Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ন্যায়ের পথে থাকতে চাই : আইভী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৫ পিএম

ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ন্যায়ের পথে থাকতে চাই : আইভী

গতকাল আলী আহাম্মদ চুনকা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দেওভোগে নিজ বাসভবনের পাশে বৃহত্তর দেওভোগবাসীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

Swapno

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ২০০৩ এর ১৬ই জানুয়ারি আমি চেয়ারম্যান  নির্বাচিত হয়েছিলাম অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে। যারা আমার পাশে ছিলেন আমি কাউকেই ভুলিনাই, সেসময়কার কথা। কিন্তু আজকে নাম বলতে চাই কিন্তু কারো নাম বাদ পরলে আপনারা আবার কষ্ট পাবেন। এজন্য আমি কারো নাম বললাম না। কিন্তু আমার মনে আছে কার আমার পাশে ছিলেন কারা ছিলেন না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। রাজনৈতিক ভাবেই হোক বা সামাজিক ভাবেই হোক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনের হাত অনেক থাকেন। দলেরও অসম্ভব অবদান থাকে। যদি সেই এলাকাতে  বা ওয়ার্ডে তার জনসমর্থন না থাকে ওই প্রার্থীর দাম বা মূল্যায়ন করতে চায়না। আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকা বরাবরি দেওভোগ বাসীর পাশে ছিলেন। দেওভোগ বলতে কিন্ত আমি ১ নং বাবুরাইল ২ নং বাবুরাইল, আমি সকলকে বুঝাচ্ছি। আমার বাবার ধারাবাহিকতায় হাত ধরেই উনি আমাদের ছোটবেলায় যা শিখিয়েছেন সেটার হাত ধরেই আমি চেষ্টা করি হয়তো আমি আলী আহম্মদ চুনকার মত পারবোনা কারণ তার মত হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু আমরা সব ভাইবোন রাই চেষ্টা করি আমার বাবা যা করেছে সে কাজটি করার জন্য। তো ২০০৩ থেকেই ধারাবাহিকতা আমি আপনাদের সাথে মতবিনিময় করি। এবং আপনাদের অনুমতি নিয়েই আমি অন্য ওয়ার্ডে মত বিনিময় করতে যাই।



শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে দেওভোগে নিজ বাসভবনের পাশে বৃহত্তর দেওভোগবাসীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। আলী আহাম্মদ চুনকা ফাউন্ডেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।


 মেয়র আইভী বলেন, ২০১১যখন আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল সেই কঠিন সময়ে আমার মায়ের কথা না বললেই নয়। যখন আমি বললাম আমি আর নির্বাচন করব না কিন্তু আমার মা তখন আমাকে বলেছিল যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে গেলে তোমাকে নির্বাচন করতেই হবে এখানে কোন দ্বিধাদ্বন্দের অবকাশ নেই। তিনি বলেন, আমি মার কথা অনুযায়ী আপনাদের সবাইকে ডেকে আপনাদের মতামত নিয়ে সে সময় আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম ১ ভোট পেলেও আমি নির্বাচন করব সে নির্বাচন ছিল আমার অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন, সন্ত্রাসের প্রতিবাদে চাঁদাবাজের প্রতিবাদ। সে দুঃসময় সমগ্র দেওভোগ বাসী,কেউ সামনে এসেছিল কেউ সামনে আসতে পারিনি। কিন্তু আপনারা সবাই আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন দোয়াত কলম। এবং দেওভোগ এর ভোট কেন্দ্রগুলো দেখলেই বুঝা যায় যে কি পরিমান ভোট শুধু দেওভোগ না পাইকপাড়া তে ৯২% ভোট ছিল দোয়াত কলম। এই কথাগুলো একদম সত্য যে আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আপনারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তদ্রুপ আমি এই দেওভোগের ইজ্জত রক্ষা করে আমি সমগ্র নারায়ণগঞ্জে কাজ করেছি। আপনারা গর্বের সহিত বলতে পারেন আপনাদের সন্তান মেয়র, আপনাদের বোন মেয়র, আপনাদের ভাগিনি মেয়র আপনাদের আমি। এবং ২০১৬ তেও আমি এখানে নির্বাচন করেছিলাম। আমি তখনো বলেছিলাম এবার হয়তো আমি করবো না। আমার মনে আছে এখনো সেই দিন আমার রাসু কাকা আজকে অসুস্থ আসতে পারে নাই। বলেছিলেন না করতে পারবোনা তোমাকে করতেই হবে নৌকা দেক বা না দেক। আমি বলেছিলাম, না। নৌকা দিলে আমি নির্বাচন করব না দিলে করবো না কারণ আমি একটা দল করি। দলের শৃংখলার প্রতি আমাকে সম্মান দেখাতে হবে। সেদিনও জনো নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা তুলে দিয়েছিল। সেই নৌকার নির্বাচন আপনারা করেছেন। দেওভোগ এর লোকজন দলের ঊর্ধ্বে নির্বাচন করে। এখানে লোকজন যখনই আমি নির্বাচন করেছি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সকল দলের কথা ভুলে গিয়ে আইভী বলেন, বৃহত্তর এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে আপনারা সব সময় আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এজন্য কৃতজ্ঞ আমি আমার পরিবার আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সমগ্র পথ চলা এই শহরের মানুষ এই এলাকার মানুষ। যদিও আমি অনেক সময় আপনাদের সময় দিতে পারি না কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় বিভিন্ন কারণে আপনাদের সময় দেওয়া হয় না। হয়তো অনেকের আক্ষেপ আছে, আইভীত সময় দেয় না। আমি সর্বক্ষণিক কাজ করেছে যদি না করতাম তাহলে আপনারা বলতে পারতেন না যে নারায়ণগঞ্জ শহরে এত কাজ হয়েছে। যদি আপনাদের নিয়ে আমি শুধু মিটিং করতাম মিছিল করতাম গল্প করতাম তাহলে আমি এত কাজ করার সময় পেতাম না। এখন যদি আপনারা যেখানেই যান নারায়ণগঞ্জ কেন নারায়ণগঞ্জ শহরের বাইরে ও যান যে আমাদের মেয়ে আমাদের বোন আমাদের সন্তান আমাদের শহরে এই কাজটি করেছে। সুতরাং আমি সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আপনারা জানেন যে আমাদের দল অনেকটা আগেই সিদ্ধান্ত করে দিয়ে দিয়েছে। আমি এবারও বলেছিলাম দল যদি আমাকে নৌকা দেয় তবে আমি নির্বাচন করব, দলের কথা অমান্য করে আমি কোন নির্বাচন করবো না। আল্লাহর অশেষ রহমত জনো নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নমিনেশন বোর্ড আমাকে নির্বাচিত করেছে। নৌকা দিয়েছে, আমি দলের থেকে নমিনেশন পেয়েছি। আমার দলের সিনিয়র নেতারা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন আপনারা ইতিমধ্যেই জানেন আমাকে জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থন জানিয়েছেন। এখানে উপস্থিত উপস্থিত আছেন মহানগর  আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আনোয়ার সাহেব।



আইভী বলেন, দলের সর্বপ্রথম উনারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগ আমাকে সমর্থন দিয়েছে পরে যুবলীগ সকল অঙ্গ সংগঠন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু আমার দেওভোগ বাসীর সাথে বসা হয়নি। আমি অপেক্ষা করছিলাম আমি দেওভোগে আপনাদের সাথে কথা বলে সাতাশটি ওয়ার্ডে আমার কর্মকাণ্ড শুরু করব। এজন্যেই আপনাদের আসতে বলেছি অথবা আপনারা আমার ডাকে সাড়া দিয়ে এখানে এসেছেন। আমি আপনাদের কাছে আসলে দোয়া চাই এবং আমি যে প্রার্থী হলাম সেজন্য আপনাদের যা করণীয় আপনাদের সন্তান আপনাদের বোন আপনাদের মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে কাজটি আপনারা করবেন এবং কিভাবে করলে ভালো হয়, যেহেতু আমরা বিগত সময়ে তিন তিনটা নির্বাচন করেছি এবারও নির্বাচনে আমার পাশে থাকবেন। দেখেন আমরা অনেক কঠিন সময় পার করে এসেছি এবার যে কঠিন হবে না তা নয়। এত বেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে যে আমি একটা সাধারণ কথা বলছি দলীয় সেই কথা কেউ কাট করে কথার আগে পিছে বাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে। আমার মনে হয় কথা বলাই একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। যে আমি যাই বলি না কেন ওই কথাগুলিকে বিকৃত করে ওই কথা গুলিকে বিভিন্ন ভাবে আঘাত করা চেষ্টা করে।  বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাত করার জন্য একটা গ্রুপ একদম সোচ্চার হয়ে আছে মিডিয়ার। আইভী বলেন, এবং এই মিডিয়াকে ব্যবহার করে কতিপয় লোক মনেহয় তাদেরকে এসাইনমেন্ট কেও দিয়েছে যে কিভাবে আমাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যায়। ধর্মীয় কিছু তুলে আনা যায়। বিভিন্ন ভাবে কথা গুলি বলার চেষ্টা করছে , হয়তোবা সামনে আরো বলবে। তাই আমি আপনাদের বলতে চাচ্ছি কোন ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়বেন না। আপনারা ছোটবেলা তেকে আমাকে চিনেন জানেন , আমার বাবাকে চিনেন , আমার চোদ্দ গুষ্ঠিকে চিনেন। আমরা আল্লাহ ওয়ালা লোক, আমরা আল্লাহ রাসুলের লোক, আমরা পীর মুরমিদদের খেদমত করি। এটার সাথে আমি কোনদিনও কোন কম্প্রোমাইজ করবো না। আমি অবশ্যই সুন্নিয়াতের লোক এবং আমি অবশ্যই পীর মুর্শিদের সম্মান করি। আমি অন্য তরিকার লোকজনদেরও সম্মান করি।আমি তবলিক জমাত সম্মান করি। প্রত্যেকের তরিকা আলাদা কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য একটাই সেটা হল আল্লাহকে পাওয়া। যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য একটাই আল্লাহকে পাওয়া যা ইচ্ছে তাই তরিকায়ে করুক না কেন আমাদের উচিত সবাইকে সম্মান করা। কিন্তু কেউ যদি আমাকে এভাবে ধর্মীয় ভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করে সে বিচার আপনাদের কাছে রইল।


আইভী বলেন, আমি শেষ করার আগে বলি নির্বাচন যেই করুক না কেন আমাকে তার সাথেই নির্বাচন করতে হবে। যদি মনে করি নির্বাচন খুব হালকা সেটা মনে করার কোনো অবকাশ নেই নির্বাচনকে আমাদের সিরিয়াস ভাবে নিতে হবে। এখানে আমার অনেক বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলি আমরা আচরণবিধি লঙ্গন না করি। আমরা জানি দলীয় পক্ষে যে থাকে তার বদনামটা বেশি থাকে। কোন অবস্থাতেই আপনারা ২৯ তারিখ পর্যন্ত নৌকার স্লোগান দেবেন না কোন আচরণ বিধি লংঘন করবেন না। কখনোই করিনি এবারও করতে চাইনা। ষড়যন্ত্রতা যেহেতু গভীর হতে যাচ্ছে তাই আপনাদের দোয়া চাচ্ছি।


আপনারা যেন আমাকে সর্বক্ষণ দোয়া করেন আমি যেন এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকি। নারায়ণগঞ্জ জুলুম অত্যাচার অভিযোগের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করার জন্য আমার যেট করণীয় আমি যেন সেটা করতে পারি।আমি জানিনা আমি বাবুরাইল খাল খনন করে ভুল করেছে কিনা কিন্তু অলরেডি বলা হচ্ছে বাবুরাইল খাল নাকি জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।  কিন্তু আমার মনে হয় বাবুরাইল খাল খনন করে আমি সঠিক কাজ করেছি। আমার সাথে প্যানেল মেয়র ওবায়দুল্লাহ সাহেব ছিলেন। শেখ রাসেল পার্কে দেখবেন দলমত নির্বিশেষে সকলেই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। যখন রেলওয়ে আমাদের বাধা দিয়েছিল। বৃহত্তর দেওভোগের এটাই একটা বৈশিষ্ট্য। যে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই এক হয়ে প্রতিবাদ করতে পারে। আমরা আমাদের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাই। আমরা অন্য দল করতেই পারি তা আমাদের ব্যাক্তিগত ব্যপার। কিন্তু আমরা আমাদের এলাকার স্বার্থে দৃড়তার সাথে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে জানি। আমরা ভয় পাই না আল্লাহকে ছাড়া আমাদের উপর যত জুলুম হোক না কেন আমরা রুখে দাঁড়াবো। আমরা অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো এই চরিত্রটা যেন আমাদের সব সময় থাকে। আমরা যেন কারো সাথে কম্প্রমাইজ না করি আমরা যেন নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে স্বোচ্চার থাকি।


এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, খবির উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, সাবেক প্যানেল মেয়র ওবায়দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি আহাম্মদ আলী রেজা রিপন, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল, সহসভাপতি কামরুল হুদা বাবু প্রমুখ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন