Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নির্বাচনকে ঘিরে অরাজকতার আশঙ্কা

Icon

কুমুদ শুভ্র

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০২ পিএম

নির্বাচনকে ঘিরে অরাজকতার আশঙ্কা
Swapno

# নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার হয়তো চক্রান্ত করছে : এড.দীপু
# সর্বোচ্চ হাইকমান্ডের সাথে কথা হয়েছে, দল নির্বাচন করছেন না : এড.সাখাওয়াত
# পুরো নির্বাচনের সময়ই এমন প্রপাগান্ডা ছড়াবে : রফিউর রাব্বি
# সর্বস্তরের প্রস্তুতি আছে : এসপি


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী  সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একটি গণমাধ্যমে দেয়া স্বাক্ষাতকারেও মেয়র আইভী এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন,  ‘দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটা শ্রেণি থেকে বিভন্ন সময়েই এমন বক্তব্যতো আসছেই। এখন শুনতে পাচ্ছি, একটা বড় ধরণের অরাজকতা হতে পারে। তবে, এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু দেখিনি। আমি মনে করি পরিবেশটা এখনও ভালো আছে।’ তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিটি নির্বাচনে এবার একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য জল ঘোলা  করতেই এমন অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ভোট গ্রহণের অনেক দিন আগে থেকেই সিটি নির্বাচনের বেশ কয়েকজন প্রার্থী উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। এছাড়া  এই সিটি নির্বাচনকে ঘিরে গত দুইবছর নানা বিষয়ে উত্তপ্ত ছিল নারায়ণগঞ্জ। সংশ্লিষ্টসূত্র বলছে, বিএনপি সিটি নির্বাচনে না এলেও আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীসহ ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই ৮ প্রার্থীর মধ্যে বেশ কয়েকজন আগাম হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অপেক্ষাকৃত দূর্বল দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এসব হুঁশিয়ারি কোন খুঁটির জোরে করছে সে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিৎ। শহরবাসীও প্রার্থীদের এমন আগাম হুঁশিয়ারিতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনী জয় কিংবা পরাজয় প্রার্থীদেরই হবে। নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবে ভোটের দিন। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোন ধরণের সহিংস ঘটনা কেউ ঘটাতে না পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বেশ কিছু কারণে নারায়ণগঞ্জ সারা দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি গুরুত্ব বহন করে। বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য তৎপর থাকার বিষয়টি এরআগেও নানা সময় সামনে এসেছে। নারায়ণগঞ্জের সুধী সমাজও সেবিষয়টিকে খুব ভালোভাবে আমলে নেয়ার ব্যাপারটি লক্ষ্য করতে বলছেন। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় হোক আর ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য বিশেষ শ্রেণির যেই হোক, কেউ যেন কোন ধরণের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার সুযোগ না পায় সেব্যাপারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ নজরদারির করার দাবি তুলেছেন বোদ্ধা মহল।



তবে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম, একটি মহল এই ধরণের প্রপাগান্ডা ভীতি তৈরির জন্যই ছড়াচ্ছে। এটি পুরো সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যন্তই অব্যাহত থাকবে। ত্বকী হত্যাসহ অন্যান্য যেসকল হত্যকাণ্ড নারায়ণগঞ্জে হয়েছে সেসব আওয়াজকে স্তিমিত করতে কিছু লোক এমনটা করার চেষ্টা করছে।’


এবিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.আনিসুর রহমান দীপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে পারলেই তা আশেপাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী এসব এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া যায়। নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যাবে বিএনপি নির্বাচন করছেনা, কিন্তু তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির প্রথম সারির নেতা কাউকেই তৈমূরের পাশে নেই, তার পাশে দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফ্রীডম পার্টির নেতৃবৃন্দকে,  দেখা যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিরুল ইসলামের হত্যাকারীদের। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলছে, জিহবা কেটে ফেলবে এসব হুঙ্কার তারা কোথা থেকে দিচ্ছে। তৈমূর আলমকে সামনে রেখে অন্তর্ঘাতমূলক, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার হয়তো চক্রান্ত করছে। আমরা প্রশাসনকে, জনগণসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।’



নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি কোন প্রার্থী দেয়নি। দল নির্বাচন থেকে দূরে। আমি দলের সর্বোচ্চ হাইকমান্ডের সাথে কথা বলেছি। সেখান থেকে নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কোন কথা বলেনি। দল যদি অংশগ্রহণ করতো গতবার আমি যেভাবে প্রার্থী হয়েছি, এবারও সেভাবে প্রার্থী হতাম। দলের অংশগ্রহণ করেনি বিধায় আমি অংশগ্রহণ করিনি।  বিএনপির কোন নেতা যদি নির্বাচনে প্রার্থী হয়, তবে সেটি দলের কোন প্রার্থী নয়, এটি তার ব্যক্তিগত স্বার্থে।’


এব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এধরণের নির্দিষ্ট কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বস্তরের প্রস্তুতি আছে। আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ সজাগভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। যদি কোন প্রকার অরাজকতা তৈরির কেউ চেষ্টা করে তবে তা শক্তহাতে প্রতিহত করার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া আছে।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন