‘ইভিএমকে পরাজয়ের কারণ মনে করেন তৈমূর’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৫ পিএম
# ফলাফল মেনে নিতে পারছেননা তিনি
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে প্রায় সত্তর হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। স্বতন্ত্র প্রাথী হয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদসহ সকল পদ হারিয়েছেন তৈমুর।
এরপরে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচন করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কারচুপির জন্য নিজের পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, বেশকিছু কেন্দ্রে ইভিএম ক্রুটিপূর্ণ ও স্লো ছিল। অনেক লোক ভোট দিতে পারেননি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফলাফল কেন মেনে নেবো? নারায়ণগঞ্জের জনগণ মেনে নেবে না। গতকাল নাসিক নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে পরাজয়ের খবরে শহরের মাসদাইর এলাকায় তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তৈমূর আলম খন্দকার।
এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শ্রদ্ধা জানাই। তারা আমার কাছ থেকে সরে যায়নি। তারা জীবন দিয়ে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাকে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আমার লোকগুলোকে গ্রেফতার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। বাকিটা করেছে নির্বাচন কমিশন।’ বিজয়ী মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিষয়ে আগেও মন্তব্য করিনি, এখনও করবো না। খেলা হয়েছে সরকার বনাম জনগণ, সরকার বনাম তৈমুর আলম খন্দকার। আমি সিটি করপোরেশনের জন্য কী করেছি তা তাকে জিজ্ঞেস করেন।
নারায়ণগঞ্জবাসী এগুলো জানে। বিএনপি আমার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।’ সমর্থন করার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন হেফাজতের মামলা দেওয়া হয়েছে সবাইকে। এদের মধ্যে হিন্দু লোকও আছে। এখন দেখা যায় মুসলমান তো করেই, হিন্দুরাও হেফাজত করে! সকাল থেকে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন্দরের সমন্বয়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় একটা মানুষ স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে কিভাবে ঠিক থাকতে পারে? তারপরও জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
’ প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে সর্বমোট ১৯২ ভোট কেন্দ্রে ৬৯ হাজার ১০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট।


