দুই এসআই নিহতের ঘটনায় পিকআপ চালানো আসামি গ্রেফতার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলায় পিকআপ ভ্যান কৌশলে পুকুরে ফেলে পালানো আসামি আলমগীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৯ দিন পর বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রামের লোহাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আর বিকালে আলমগীরকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসপি জায়েদুল আলম বলেন, আলমগীরকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাদে বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় পিকআপ ভ্যান পুকুরে পড়ে দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহত হন। আহত হন আরও এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। সেই সময় আসামী আলমগীর নিজেই ছিলেন গাড়ি চালকের আসনে।
নিহতরা হলেন—ফরিদপুরের ভাঙ্গার মুনসুরাবাদ এলাকার কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহমেদ এবং গোপালগঞ্জের ভাটপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম। দুই জনই সোনারগাঁ থানায় এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে—এমন খবরে মেঘনা টোলপ্লাজায় ১৭ জানুয়ারি অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সন্দেজনক একটি গাড়ি থামাতে সংকেত দিলে এক কনস্টেবলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া এলাকা থেকে ৪২ হাজার ইয়াবাসহ আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার গাড়িও আটক করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে আসেন তারা। এ সময় আসামিই গাড়ি চালায়। এসপি অফিসে তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর থানার ফেরার পথে আসামিকে নিয়ে থানায় রওনা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারেন না। তাই আসামিকে দিয়েই গাড়ি চালানো হয়।
সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় গাড়ি থেকে কৌশলে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায় আলমগীর। এরপর গাড়িটি পাশের পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়। এতে দুই এসআই মারা যান এবং এক এএসআই গুরুতর আহত হন।


