এবার বঙ্গবন্ধু সড়কে পুলিশের উপর হকারের হামলা, আটক ২
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪১ পিএম
শহরের চাষাঢ়ায় এবার এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করার অভিযোগ দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
শহরের চাষাঢ়ায় এবার এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে দুই হকার। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানা পুলিশ ওই দুই হকারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মারধরের শিকার আব্দুল কাদের নামে ওই পুলিশ সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে কনস্টেবল পদে কর্মরত বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে ওই পুলিশ সদস্য তার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ফুটপাতে হালিম খেতে দাঁড়ান।
পুলিশ সদস্যের মোটর সাইকেলটি রাস্তার উপর থামানো ছিল। এ সময় এক হকারের ফুডকার্টের সাথে ধাক্কা লাগে ওই মোটর সাইকেলে। এতে ওই পুলিশ সদস্যের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যকে মারধর করে দুইজন হকার। তারা দু’জন সহোদর। শহীদ মিনারের সামনেই ফুডকার্টে হালিম, রান্না করা গরুর ভূড়ি বিক্রি করে তারা দুই ভাই। পরে সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখে চাষাঢ়ায় দায়িত্বরত টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চাষাঢ়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মঞ্জুরুলও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
মারধরের শিকার পুলিশ কনস্টেবল তার পরিচয় দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান। এই সময় ওই পুলিশ সদস্য জানান, তিনি পুলিশ লাইনসে রিজার্ভ বিভাগে কর্মরত। ডিউটির সময় শেষে তার বন্ধুকে নিয়ে হালিম খেতে দাঁড়িয়েছিলেন ফুটপাতে। এমন সময় ওই ঘটনা ঘটে। পরে সদর মডেল থানা পুলিশের গাড়িতে দুই হকারকে নিয়ে যায় পুলিশ। জানা গেছে, মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই হকারের নাম- আমিন ও দুলাল। তাদের বাবার নাম মুছা মিয়া। তারা শহরের মিশনপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকে। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লাতে। পুলিশ ভ্যানে তোলার পূর্বে চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংকের গলিতে অভিযুক্তদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্য সেটা তারা জানতেন না।
মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় প্রথমে ওই পুলিশ সদস্যই তাদের এক ভাইকে চড় দেয়। পরে তারা দু’জন তাকে মারধর করে। পুলিশ সদস্য জানতে পেরে তারা ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ জামান বলেন, এমন ঘটনা শুনেছেন তিনি। অভিযুক্ত দু’জন ও অভিযোগকারীকে থানায় নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন পূর্বে চাষাঢ়ার সায়াম প্লাজার সামনে দর-দাম নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে তাহের হোসেন নামে এক সাংবাদিককে মারধর করে হকাররা। কয়েক মাস আগে ফুটপাতে ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে জুবায়ের নামে এক হকারকে ছুরিকাঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে কয়েকজন হকার। ওই মামলায় হকার নেতা আসাদুল ইসলামও আসামি। সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে।


