উন্নয়নের পাশাপাশি এবার রাজনীতিও করবেন আইভী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২৭ পিএম
# মেয়রের প্রতি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী প্রবল আস্থা এবং অগাধ বিশ্বাস
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে টানা চার বার নির্বাচিত হয়ে মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। অতীতে এভাবে তার মতো পর পর চারবার এবং এতো বিপুল ভোটে আর কেউ নির্বাচিত হতে পারেন নাই। তাই এই শহরের রাজনীতিতে তিনি নাজিরবিহীন এক নজির স্থাপন করেছেন বলেই মনে করেন সচেতন মহল। আইভীর এবারের নির্বাচনে ইভিএমের কারনে ভোট কাস্ট হয়েছে কম। ইভিএমে যদি ভোট দেয়ার হার এতো স্লো না হতো তাহলে হয়তো আর বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ ভোট বেশি কাস্ট হতো।
কয়েক ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন এমন ভোটারের সংখ্যা মোটেও কম নয়। তাই যারা ভোট দিতে এসেছিলেন তারা সবাই যদি ভোট দিতে পারতেন তাহলে আইভীর সাথে তৈমুর আলম খন্দকারের ভোটের ব্যাবধান হতো অন্তত এক লাখ। তাই টানা চার বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আইভীকে এই শহরের একটি উজ্জল তারকা হিসাবেই আখ্যায়িত করা যায়। তাই এবার উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনীতিও করবেন আইভী। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন আইভী তার কর্ম দিয়ে সাধারন মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।
একদিকে তিনি যেমন এই সিটির উন্নয়নের নিরলস পরিশ্রম করেছেন, অপরদিকে তেমনি তিনি সকল প্রকার অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাই রাস্ট্রের প্রধানমন্ত্রীও বার বার তাকেই এই সিটির মেয়র হিসাবে বেঁছে নিচ্ছেন। তাকে মাইনাস করার জন্য সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গত দশটি বছর ধরে নিরন্তর কসরত করে চলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখন আর শামীম ওসমানকে পাত্তাই দিচ্ছেন না।তাই শামীম ওসমান নানা রকম কিচ্ছা কাহিনীর জন্ম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নজর কারতে চাইছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানকে চিনেন এবং তার এসব নাটক পছন্দ করছেন না। যদিও প্রধানমন্ত্রী বরাবরই বলে আসছেন তিনি পত্রিকা পড়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন না। আগামী দিনে আওয়ামী লীগ করতে হলে দলের চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যানা নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে তারা আগামী দিনে নৌকা প্রতিক পাবে না।
অজনপ্রিয় এবং দলের শৃংখলা ভঙ্গকারীরাও নৌকা প্রতিক পাবেন না। তাই শামীম ওসমানের কপালে যে আগামী নির্বাচনে কি আছে সেটা বুঝা যাচ্ছে। বিপরীতে আইভীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কেমন ধারণা পোষণ করেন সেটাতো বার বার তাকে মনোনয়ন দিয়েই প্রমান দিচ্ছেন। তাই আগামী দিনের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জে আইভীর যে কোনো বিকল্প নেই সেটা প্রমাণিত।
এদিকে এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রথম নির্বাচনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানকে ১ লাখ ২ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর এই সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনে এডভোকেট সাথাওয়াৎ হোসেন খানকে হারান ৮৬ হাজার ভোটে। আর এবার এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে হারিয়েছেন ৬৬ হাজারের বেশি ভোটের ব্যাবধানে। ফলে গত আঠারো বছরে চারটি নির্বাচনে জিতেছেন মেয়র আইভী। আঠারো বছর আগে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে তিনি বিএনপির নূরুল ইসলাম সরদারকে হারিয়েছিলেন ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তখন কেবল নারায়ণগঞ্জ শহর নিয়ে ছিলো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। বন্দর আর সিদ্ধিরগঞ্জ তখন পৃথক দুটি পৌরসভা ছিলো। ফলে দেখা যায় প্রতিটি নির্বাচনে বিশাল ব্যাবধানে তিনি হারিয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকে।
এদিকে এবার তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর নগরবাসী অনেকে জানিয়েছেন তিনি যদি নির্দিষ্ট কিছু কাজ সুন্দর ভাবে সমাধান করতে পারেন তাহলে আগামী নির্বাচনেও তাকে ঠকানো যাবে না। কোনো অবাধ আর সুষ্টু নির্বাচনেই মেয়র আইভীকে হারানো যাবে না। আর এসব কাজের মাঝে রয়েছে কদম রসুল সেতু নির্মান, জন্মনিবন্ধন সমস্যার সমাধান এবং শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান। এছাড়া জনগনের উপর করের বোঝা যাতে আর না বাড়ে এবং কর কিছুটা কমিয়ে কিভাবে সমন্বয় করা যায় এ বিষয়টির উপর জোর নজর দিতে হবে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্থরের সাধারন মানুষ। এদিকে এরই মাঝে তিনি যতো দ্রুত সম্ভব এসব সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানিয়ে যমুনা টেলিভিশনে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি কিভাবে আরো পাঁচ বছর তিনি এই সিটি করপোরেশন পরিচালনা করবেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষ মনে করেন মেয়র আইভী এবার চতুর্থ বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় নগরবাসীর প্রতি তার দায়ি দায়িত্ব আরো অনেক বেড়েছে। তাই আগামী পাঁ বছরে তিনি আরো এমন কিছু করবেন যাতে তার পপুলারিটি আরো বেড়ে যায়।
এদিে নূরুল ইসলাম সরদার, শামীম ওসমান, এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান এবং সর্বশেষ এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার মেয়র আইভীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যাবার পর পরিস্কার করে একটি কথাই বলা যাচ্ছে আর তা হলো মেয়র আইভী যে ভাবে নারায়ণগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন করে চলেছেন এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তাতে তিনি যতোদিন বেঁচে আছেন ততোদিন আর তাকে হারানো অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে মোটেও সম্ভব হবে না। তাই আগামী দিনগুলিতে মেয়র আইভী আরো সতর্কতার সহিত পদ চলবেন বলেই ধারনা করা হচ্ছে।


