Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

আইভীকে জয়ী করার মিশন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৩ পিএম

আইভীকে জয়ী করার মিশন
Swapno

# বিজয় সমাবেশে শুধু আইভী বন্দনা
# শুনলাম কি আর এসে দেখলাম কি।
#বিএনপি প্রার্থী তার লেভেল বদলে নিরপেক্ষ : নানক
# গোয়েন্দা রিপোর্টে ৬৭ ভাগ মানুষ আইভীর নৌকায় ভোট দিবে  : রহমান
# বোরকা পড়ে এসেছে, বোরকা পড়ে চলে যাবে : আহমদ হোসেন
# আইভীকেই জয়ী করুন : মির্জা আজম

 

একসময় মনে করা হত নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের ঘাঁটি মানেই আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেদিন যে অনেক দিন আগেই ফুরিয়ে গেছে তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আইভীকে সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে তাকে যে কোন মূল্যে জয়ী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আর তা বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে আইভীকে জয়ী করার মিশন শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

 

গতকাল বিকেল তিনটায় শহরের দেওভোগ শেখ রাসেল নগর পার্কে  জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিজয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও টের পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জে আইভীর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তাই তো একেবারে স্পষ্টভাষায় বিজয় সমাবেশে আইভী বন্দনাতেই মাতলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আবারো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা হুঁশিয়ার দিয়ে জানান দিল, আওয়ামী লীগে কেউই অপরিহার্য নয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বাইরে গেলে তাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া হবেনা।

 

বিজয় সমাবেশের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক অনুপুস্থিত আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পা দেবেননা। আবারও বলি, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমি, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাসিম অপরিহার্য বিষয় নয়। অপরিহার্য হল শেখ হাসিনা, অপরিহার্য হল দল। নানক স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী বলতে চান তিনি নিরপেক্ষ, তিনি তার লেভেল বদলে ফেলেছেন। তিনি দলবিহীন প্রার্থী। এটি তাদের আরেকটি কৌশল। এটা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভীকে জয়ী করতে হবে। কেন্দ্র কমিটির দায়িত্ব হল বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আইভীর জন্য ঘরে ঘরে ভোট চাইতে হবে।’  প্রধান অতিথি আরো বলেন, দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে সেটি যেন প্রতিহিংসায় পরিণত না হয়। গতবার আইভী জিতেছে আশি হাজার ভোটে এবার লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হবে আইভী।

 


আইভীর পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিজয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট থেকে জানতে পেরেছিন সিটির ৬৭ ভাগ মানুষ আইভীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত। কোন অপশক্তি আইভীকে পরাজিত করতে পারবেনা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির তার মার্কা ধানের শীষ। তিনি অন্য মার্কা নিয়ে মানুষের চোখ ফাকি দিতে চান। কিন্তু ফাঁকি দিতে পারবেনা।

 


বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি নাকি নির্বাচনে আসবে না এখন বোরকা পরে এসেছে এবং বোরকা পরে চলে যাবে। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যার পরে এমন হারা হারবে, হারার পরে রাতের গল্প বানাবে। বিএনপি রাতের গল্প বানায় আর আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা রাতের না দিনের গল্প বানায়। জিয়াউর রহমান রাতের গল্প বানিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কণ্যা নির্বাচন করে দিনে ক্ষমতায় আসছে।


তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন,  শুনলাম কি আর এসে দেখলাম কি। এই যে মিছিল পদ্মার স্রোতের মতো আসতাছে , পদ্মার স্রত সাগর হয়ে গেছে। নাম নাম বলেন আইভী আইভী। এই দিনের বেলা সূর্য্য উঠে পৃথিবীকে আলোকিত করে না, আর রাতে যে চাঁদ উঠে অন্ধকারকে কি আলোকিত করে না। আইভী হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সেই চাঁদ, চাঁদ। ১৬ জানুয়ারি মানে বিজয় বিজয় বিজয়। আইভীর বিজয়, শেখ হাসিনার বিজয়, নৌকার বিজয়।


আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি বলতে চাই আপনারা আগামি ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে কাকে ভোট দিবেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ভোট দিবেন না, নাকি ওই ৭১ ও ৭৫’র ঘাতক ও ২০০৪ সালের ঘাতকদেকে আপনারা ভোট দিবেন। আমার বিশ্বাস আপনারা শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থী আইভীকে ভোট দিয়ে আপনারা জয়যুক্ত করবেন। আমি আপনাদের কাছে সেই প্রত্যাশাই রাখছি।’


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সময় মতো এক হয়ে যায়। বিশ বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ একসাথে কোন সভা করে নাই, কিন্তু আজ আপনাদের দোয়ায় ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সব নেতাকর্মী এক মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। আজ বিজয় দিবসের ৫০ বছরের পুর্তি উপলক্ষে বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১৬ই জানুয়ারী আপনারা আরেকটি বিজয় সমাবেশ পালন করবেন। আগামী ১৬ জানুয়ারী নৌকায় ভোট  দেয়ার মাধ্যমে আরেকটি বিজয় সমাবেশ করতে চাই। নির্বাচনের আচারণ বিধি মেনেই আমরা আজকের এই বিজয় সমাবেশ পালন করেছি।’



এদিকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের উত্তর মেরুর হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানের নেতৃত্বাধীন বেশ কিছু নেতা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেনি। তাদের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র। নারায়ণগঞ্জে গত ১৫ বছরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এতো বড় সমাবেশ আর লক্ষ্য করেনি। আওয়ামী লীগ ও তার নেতারা যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মোটেও খাটো করে দেখছে না তা এবার পরিষ্কার হল। আওয়ামী লীগের যে অংশটি এখনো যোগ হয়নি তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চোখ রাঙানি অতিক্রম করে উল্টাপাল্টা কিছু করার সাহস দেখাবেনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেন্দ্রীয় নেতারা তো বলেই গেলেন, যত বিভেদ ছিল তা ঘুচিয়ে আওয়ামী লীগের মহানগর ও জেলার নেতাদের এক মঞ্চে তারা নিয়ে এসেছেন। এরপরও ইঙ্গিতে বুজিয়ে দিয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের জন্য কেউ অপরিহার্য্য নয়। আর এটি সেই বিশেষ গ্রুপটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই বিজয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে পুরো আওয়ামী লীগ সরাসরি সিটি নির্বাচনের সাথে যুক্ত হল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের সাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি নামতেও পারবেননা, কেননা  তাহলে তারা যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশনেবেননা বলে জানিয়েছেন, সেই কথার বরখেলাপ হয়। আইভীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সরাসরি মনিটরিং আইভীর জয়যাত্রায় আরো মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



গতকালের বিজয় সমাবেশে  নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার সঞ্চালনায় বিজয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিশেষ অতিথি আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি. এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড. মৃণাল কান্তি দাস এমপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল, আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, সাবেক নারী সাংসদ এড. হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, আবদুল কাদির, আদিনাথ বসু, আসাদুজ্জামানান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ হায়দার আলী পুতুল, যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বলসহ  জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন