Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

কীভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারি সেই চেষ্টাই করেছি: আইভী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৫ পিএম

কীভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারি সেই চেষ্টাই করেছি: আইভী

গতকাল দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, নদীর পাড়ে হাঁটাপথ নির্মাণ ও উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে নাসিকের কারিগরী সভায় বক্তব্য রাখেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

Swapno

 নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় সেই পরিকল্পনা করছি। সবগুলো লাইন পরিবর্তন করা হবে। নতুন আরও পরিশোধনাগার স্থাপন করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়েও মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। কীভাবে মানুষকে সেবা দিতে পারি সেই চেষ্টাই করেছি।

 

’ গতকাল দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জে অবস্থিত নগরভবনের পঞ্চম তলায় সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা এই কথা বলেন তিনি। দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, নদীর পাড়ে হাঁটাপথ নির্মাণ ও উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে এক কারিগরী সভার আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ও সরবরাহ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, ‘মেঘনা থেকে পানি আনতে চাই না। শীতলক্ষ্যা থেকেই পানি নিতে চাই। কিন্তু শীতলক্ষ্যাকে যারা প্রতিনিয়ত মেরে ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন চাই। শীতলক্ষ্যাকে বাঁচানোর জন্য সকলের মতামত নিতে চাই। এইজন্য বড় একটি সমাবেশেরও আয়োজন করতে চাই। বর্জ্যমিশ্রিত পানি আমরা সরাসরি নদীতে ফেলবো না। ড্রেনের পানি পরিশোধন করে নদীতে ফেলতে চাই। এছাড়া যেসব শিল্প কারখানা, ডাইং, সাবানের কারখানা, সার কারখানা তাদের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে তাদের এই কাজ বন্ধ করতে হবে।’ এই প্রকল্পে অর্থায়ন করায় দাতা সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

 

এ সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ডা. আইভী। তিনি বলেন, ‘এই মুহুর্তে শীতলক্ষ্যাকে বাঁচানোর কথা বলেই আমাদের আগাতে হবে। শীতলক্ষ্যা একেবারেই মরে গেছে। সে তার আগের অবস্থায় নেই। শীতলক্ষ্যার মিষ্টি পানির জন্য সুখ্যাতি ছিল। এই পানি দিয়ে রান্না হতো। সাতটি নদীর সাথে শীতলক্ষ্যার সংযোগ। অসংখ্য খাল নিয়ে সুন্দর একটা পরিবেশে আমরা আছি। আমাদের চারদিকে খাল, নদী, পুকুর। আমরা কিন্তু ব্লু সিটি। জলাশয়গুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই। দাতা সংস্থাগুলোর সাথে বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে আলাপ হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে করার পরিকল্পনা আমাদের অনেক পুরোনো। ফুটপাত থাকবে, বিশ ফুটের চওড়া রাস্তা থাকবে আবার ফুটপাত থাকবে। ভারী কোনো যানবাহন এখানে চলবে না। হালকা যানবাহন চলবে। নদীকে উপভোগ করতেই এইটা করতে চাচ্ছি। উন্নত দেশগুলোতে এমনটা করা হয়। নদীর পাড়ে যেসব জায়গা বের হবে সেখানে ইকোপার্ক, খেলার মাঠ করতে চাচ্ছি।

 

’ আইভী বলেন, ‘২০০৯ সালে হাইকোর্ট একটি আদেশ দিয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়েছে, নদীর দুই পাড়ের তীরভূমি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যাতে এসব স্থানে মানুষের বিনোদনের জন্য ওয়াকওয়ে, খেলার মাঠ, পার্ক নির্মাণ করতে পারে। আমরাও এটাই চাই। বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে এ নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে চাই। এটা যাচাই-বাছাই চলছে। তবে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিশাল বড় মাঠ ও পার্ক হচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিশাল বড় মাঠ করার চিন্তা করছি। সাতাশটি ওয়ার্ডেই আমরা এটা করতে চাই। খেলার মাঠ ও সবুজায়ন করতে চাই। পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি। পরিবেশ বাঁচাতেই কাজ করতে চাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘ওইপাড়ে প্রচুর জায়গা পেয়েছি। যেগুলোকে ব্যবহার আমরা করতে চাই। নইলে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, ভূমিদস্যু নদীর পাড় দখল করে ফেলবে। আমরা এটা চাই না। এই জায়গাগুলোকে নগরবাসীর জন্য ব্যবহার করতে চাই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাধা আসে। এখনও বাধা আছে। এইসব বাধা অতিক্রম করেই কাজ করতে হবে।

 

সিটি কর্পোরেশন নিজের সমস্যা সমাধান করেই তার কাজ বাস্তবায়ন করবে। সফলতা আসবে।’ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিনের সভাপতিত্বে এই সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ, নির্বাহী প্রকৌশলী আজগর হোসেন, ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম, প্রকল্পের টিম লিডার সিমাস বায়েনিজ, ডেপুটি টিম লিডার মোজাম্মেল হক, পরামর্শক সালমা আউয়াল শফি, তোফায়েল আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধি প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন সিটি কর্পোরেশন নগর পকিল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন