আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩ প্রার্থী লড়াইয়ে নেমেছে। সেই সাথে তারা ৩ জনেই ওই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি হতে চান। আর এজন্য প্রত্যেক প্রার্থী যার যার অবস্থান থেকে রাত দিন প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রার্থীরা বিভিন্ন ভাবে প্রচারনায় নেমেছে বলে জানা যায়।
এর মাঝে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে লাঠিম মার্কা নিয়ে মানুষের কাছে আবারও ভোট চান। সেই সাথে পুনরায় সেবা করার সুযোগ চান ভোটারদের কাছে। অন্য দিকে তার নিকটতম ২ প্রতিদ্বন্ধি নাইম হোসেন মিশাল ঠেলা গাড়ি প্রতীক নিয়ে ভোটারদের ধারে ধারে যাচ্ছে। সেই সাথে তিনি সন্ত্রাস, মাদক এবং সকল ধরনের অপকর্ম কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে এই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী যুবলীগ নেতা সেলিম খানও মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। জনপ্রতিনিধি হতে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে তিনিও।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারি নাসিকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে প্রায় ২ শতাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছে। নাসিক নির্বাচনে ২৭ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৮২ জন প্রার্থী আছে। এছাড়া মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী সাবেক মেয়র আইভি সহ ৭ জন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক প্রার্থী নিজেদের মত করে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটে বাজারে মাঠে ময়দানে এমনকি ভোটারদের বাড়ি গিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় নাসিক ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ প্রার্থীও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। সেই সাথে এবার কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। নির্বাচনে ভোট গ্রহনের দিন পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানাযায়। ১৬ ডিসেম্বর মানুষ যাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে সেই হবে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি। এই লড়াইয়ে কে জিৎবে তা ভোট গ্রহনের দিন ফলাফলের মাধ্যমে জানাযাবে। তার আগ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করে যাবে এই ৩ প্রার্থী। তবে এই ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হতে চাইলেও মানুষ ১ জনকে বেছে নিবে। আর সেই ১ জন ব্যক্তি কে হবে তার জন্য ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে।
নাসিকের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয়রা জানান, আমাদের এই ওয়ার্ডের যাকে দিয়ে উন্নয়ন হবে আমরা তাকেই নির্বাচিত করতে চাই। সেই সাথে মানুষের কল্যানের জন্য কাজ করবে আমরা তাকে ভোট দিবো। কিন্তু কোন মাদক কারবারি, চাদাঁবাজি করে এমন ব্যক্তিকে এই ওয়ার্ডের মানুষ বয়কট করবে। আমাদের কাছে এসে প্রত্যেক প্রার্থী ভোট চাওয়ার পাশা পাশি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা কাকে ভোট দিবো তা মনের ভিতরেই আছে। এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়।
নাসিক ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম খান বলেন, আমি যেদিকে যাচ্ছি সেদিকেই মানুষের একটাই কথা তারা এবার পরিবর্তন চান। সেই সাথে ভোটাররা আমাকে ভোট দিবে বলে আশ্বস্ত করেন। সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শুকত হাসেম শুকুর সাথে আমি বড় ব্যবধানে নির্বাচিত হবো। যার পরিবারের সদস্য বঙ্গবন্ধুর খুনি ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যার সাথে জরিত তাদের মানুষ এবার বয়কট করবে। সাধারন মানুষ চায় উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আমি মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতাছি। আমার বিশ্বাস ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিবে।
এই ওয়ার্ডের আরেক তরুণ প্রার্থী নাইম হোসেন মিশাল জানান, আমি চাই মানুষ সৎ যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুক। আমাদের রাসূল (স.) যখন মদিনায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন তখন তিনি রাতের বেলা মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের সুখ দুঃখের কথা জানতেন। মানুষকে তার কাছে আসতে হতনা। তাই আমাকে নির্বাচিত করলে কোন মানুষকে আমার কাছে আসতে হবে না। আমি তাদের কাছে গিয়ে সেবা দিবো। তিনি আরও বলেন, আমি কাউন্সিলর না জনগণের সেবক হতে চাই। মানুষ ভোটের মাধ্যমে আমাকে সেবা করার সুযোগ দিবে বলে আমি আশাবাদি।
নাসিক ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু জানান, আমি মানুষের জন্য যেভাবে কাজ করেছি সেই হিসেবে ভোটাররা এবারও আমাকে নির্বাচিত করবে। কোন ধরনের অপপ্রচার আমাকে রুখতে পারবে না। করোনার সময়ে অসহায় মানুষের পাশে থেকে আমি সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছি। সেই সাথে মানুষের বিপদে আপদে যখন কেউ এসে আমাকে ডাকে আমি তখন তাদের ডাকে সারা দিয়ে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেছি। এবারও আমি মানুষের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবো বলে বিশ্বাস করি। ভোটাররা ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য আবারও আমাকে চায়। সব কিছুৃ ঠিক থাকলে ১৬ তারিখ আমারই জয় হবে।


