নাসিকের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ৫ (১৩,১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে) এবার ত্রিভূজ লড়াই হবে। ত্রিভূজের তিন শীর্ষ বিন্দুর একটিতে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নী অপর দুটি শীর্ষ বিন্দুতে রয়েছেন মহানগর মহিলাদল সভানেত্রী ও এই ওয়ার্ডর সাবেক মহিলা কমিশনার দিলারা মাসুদ ময়না ও নারী সংহতি নেত্রী পপি রাণী সরকার। বর্তমানে তিনজনেরই ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিলারা মাসুদ ময়না ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৮ বছর এ ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন এবং এ সময় তিনি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মহানগর বিএনপি ও মহানগর মহিলা দলের নেতাকর্মীরা এবার দিলার মাসুদ ময়নার পক্ষে তিনটি ওয়ার্ডজুড়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। শারমিন হাবিব বিন্নী জাতীয় পার্টির নেত্রী। তার পক্ষে জাতীয় পার্টির একজন এমপিসহ নেতাকর্মীরা কাজ করছে। এদিকে নারী সংহতি নেত্রী পপি রাণী সরকারের পক্ষে কাজ করছে গণসংহতি আন্দোলন, নারী সংহতি, শ্রমিক সংহতি ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। তিন জনের পক্ষেই সকাল বিকাল মাইকিং ও মহল্লায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগের কাজ চলছে। গতকাল ডিএন রোড এলাকায় পপি রাণী সরকারের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। এ সময় তিনি জানান, ভোটারদের থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। সবাই পরিবর্তন চায়। পপি রাণী বলেন, বিগত নির্বাচনে প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বুঝতে না পারায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এবার তিনি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন; এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বর্তমান মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নী বলেন, তিনি একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তার বাপ-চাচারা সবাই একাত্তোরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্যই তিনি কাজ করেন। বিগত পাঁচ বছরে এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমুলক কাজও করেছেন। করোনার সংকটকালে কেউ তার দুয়ার থেকে খালি হাতে ফিরে যায়নি। তিনি আশাবাদী জনগন তার কর্মের মূল্যায়ণ করবেন।
দিলারা মাসুদ ময়না বর্তমানে উদয়াস্ত তিনটি ওয়ার্ডে মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে জনসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার পক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলাদল ও বিএপির দু-তিনটি গ্রুপও ঘুরে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছে। গতকাল আলাপকালে ময়না জানান, দুর্যোগ ও বিপর্যয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিক কারণেই তার অভ্যাস হয়ে গেছে। বিগত এক বছর লকডাউনে অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যেও তিনি যথাসাধ্য ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন। অতীতে কাউন্সিল থাকাকালীন স্বাক্ষর নিতে আসা কোন মানুষ তার দুয়ার থেকে ব্যার্থ মনোরথে ফিরে যায়নি। তিনি মনে করেন, দলমত ও জাতীধর্ম নির্বিশেষে সকলেই একজন পরীক্ষিত উন্নয়ণ কর্মী হিসেবে তাকে ভোট দেবে। এক প্রশ্নের জবাবে ময়না বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি বিন্নী ও পপি রাণী সরকারের মধ্যে কাউকেই খাটো করে দেখেননা। মনে করেন, দুজনই যথেষ্ট যোগ্য প্রার্থী।


