# অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে : এড. দীপু
# অপশক্তি আছে, নাশকতার আশঙ্কাও আছে : এড. মাসুম
# এধরণের লোক তো নির্বাচনকেই টার্গেট করে : রফিউর রাব্বি
# সব রকমের প্রস্তুতি আছে : এসপি
নাসিক নির্বাচন ঘিরে গত দেড় বছর ধরে হেফাজতের আস্ফালন, দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে মাঠগরম আর হকারদের বেপরোয়া গতির কারণে অস্থির নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আশঙ্কা করেছিলেন বিশিষ্টজনেরা। এদিকে সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে কাউন্সিলর প্রার্থীদের আশেপাশে নানা বিতর্কিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা প্রকাশ্য হয়েছে। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন কাউন্সিলরের পক্ষে কাজ করছে, কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভাড়া করছে। এতে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এদিকে হেফাজতের নামে একটি অংশ ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে কাজ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় হেফাজত তাদের মূল কমিটি বাদে দেশের সকল কমিটি বিলুপ্ত করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে এখনো মেনে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগের একটি অংশ। আওয়ামী লীগের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের উপর ভর করে একটি পক্ষ নির্বাচনে ঘোলা পানিকে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে পারে বলে জানিয়েছে একটি মহল।
সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন আসলেই বেড়ে যায় গডফাদারদের দৌরাত্ম্য। নির্বাচন প্রচার প্রচারণার কাজে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশ মিছিল ও র্যালিতে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় তারা। এবারের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম নয়। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেয়রের নির্বাচন নিয়েও এধরণের গডফাদারদের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। এর মধ্যে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মেয়র প্রার্থীদের মধ্যেও এই উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে বলে জানান তারা। আর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে এধরণের আবাস ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তারা। এরই মধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘শামীম ওসমানের অপশক্তি যতদিন থাকবে ততদিন নাশকতার আশঙ্কা আমরা সবসময় করি। এই কারণেই করি, হকারদের নামিয়েছে কে? দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে কারা নামিয়েছে? সন্ত্রাসী জনপদটা কারা গড়ে তুলেছে। শঙ্কা থেকেই যায়। তারা এমন কর্মকাণ্ড করে যে প্রশাসনকে তারা তুচ্ছ মনে করে। সেক্ষেত্রে আশঙ্কা সবসময় করি যদি প্রশাসন যদি সঠিকভাবে সঠিক কাজটি না করে তাহলে এই অপশক্তি পারেনা এমন কোন কাজ নেই। ইতিমধ্যে তাদের ডালপালা অনেক গজিয়েছে। আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে জনতার শক্তি সবকিছু নস্যাত করতে পারে। প্রশাসনকে সচেতন থাকতে হবে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু যুগের চিন্তাকে বলেন, নাশকতা মামলার আসামিরা, জ্¦ালাও পোড়াও মামলার আসামিরা এখন তৈমূরের পাশে। বিভিন্ন সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও তৈমূরের সাথে। এরা নির্বাচনের নামে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমরা এখন পর্যন্ত সে ধরণের কোন আভাস পাইনি। আমরা মনে করি না এবারের নির্বাচনে এরকম কিছু ঘটবে। তবে হ্যা, নির্বাচন আসলে এ ধরণের পরিবেশ তৈরি করার জন্য একধরণের লোক থাকে। যা গত ২০১৬ এবং ২০১১ এর নির্বাচনেও হয়েছিল। তবে আশাকরি এবারের নির্বাচন সম্পুর্ণ শান্তভাবেই সম্পন্ন হবে।’
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘প্রায় নির্বাচনের সময়ই আমরা দেখি কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়, তারা একটি অরাজকতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চায়, সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ এধরণের অভিযোগ করেনি। আমাদের এখানকার নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সম্পুর্ণ শান্ত আছে। তবে কোন প্রকার উচ্ছৃঙ্খলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তার জন্য আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি আছে।’


