Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

দুর্ঘটনার দায় জনপ্রতিনিধিদের

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:২১ এএম

দুর্ঘটনার দায় জনপ্রতিনিধিদের
Swapno

# শহরের তিন রেলগেটে ৯৬ বার সিগন্যাল : আবদুল হাই
# নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে চাই : এড. মাসুম
# তদারকীর ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবসহ বিচারহীনতাই এর জন্য দায়ী : দিপু
# দায়িত্ববানদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব : এড. সাখাওয়াত
# নাগরিকদের কথা না ভাবলে জনগণ এভাবেই জীবন দিতে থাকবে : রফিউর রাব্বি
# সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে : ডিসি



জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় জনপ্রতিনিধিরা। মানুষের জীবনের নিরপত্তা ও মৌলিক অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে প্রশাসনের চেয়েও জনপ্রতিনিধিদের দায় বেশি। জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগের অভাব ও পরস্পরেরর মধ্যে সমন্বয়হীনতার সুযোগে প্রশাসনও দুর্বলতার সুযোগ নেয়, যোগ হয় অবহেলা। আর এর খেসারত দিতে হয় জনগণকে। ছোট কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর নারায়ণগঞ্জ শহরটি সঠিক পরিকল্পনা আর জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে জঞ্জালপূর্ণ একটি শহরে পরিণত হয়েছে। এই শহরের বাসস্টেশন, রেলস্টেশন এখন শহরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া। শহরের ফুটপাতে হকার যেন এক আতঙ্কের নাম। শহরের নব্বইভাগেও বেশি ভবনে নেই কোন পার্কিং সুবিধা, শহরের সড়কগুলোতে অবৈধ স্ট্যান্ডের ছড়াছড়ি, অবৈধ ইজিবাইক-অটোরিক্সার পুরো শহরে দাপিয়ে বেড়ায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান আসেনি। জেলা প্রশাসনের সাথে সিটি করপোরেশন, এক জনপ্রতিনিধির সাথে আরেকজনপ্রতিনিধি এমনকি দপ্তরগুলোরও সমন্বয় নেই। আর প্রতিনিয়ত এর খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণের। ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনার দায় প্রশাসনের আগে বর্তায় জনপ্রতিনিধিদের ঘাড়ে।
   
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শহরের অভ্যন্তরে খুবই দুঃখজনকভাবে যানজটের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনাসহ অনাকাঙ্খিত অপমৃত্যু। এর বেশীরভাগই ঘটছে যথাযথ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে। আর এসব গাফিলতির পিছনে কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরও উদাসীনতা আছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এসব কারণেই ১নং রেলগেটে এই দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত , চাষাঢ়া ডাকবাংলোর সামনে বাবা-মেয়ে নিহত এবং আমলাপাড়ায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের উপর থেকে শাবল পড়ে পথচারী নারীর মৃত্যুর মত ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি প্রত্যেকটি বিভাগ যদি তাদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। জনপ্রতিনিধিরা যদি ঠিক মতো তাদের অধিনস্ত বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সামলাতে পারতো জবাবদিহিতার কারণে প্রত্যেকেই তাহলে সতর্ক হয়ে যেত। এসব ঘটনার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শহরের তীব্র যানজটকেই দায়ী করছেন শহরবাসীসহ সচেতন মহল। আর যানজটের নেপথ্যে যে দুটি কারণকে বেশী দায়ী করা হচ্ছে তাহলো শহরের বেশীরভাগ রাস্তাসহ ফুটপাত অবৈধভাবে ভাসমান হকারদের দখলে চলে যাওয়া আর অন্যটি হলো শহরের চাষাঢ়া থেকে রেল টার্মিনাল পর্যন্ত যে ছয়টি রেল ক্রসিং আছে সেখানে ঘন ঘন ট্রেনের সিগন্যাল পড়া। রেল কর্তৃপক্ষের মতে স্বাভাবিক সময়ে এসব এলাকার প্রতিটি সিগন্যালে দিনে ১৬বার যাওয়া এবং ১৬বার আসা সব মিলিয়ে ৩২বার সিগন্যাল দিয়ে যানবাহন আটকিয়ে দিতে হয়। এর মধ্যে চাষাঢ়া, ২ নং রেলগেট এবং ১নং রেলগেট এর তিনটি সিগন্যালে ৯৬বার শুধু ট্রেনের কারণেই যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। তবে করোনা পেন্ডামিকের কারণে এই সিগন্যাল কমিয়ে এখন ২০ বার করা হয়েছে। যা সীমিত সময়ের জন্য। অন্যদিকে এসব এলাকায় জগণের চলাচলের জন্য না আছে আন্ডার পাস আর না আছে ওভার পাস। যার কারণে প্রতি নিয়ত এখানে যানজট লেগেই থাকে। বেশীর ভাগ সময়ই দেখা রেল লাইনের উপর গাড়ি উঠে যানজটের কারণে আটকে আছে। যে ঘটনার ফলাফল দেখা গেল গত রোববার। রোববার শহুরের ১ নং রেলগেট এলাকায় আনন্দ পরিবহনের একটি বাসকে ঢাকা থেকে নারাণগঞ্জগামী একটি ট্রেন ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও গুরুতর আহত অনেকেই এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন পক্ষ হতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা দিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ হতে ২টি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর বহুতল বিশিষ্ট নির্মাণীধীন ভবনের উপর থেকে শাবল পড়ে মারা যায় জাহানার নামের এক পথচারী নারী। সেই বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজে কোন প্রকার নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন। এমনকি সেসব জায়গায় তদারকের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি বলেও তারা অভিযোগ করেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার ডাকবাংলোর সামনে রাস্তার দিকের বাড়তি অংশটি সরিয়ে নেয়ার দিনের দাবি থাকলেও তা করা হয়নি। আর সে সাথে যানজটতো আছেই। যার জন্য অকালে প্রাণ হারাতে হলো এই দুর্ভাগা বাবা ও মেয়ের। এসব ঘটনা-দুর্ঘটনায় ঘুরেফিরে কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতিই কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর রোববারের ঘটনার সাথে জড়িত যে এলাকাটি সেখানেতো রেল লাইনের উপরে গাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে থাকা এখন নিত্যনৈমিত্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এলাকাটির আশেপাশের নারায়ণগঞ্জের গুরত্বপূর্ণ জনবহুল প্রতিষ্ঠানগুলো। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন, কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ১ নং খেয়াঘাট, দ্বিগুবাবুর বাজারসহ নারায়ণগঞ্জ কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল। অথচ এই এলাকাটিই হচ্ছে সবচেয়ে ঘিঞ্জি এলাকা। সব সময় এর আশেপাশের রাস্তার চার ভাগের তিনভাগই থাকে অবৈধ ফুটপাতের দখলে। এখানে একবার গাড়ি আসতে পারলে সকল প্রকার যানবাহনের চাকাই থেমে যেতে বাধ্য।
 
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আলম দিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তদারকীর অভাব, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং কোন ঘটনা ঘটলে বিচার না হওয়া। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনের সাথে সাথে অবশ্যই জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব আছে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব রাস্তা দিয়ে জনগণের নিরাপদে চলাচলসহ ফুটপাত দখল মুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার তদারকী না থাকায় এগুলের ব্যাপকহারে বাড়ছে। তবে ডাবল রেল লাইন হলে রেলস্টেশন (টার্মিনাল) চাষাঢ়া সরিয়ে আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘাড়ে ব্যথা হলে ঘাড় কেটে ফেলা কোন সমাধান নয়। এসব রেল ক্রসিংগুলোকে কিভাবে নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।’
 
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘এসব ঘটনার কারণগুলো হলো  যেসব প্রশাসন আছে তাদের যে তদারকী করার দরকার সেই তদারকীর অভাবেই এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। একটি ভবন তৈর করতে হলে যেসব নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাজ করতে হয় সেটা করেনি। নারায়ণগঞ্জ শহরের বহু ভবন এভাবে কাজ করতেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, এই শহরটি খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। পুরো শহরে যেসব ট্রাফিক পুলিশ আছে তাদের সঠিক ভূমিকা থাকে না। ১নং রেলগেটে যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে যদি ট্রাফিক পুলিশ থাকতো, রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরাসহ সবাই তাদের  দায়িত্ব ঠিক মত পালন করছে না। সবার মাঝেই মনে হয় একটি অস্থিরতার ভাব বিরাজ করতেছে। তাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব। প্রশাসনের উচিৎ এসব বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়ে এ ধরণের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া। সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, সরকার এত গলা পিটিয়ে বলছে যে অনেক উন্নয়ন করছে অথচ এখানকার রেল লাইন ক্রস এলাকাগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডার পাসের ব্যবস্থাও গ্রহণ করলে এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যেত। অথচ আমাদের এখানে এধরণের কোন ব্যবস্থাই নেই। যদি রেলের ডাবল লাইন হয় তাহলে তা সেটা বর্তমান যে রেল স্টেশন বা টার্মিনাল আছে সেখান পর্যন্ত নেয়া ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যথায় তা মাটির নিচ দিয়ে কিংবা উপর দিয়ে করতে হবে।’
 
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জকে আমরা একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে চাই। ১নং রেল গেট এলাকার যে ঘটনায় ৪ জন মারা গেল এর মধ্যে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে, কারো পা উড়ে গেছে। আল্লাহ না করুক তাদের যেন কিছু না হয়। তিনি বলেন, চাষাঢ়ার ডাকবাংলোর বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার দাবি সেই এরশাদ সরকার আমল থেকেই ছিল। ক্ষমতাচ্যুতির মাসখানেক আগে এরশাদ এখানে যখন এসেছিলেন তখনও তিনি এই বর্ধিত অংশটুকু ভাঙা হয়নি কেন তা জানতে চেয়েছিলেন। সেটা এত বছর পরও করা হয়নি। তিনি বলেন, তোলারাম কলেজের সামনের এই জ্যামের কারণে কলেজ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই কোন দূর্ঘটনায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় ট্রাফিক থাকে আকার অনেক সময় ট্রাফিক থাকে না। এই সমস্যার সমাধান করার তিনি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন,  ট্রাফিক সিস্টেমটা উন্নত করতে হবে। আর হকাররা যেভাবে আমাদের গায়ে হাত তুলেছে, পুলিশ প্রশাসনের উপর হাত তুলেছে, সাংবাদিক পিটিয়েছে। আমার মনে হয় হকারদের আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না, হকাররা সন্ত্রাসী হয়ে যাচ্ছে। ফুটপাত আমার আমার ফুটপাতে আমি হাঁটবো। আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে আমি স্কুলে যাব এটাই নিয়মের কথা। এই নিয়মটা কে দয়া করে বাস্তবায়ন করুন। আজকের এই সুন্দর দিনে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে এই অনুরোধ টুকুরাখবো। আর যদি এটা না হয় তাহলে আমরা একটা প্ল্যান করছি। আমরা অচিরেই সমাবেশ ডাকবো ওয়ালটা ভেঙে ফেলবো। বাস্তবতা হলো এইটা। দেয়াল ভেঙে ফেলবো রাখতে পারবে না কেও। কিন্তু আমরা এটা চাই না। আইন হাতে নিতে চাই না। আমরা চাই সুন্দর আলাপ আলোচনা মধ্য দিয়ে এই জিনিসটা হয়ে যাক।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট জন রফিউর রাব্বি বলেন, ‘শহরে যানজট, অবৈধ পার্কি, ফুটপাতে হকার, ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য এসব প্রশাসন ও  রাজনৈতিক নেতার আর্থিক সুবিধা নেয়ার কুফল। তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় প্রাণ দিতে হয় জনগণের। যতদিন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নাগরিক সুবিধার কথা না ভাববে, ততদিন জনগণ এভাবেই প্রাণ দিতে থাকবে। সম্মিলিত উদ্যোগ না নিলে নাগরিকদের সুন্দর জীবনের কথা না ভাবলে সম্মিলিত প্রয়াসের উদ্যোগ কখনোই দেখা যাবেনা। এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবেনা। সুন্দর শহর গড়তে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’

এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ‘বিষয়টা খুবই মর্মান্তিক। বাসটা এমন জায়গায় ফেঁসেছে যে সামনে বা পেছনে কোন দিকেই যেতে পারছে না। এদিকে ট্রেনটা এসে গেছে। তিনজন মানুষ মারা গেছে এর মধ্যে একটা বাচ্চার মৃত্যু বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। তবে আমরা একটা ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে আগেরটা ভুইলা যাই। খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ঘটনা ঘটলো। গত ১০ ডিসেম্বর এরপর আমলাপাড়ায়  চাষাঢ়া ডাকবাংলো সামনে বাবা-মেয়ে মারা গেল। এর পর ১০ তলা উপর থেকে একটি শাবল পরে পথচারী মহিলা মারা গেল। এখনো এগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হয় নাই। আমরা যেন কোন ঘটনাকে ভুলে না যাই। তিনি রেল স্টেশনটি চাষাঢ়ায় সরিয়ে আনার প্রস্তাব রেখে বলেন, এমনিতেই এখানে অল্প একটু জায়গার মধ্যেই ছয়টি রেল ক্রসিং। তারমধ্যে চারটিই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এক একটি পয়েন্টে যদি দৈনিক ১৬+১৬ অর্থাৎ ৩২ বার গেটের বার ফেলা হয় তাহলে যানজট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে। তার উপর যদি শহরের এই অংশে রেল লাইন ডাবল করা হয় তাহলে সেটা আরো বিপদসংকুল হয়ে দাঁড়াবে। এখানে প্রত্যেকের দায়িত্বকেই গুরুত্ব সহকারে পালন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।’

 জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘পুরো শহরের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য যে সকল সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধানে সমন্বয়ের কাজ চলমান আছে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন