এমনিতেই আইভী পুরো নারায়ণগঞ্জ সিটিকে অন্য রকম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মূল টার্গেট থাকবে অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। কেননা বিগত দিনে আইভীর উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র নানা অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছিল। এখন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দুই সভাপতিসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সুপ্রতিষ্ঠিত ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার কারণে অনেকটা গোপনে আবডালে কুচক্রীমহল নানা ফন্দি আটছে।
তবে দক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও জনগণের সমর্থনের কারণে কুচক্রী মহল এবার কোনক্রমেই পাত্তা পাবেনা বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহুতু ভেবেচিন্তেই আইভীকে মনোনয়ন দিয়েছেন সেক্ষেত্রে কুচক্রী মহলের অপতৎপরতার বিষয়েও তিনি সম্যক ওয়াকিবহাল বলে ভাবছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।


