Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

আকরাম ঝড়ে বাঁকা চোখ

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২০ পিএম

আকরাম ঝড়ে বাঁকা চোখ
Swapno

 

# আকরাম তখন আওয়ামী লীগের ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগের কেউ না
# এ সমর্থনের মাধ্যমে মহাভারত জয় করে ফেলবেন এমন কিছু নয় : জাহাঙ্গীর আলম
# তিনি রাজনৈতিকভাবে একজন বিভ্রান্ত হওয়া ব্যক্তি : সুফিয়ান
# তৈমূর হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতেই থাকে : আসাদুজ্জামান আসাদ
# আমি লোক দেখানোর জন্য আসি নাই, সকলের সন্দেহ দূর করার জন্য এসেছি : আকরাম

 
রাখঢাক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর নির্বাচনে মেয়র পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে মাঠে নামলেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এসএম আকরাম। বেশ কিছুদিন ধরে নাসিক নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে এসএম আকরামের সমর্থনের বিষয়টি প্রচার মাধ্যমে আসলেও তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে। একদিন আগেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে দেখেছ (তৈমুরের সমর্থক হিসেবে তার পাশে) ? যখন দেখ তখন প্রশ্ন করিও। তার একদিন পর অর্থাৎ গতকালই তিনি ঘোমটা খুলে প্রকাশ্যে এসে তিনি তৈমুরের পক্ষে অবস্থান নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আকরাম। ২০১১ সালে নাসিকের প্রথম মেয়র নির্বাচনে যখন তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ছিলেন তখন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছিলেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েও নারায়ণগঞ্জের প্রভাশালী আওয়ামী লীগের নেতা ও সাংসদ শামীম ওসমান ধরাশায়ী হয়েছিলেন আইভীর কাছে। তবে এবারের নির্বাচনে সেই আকরামের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুরকে সমর্থন দেয়াকে কোন গুরুত্ব দিতে রাজি নন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সমর্থকরা। যেহেতু তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না, ২০১১ এর নির্বাচন আর এবারের নির্বাচনে বিস্তর পার্থক্য আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তার এই সমর্থন এই নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন তারা।
 
রোববার কদমরসূল দরগাহ জিয়ারত শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসিক নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে সমর্থন দিয়ে এসএম আকরাম বলেন, আমি লোক দেখানোর জন্য এখানে আসি নাই। আমি সকলের সন্দেহ দূর করার জন্য এসেছি। আমি তৈমূরের পাশে আছি। এটা সকলকে বুঝাতেই আজকে এখানে আমি এসেছি। তৈমূর নির্বাচিত হোক এটা আমার একান্ত কাম্য। দীর্ঘদিন পর আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আমরা এখন প্রমাণ করতে চাই বর্তমান সরকার স্বৈরতান্ত্রিকপন্থায় ক্ষমতায় আছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিগত দিনে কি হতো সেটা সবাই জানে, খোদ প্রধানমন্ত্রীও জানেন। যারা আওয়ামী লীগেরও বিবেকমান আছে, দেশের ভালো চান আমি তাদের বলছি দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন।
 
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সমর্থন যার যার ব্যাপার, আকরাম সাহেব আওয়ামী লীগ করেন না, তিনি কাকে সমর্থন দিবেন তা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে আমাদের কিছু বলার নাই। যখন আইভীকে সমর্থন দিয়েছেন তখন তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ছিলেন। তার সমর্থনে আমাদের কিছু আসে যায় না। এর মাধ্যমে মহাভারত জয় করে ফেলবেন এমন কিছু নয়। নারায়ণগঞ্জ বাসী দেখে-শুনে যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দিবেন। ইনশাল্লাহ আমাদের জয় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের কেউ তৈমুরকে সমর্থন করে কিনা আমরা সময় আসলে দেখব।’
 
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে মেয়র পদে আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী একমাত্র আইভী। স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আকরামের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে একজন বিভ্রান্ত হওয়া ব্যক্তি। ওনি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিকল্প ধারা, কখনো গণফোরাম কখন কোন জায়গায় থাকে তার তো ঠিক নাই। ওনি বয়স্ক লোক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, ওনি কি কারণে কি করেন সেটা ওনিই ভাল জানেন। তিনি বলেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বিজয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।’

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ যুগের চিন্তাকে বলেন,  ‘এসএম আকরাম নিয়ে বলার আগে আমি বলতে চাই তৈমূর সম্পর্কে। তৈমূরের পুরো জীবন হটকারীতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সে বিভিন্ন সময় হঠকারী নজির স্থাপন করেছে। সে একসময় ৭৮ সালের দিকে স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী প্যান্ডেলের আগুন দেয়ার মামলায় সে পলাতক ছিলো। তার বাড়ি ক্রোক করেছিল, আমরা মিছিল নিয়ে তার ওই আদেশ বাতিল করাই। ৮৫ সালের দিকে রামকৃষ্ণ মিশনে, নিমতলা পূজা মন্দিরে সে আক্রমন করেছিল, মূর্তি ভেঙেছিল। এমন হঠকারী কর্মকাণ্ডের নজির অনেক। যার কারণে সে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কয়েকবার দাঁড়িয়ে বারবার সে ফেল করেছে, বার কাউন্সিলে দাঁড়িয়েও সে ফেল করেছে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে কোন কাজ করেনাই, এই জেলার ছেলে পেলেদের কোন কাজ দেয় নাই। হঠকারী কর্মকাণ্ড ছাড়া সে নারায়ণগঞ্জবাসীর কোন কাজে লাগে নাই কখনোই।’
 
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার। দলীয় নেতাকর্মীরা পাশে না থাকলেও শোনা যাচ্ছিল এসএম আকরাম তৈমূরের পাশে এবারের নির্বাচনে সমর্থন দিতে পারেন। কিন্তু সেটিই সত্য প্রমাণ করেছেন এসএম আকরাম। ২০১১ সালে ৩০ অক্টোবরের নির্বাচনে তখনকার স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন এসএম আকরাম। যদিও আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারেন শামীম ওসমান। সেই নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তিনি বসে পড়েন। নির্বাচনে তিনি প্রায় ৭ হাজার ভোট পান। এরপর স্বেচ্ছায় জেলা আওয়ামী লীগের পদ ছাড়েন এসএম আকরাম। এরপর ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এসএম আকরাম। কিন্তু তিনি পরাজিত হন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হন সাবেক সাংসদ আবুল কালাম। এসএম আকরামই একমাত্র প্রার্থী যিতি স্বতন্ত্র, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। সাবেক এই আমলা একজন স্বজ্জন এবং পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এদিকে প্রায় ১৮ বছর ধরে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ৮ বছর এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী। সবসময়ই তিনি এসএম আকরামের অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এসএম আকরামের পক্ষে দলীয় সমর্থন বিবেচনায় পাশে থাকেনি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন