সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নবাগত ডিসি
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৪ এএম
‘ফুটপাত হকারমুক্ত, যানজট নিরসন, সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় চাষাঢ়া’
নারায়ণগঞ্জ জেলায় নব-নিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমরা তাঁর সঙ্গী হিসেবে কাজ করছি। দেশ আগাচ্ছে, আমরাও আগাচ্ছি। মুখে এক কথা আর কাজে ভিন্নতার সময় শেষ। আমি যেগুলো বলেছি, বুঝে শুনেই বলেছি।
আমার মুখে যা কাজেও তাই পাবেন।’ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারী) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এটা অস্বীকার করার মতো কোনো উপায় নেই।
আমি নিজেই যখন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢুুকলাম তখন আমার খুব ভালো লাগলো। গতকাল বন্দর গিয়েছিলাম এর আগে গত পরশু আমি রূপগঞ্জের বাণিজ্য মেলায় গিয়েছিলাম। আমি কিন্তু সব জায়গায় যাই। এই জেলার প্রতিটি কোনায় কোনায়ও যাবো। চেষ্টা করবো এবং উদ্যোগ নিবো। জেলা প্রশাসক বলেন, আমি একজন সরকারী প্রতিনিধি। সব কাজ আমি করতে পারবো না কিন্তু সব কাজের উদ্যোগ আমি নিতে পারবো। আমি কোনো কোনো বিষয় হয়তো আপনাকে জানাবো না।
মন্ত্রণালয়কে জানাবো। মন্ত্রনালয় থেকে যদি আরো কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয় হয় সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নিকট চলে যেতে পারে। এ জন্য আমি নিজে সব কাজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না। জেলা প্রশাসক বলেন, যানজট নিয়ে আমি আবার আপনাদের সাথে একদিন বসবো। আমি চেষ্টা করছি পুরো শহরটাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা যায় কি না এবং সিসি ক্যামেরা ভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা? বিশেষ করে চাষাড়ার মোড়টাকে কিভাবে কন্ট্রোল করা যায়। ফুটপাততো পুরোটাই কাপড় ব্যবসায়ী আর ফল ব্যবসায়ীদের দখলে আছে। এই জায়টায় কি করা যায়? কালকেও আমি আমার সহ-কর্র্মীদের নিয়ে শহরে ঘুরেছি। তাদের কোন জায়গাটায় বসানো যায়? এর আগে আপনারা যেমন হকারদের জন্য একটা মার্কেট করে দিয়েছিলেন। সেই মার্কেট তারা অন্য জনকে বিক্রি করে দিয়েছে বা ভাড়া দিয়েছে এরপর আবার তারা বাইরে আসছে।
এখানে যে হকাররা ছিলো তারা দেখলো যে ব্যবসা ভালো। হকার ছিলো বলে ঐ মার্কেটে দোকান পেয়েছে ঐ দোকান ভাড়া দিয়েছে বা বিক্রি করেছে তারপর আবার ফুটপাতে আসছে। এই জায়গাগুলোতেই আমার আপনাদের সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। ডিসি বলেন, খেয়াল রাখবেন সবসময় প্রশাসন ডিসি সব করে ফেলতে পারবে না। পুলিশ সব করতে পারবে না। র্যাব সব পারে না। বিজিবি-আর্মি সব পারে না। শুধু সব কাজ পাড়া সম্ভব যেদিন আমরা সকলে মিলেমিশে কাজ করতে পারবো। এ জন্য যদি আমরা সকলের সহোযোগীতা নিয়ে কাজ করি তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আমি মিটিংয়ে পলিটিকেল নেতাদেরও ঢাকবো।
জনপ্রতিনিধি যারা আছে তাদের সকলকে ঢাকবো। আমি সব জায়গায় যাবো এবং সবাইকে নিয়ে বসবো। তিনি বলেন, বর্জ্যরে বিষয়ে আমার সকল মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি নিজে গতকাল নদীর পাড়ে গিয়েছিলাম পানির দুর্গন্ধে আমার খুব খারাপ লাগছিলো। এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো নদী কিভাবে রক্ষা করা যায়। কিভাবে দখলমুক্ত করা যায়? পানি দূষনের মূল উৎসগুলো কোথায় সেটাও আমরা খতিয়ে দেখবো এবং সরকারকে জানাবো। আশা করছি খুব দ্রুত আপনারা খুব ভালো একটা উত্তর পাবেন। তিনি বলেন, যারা অবৈধ দখল করে আছেন আপনারা দেখেছেন যে বুড়িগঙ্গা যারা দখল করছে তাদের কিভাবে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমরা এখন উন্নত বিশ্বের দিকে দাবিত হচ্ছি তাই অন্যের জিনিস বা জমি দখল করার ট্যান্ডেসি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
এটা নির্মমভাবে করা হবে ভালবেসে নয়। বুড়িগঙ্গার পাড়ে বড় বড় বিল্ডিং অনেক বড় বড় কোম্পানির অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। এখানেও ভাঙ্গা হবে। দয়া করে সেদিনও আপনারা আমার পাশে থাকবেন। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান, নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিউল ইসলাম প্রমুখ।


