শহরের সবচেয়ে আধুনিক স্থাপত্য চারুকলা ইনিষ্টিটিউট
শাহজাহান দোলন
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩৯ পিএম
# এ পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে
# আর্ট কলেজটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা
নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের বহুতল আধুনিক ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। নাসিক ও জাইকার সহযোগিতায় শহরের শেখ রাসেল পার্কের পাশে চোখ ধাঁধানো এক মনোরম পরিবেশে নির্মিত হচ্ছে এই আর্ট কলেজটি। জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্মাণাধীন এই আর্ট কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এই মুহুর্তে প্রকল্পটির প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কলেজের পুরো কাজ শেষ হবে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ্য থেকে বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের নির্মাণাধীন ভবনটি অবকাঠামোগত দিক থেকে নারায়ণগঞ্জের যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে আধুনিক। এদিকে চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছুল আলম আজাদ বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আরো অনেক স্থাপত্য আছে, তবে এটা সবচেয়ে আধুনিক। এটি আমাদের এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের ব্যপার। আমরা সকলে মেয়রের কাছে কৃতজ্ঞ।’
সরেজমিনে গিয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের নতুন এই ভবন নির্মাণে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। পরবর্তীতে এই খরচ বাড়তেও পারে। এতে থাকছে, ৬ তলা একটি বহুতল ভবন। যার প্রথম তলায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ওপেন স্পেস। দ্বিতীয় তলায় ১ টি হলরুম, ১ টি টিচার্সরুম ও ৫ টি ক্লাসরুম। আর তৃতীয় তলায়, ১ টি সেমিনার রুম ও ৬ টি ক্লাসরুম। আর উপরের তলাগুলোতেও একই ভাবে ক্লাসরুম ও অন্যান্য কক্ষ্য এলার্ট করা হবে।
দেখা যায়, বহুতল ভবনের পাশেই আর্ট কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হচ্ছে ২০ ফুঁট উঁচু একটি লাইব্রেরী। এই লাইব্রেরীতে বসে বই পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পুরো রাসেল পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। এদিকে, চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের ভবন এবং লাইব্রেরীকে সরাসরি সংযুক্ত করতে তৈরী করা হয়েছে প্রায় ৪০ ফুঁট লম্বা দুটি র্যাম্প সিঁড়ি। এসে সবাই খুব সহজেই সবাই কলেজের শ্রেণীকক্ষ এবং লাইব্রেরীতে যাতায়ত করতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিষ্টিটিউটের শিক্ষার্থী রাজীব শীল বলেন, ‘এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য খুব ভালো হয়েছে যে, আমরা আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করতে এতো সুন্দর এবং আধুনিক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেয়েছি। যাদের মাধ্যমে এই কাজটি হচ্ছে আমরা তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।’
মোহাম্মদ হাবিব নামে অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি যে এতো সুন্দর একটি স্থানে বসে ছবি আঁকতে পারবো। কিন্তু সামনে সেটিই হতে যাচ্ছে। চারিদিকে রাসেল পার্কের মনোরম পরিবেশ এবং মাঝখানে আমাদের আর্ট কলেজ। এখন দ্রুত কাজ শেষ হলেই আমাদের জন্য ভালো।’
ঠিকদারী প্রতিষ্ঠান তনু এন্টারপ্রাইজের প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাপ্পী জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছি। আশা করি আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই এই কলেজের কাজ আমরা শেষ করতে পারবো।’


