নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম-২
শফির পরাজয়ের দুটি প্রধান কারণ
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৪৮ পিএম
মাত্র পাঁচ দিন আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সম্পন্ন হলেও ১৪নং ওযার্ডে এ নির্বাচনের রেষ এখনো মিলিয়ে যায়নি। এ ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানের ভাতিজা অর্পণ প্রধান এখনো জেল হাজত থেকে মুক্তি পাননি। গত ১৫ জানুয়ারী রাতে ডিএন রোড থেকে পুলিশ হেফাজতে ইসলামের জালাও পোড়াও মামলায় অর্পণকে গ্রেফতার করে। এ ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকেরা এখন বিচার বিশ্লেষণ ও হিসাব নিকাশ করছে কেন শফিউদ্দিন প্রধান ৪১৬ ভোটে মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে হেরে গেলেন? কেন জয়ের এত কাছে এসেও তিনি এত দূরে চলে গেলেন?
মাত্র ৪১৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন নাসিক ১৪নং ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান। গত ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৬৩ ভোট। এ ওয়ার্ডের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শফির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মনির তাকে মাত্র ৪১৬ ভোটে হারিয়েছেন। নির্বাচন পরবর্তী বিশ্লেষণে শফির এ পরাজয়ের পেছনে প্রধান যে দুটি কারণ উঠে এসেছে তা হলো, নির্বাচনী প্রচারণাকালে ছেলে ও ভাইপোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং ঘণিষ্ঠ বন্ধুদের বিশ্বাসঘাতকতা। শফি প্রধানের ঘণিষ্ঠ কর্মীরা জানিয়েছে এ নির্বাচনে শফির দীর্ঘদিনের বন্ধুু মো. মাসুম আহমেদও প্রার্থী হয়েছিলেন।একই মহল্লা (ডিএন রোড) থেকে দু’বন্ধু প্রার্থী হওয়ায় শফির ভোট ভাগ হয়ে যায়।
তাছাড়া ডিএন রোড থেকে প্রার্থী হওয়া অপর দুই প্রার্থী দিদার খন্দকার ও আলিফ হাবিব জর্দানও শফি প্রধানের ভোটে ভাগ বসিয়েছে। এ ওয়ার্ডে শুধু মাসুম আহমেদ যে ৭শ’ ভোট পেয়েছে তা থাকলেই শফিউদ্দিন প্রধান নিঃসন্দেহে বিজয়ী হতেন। তাই বলা যায়, এক কালের সুহৃদ মাসুমই শফির পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে।।এদিকে, জানুয়ারীর প্রথম নপ্তাহে শফি প্রধানের ছেলে ও ভাতিজা বাহিনী ভুইয়ারবাগে মনিরের উঠান বৈঠকে হামলা চালিয়েছিল।
পরবর্তীতে এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শফি প্রধানকে পুরনো সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে শহরের একাধিক পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় শফির প্রভৃত ক্ষতি হয়। অনেকেই তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ দুটি কারণেই শফি প্রধান এবার ভোট কম পেয়েছে এবং মনির মাত্র ৪১৬ ভোটের ব্যবধানে জিতে যেতে পেরেছে।


