Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

তৈমুরের চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জিতবেন আইভী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:১৩ এএম

তৈমুরের চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জিতবেন আইভী
Swapno

# দশ দিন ধরে পরিচালিত একটি অনলাই জরিপের ফল

নারায়ণগঞ্জে গত দশ দিনে পরিচালিত একটি অনলাইন জরিপে দেখা গেছে এবারও স্পষ্ট ব্যাবধানে নির্বাচিত হচ্ছেন সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

জরিপের প্রশ্ন ছিলো, প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসী আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আপনার সমর্থন কাকে দেবেন? এই প্রশ্ন করে ভোটের ব্যাবস্থা রাখা হয়। এতে দেখা যায় পরিস্কারভাবে দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হচ্ছেন মেয়র আইভী। তিনি পাচ্ছেন ৬৬% ভোট আর এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার পাচ্ছেন ৩৩%।

 

তবে এই জরিপে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাহিরের লোকজনও অংশগ্রহনের সুযোগ ছিলো। তাই ধারনা করা হচ্ছে জরিপটি যদি কেবল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচালনা করা হতো তাহলে ভোটের ব্যাবধান আরো বেশি হতো। অর্থাৎ মেয়র আইভী আরো বেশি ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে থাকতেন। তাই ধারনা করা হচ্ছে এবারের এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র আইভী অতীতের দুই নির্বাচনের রেকর্ডও অতিক্রম করবেন।

 

সম্প্রতি পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে এবং সিটিবাসীর সাথে কথা বলে এমন তথ্যই জানা যাচ্ছে। পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে এবার মেয়র আইভী তৈমুর আলম খন্দকারের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হচ্ছেন। এবার ধানের শীষ প্রতিকও নেই তৈমুরের, এরই মাঝে জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে বেশ বেকায়দায়ই রয়েছেন তৈমুর আলম খন্দকার।


এদিকে এবার মেয়র আইভীকে বেকায়দায় ফেলতে নানা রকম ধর্মীয় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির আর কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছিলো। শ্মশানের মাটি শামীম ওসমানের পূর্ব পুরুষদের কবরে দেয়া অভিযোগ তোলা হয়েছিলো। এখন আবার মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নতুন উস্কানী দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এতো কিছুর পরেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষ মেয়র পদে আইভীকেই ভোট দেয়ার স্বিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। মানুষ এসব মিথ্যা অপপ্রচার বিশ্বাস না করে তারা বরং আইভী এলাকার কি উন্নয়ন করেছেন সেটাই বড় করে দেখছেন। কোনো দিক থেকেই এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে তারা আইভীর চেয়ে যোগ্য মনে করছেন না।


এদিকে প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রথম নির্বাচনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর পর এই সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনে এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খানকে হারান ১ লাখ ২ হাজার ভোটে। তাই এবার প্রশ্ন উঠেছে এবার এডভোকেট তৈুমর আলম খন্দকারকে কতো ভোটে হারাবেন এই আইভী? কতো ভোটে ধরাশায়ী হবেন তৈমুর?


এদিকে গত আঠারো বছরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন এই শহরের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তিন প্রার্থী। আর এবার ধরাশায়ী হওয়ার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে। শামীম ওসমান তাকে মাঠে নামিয়েছেন বলে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক ধারনা রয়েছে। আগামী ১৬ জানুয়ারীর নির্বাচনে তিনিও ধরাশায়ী হচ্ছেন বলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ মনে করেন।

 

এর আগে তিনটি নির্বাচনে মেয়র আইভী যাদেরকে মোকাবেলা করছেন এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান এবং একই দলের অপর সহসভাপতি নূরুল ইসলাম সরদার। এদের মাঝে নূরুল ইসলাম সরদার খোদ বিএনপি সরকারের আমলেই নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপর দশ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে শামীম ওসমান পান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। সেই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

আর ওই নির্বাচনে এক লাখ দুই হাজার ভোটের ব্যাবধানী শামীম ওসমানকে ধরাশায়ী করেন মেয়র আইভী। এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী হন এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান। তিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনেও আশি হাজারের বেশি ভোটে জিতে যান মেয়র আইভী। ফল দেখা যায় বিগত তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেন মেয়র আইভী। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন এবং মেয়র আইভীর চতুর্থ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে এবার মাঠে নেমেছেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি এবার কতো ভোটের ব্যাবধানে হারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শ্যেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন এবার তৈমুর আলম খন্দকারও কম পক্ষ্যে এক লাখ ভোটে হেরে যাবেন। কারন প্রথমত তৈমুর তার দলের স্বিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। থাকছে না ধানের শীষ প্রতিকও। তাই তার পরাজয় হবে আরো বেশি ভোটের ব্যাবধানে।

 

তার কারন হিসাবে সাধারন মানুষ আরো জানায় মেয়র আইভী যে পরিমান উন্নয়ন করেছেন আর কারো পক্ষ্যে এতো উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তৈমুর এমনিতেও তেমন কোনো হেভীওয়েট প্রার্থী নন। তিনি একজন হঠকারী ব্যাক্তি হিসাবে পরিচিত। তিনি তার দলের স্বিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। তার দল বিএনপি বলছে এই সরকারের আমলে কোনো সুষ্টু নির্বাচন হতে পারে না। ভেট ডাকাতদের দল আওয়ামী লীগ। দিনের ভোট রাতে দেয়ার দল আওয়ামী লীগ। এক কথায় জনগনের ভোটের অধিকার হরন করার দল আওয়ামী লীগ। তাই মানুষের ভোটের অধিকার আদায় করার জন্য বিএনপি এখন আন্দোলন করছেন। অথচ সেই দলের একজন জেলা সভাপতি ও উপদেষ্ঠা হয়ে নির্বাচন করছেন তৈমুর।

 

যেখানে তারই দলের আরো তিনজন প্রার্থী দলের সিদ্বান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে গেলেন, সেখানে তৈমুর দলের আন্দোলনের পিঠে ছুড়ি চালাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। তাই এসব কারনে তার পরাজয় এখন নিশ্চিৎ বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল। তাই সবাই এখন বলছেন শামীম ওসমান, সাখাওয়াত আর নূরুল ইসলাম সরদারের পর এবার তৈমুর আলমের পালা। তাই এবার শামীম ওসমানদের ইন্দনে মঠে নেমে নিশ্চিৎ পরাজয়ের মুখে দাবিত হচ্ছেন তৈমুর আলম খন্দকার। আর আইভী আরো একজন হেভীওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করা স্বাদ গ্রহণ করবেন বলেই ধারনা করছেন অধিকাংশ নগরবাসী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন