Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

পদ হারিয়ে জেলা বিএনপিকে বির্তকিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তৈমুর!

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২৮ পিএম

পদ হারিয়ে জেলা বিএনপিকে বির্তকিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তৈমুর!
Swapno

 

# ইউনিট কমিটি ঘোষণা করার পর জেলা বিএনপিকে বিতর্কিত করতে নানান ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে: মামুন মাহমুদ


 
 বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করে দলের সকল পদ হারিয়ে দিশেহারা বিএনপির বহিস্কারকৃত নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকার। এখন নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপিরকে বির্তকিত করার অচেষ্টায় লিপ্ত। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদের পর হারিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার মতো বড় পদও।

 

 শুধু তাই না হারিয়েছেন বিএনপির আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ সর্বোপরি বিএনপির সকল পদ থেকেই হয়েছেন বহিস্কার। বহিষ্কার হয়ে এখন নিজের অপকর্মের দায়ভার চাপাতে চাচ্ছে অন্যের উপরে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ১০টি ইউনিট কমিটির দেওয়ার পর থেকেই তার অনুসারীদের দিয়ে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছে তৈমুর আলম। কারন  তৈমুর আলম কমিটিতে আহবায়ক থাকালীন সময়ে ১০টি ইউনিট সার্চ কমিটির মাধ্যমে করলেও তার পছন্দের লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদ না আসায় কমিটি দেয়নি। বিগত ছয় মাস ধরেই এই কমিটি প্রস্তুত করা হলোও তৈমুর আলমের ব্যক্তিগত স্বার্থে ও কমিটি বানিজ্য করার জন্য আটকিয়ে দেখেছিলেন এমনটাই জানাগেছে বিএনপির সূত্রে।

 


 সূত্রে জানাযায়, বিএনপি আওয়ামীলীগের সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করবে না। এই সিদ্ধান্ত জানার পরও দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৈমুর আলম। এরপর তাকে বিএনপির দলীয় সকল পদ- পদবী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করা হয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে। ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে নিয়ে কমিটি দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। কিন্তু মনিরুল ইসলাম রবিও তৈমুর আলমের কথা মত চলতে থাকে। তৈমুর আলমের নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জের এজেন্ট হয়ে কাজ করতে থাকেন। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হেফাজতের মামলায় মনিরুল ইসলাম রবি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। তারপর আবারও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিনকে। নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব নিয়েই ২৪ঘন্টার মধ্যে রূপগঞ্জ থানা কমিটি নিয়ে যে সমস্যা তৈমুর আলম করে গিয়েছিলেন তা সমাধার করে জেলা বিএনপির আওতাধীন ৫টি থানা ও ৫টি পৌর বিএনপির ৩১সদস্য বিশিষ্টস আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

 


এদিকে থানা ও পৌরসভা কমিটির গঠনের পর তৈমুর আলমের ব্যর্থ ঢাকতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাসির উদ্দিন ও সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নামে তৈমুর আলম অনুসারীরা বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াছে। তৈমুর আলমের যে কমিটি বানিজ্য করে গেছেন দায়ভার চাপাতে চাইছেন ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাসির উদ্দিন ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের উপর। কিন্তু নাসির- মামুন সাফ কথা কমিটি দিয়েছি যোগ্যতার অনুসারে কোনো স্বজনপ্রীতি করি নাই। সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তিকেই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। বিগত ৬ মাস আগেই ১০টি ইউনিট কমিটির মধ্যে ৯টি কমিটি জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি মধ্যে সার্চ কমিটি করে যার যার দায়িত্ব নিয়ে কমিটি জমা দিয়েছেন। কিন্তু রূপগঞ্জ থানা কমিটি তৈমুর আলম তার পছন্দের লোক ও অনুসারীদের নিয়ে করবেন এর জন্যই আটকে রাখেন।

 

 তৈমুর আলমের জন্যই ইউনিট কমিটি ৬ মাস ধরে কমিটি প্রস্তুত করেও দিতে পারেনি। তার ব্যর্থতা তো তৈমুর আলমকেই নিতে হবে। ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম তার অনুসারীদের দিয়ে নাসির- মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আর কমিটি বানিজ্য সহ নানান ধরনের অপবাদ দিচ্ছে এমনটাই জানাগেছে।

 


এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন,  ইউনিট কমিটি ঘোষণা করার পর জেলা বিএনপিকে বিতর্কিত করতে নানান ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের নামে কমিটি বানিজ্যসহ নানান অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিটি করতে গেলে এমন অভিযোগ আসবেই। কিন্তু সকল কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে আমরা সব গুলো ইউনিট কমিটি দিতে পেরেছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় সফলতা। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যোগ্যদেরকেই কমিটি স্থান দেওয়া হয়েছে। আর কমিটি দিতে গেলে তো সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। ইউনিট কমিটির গুলোর মধ্যদিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি ও দেশের গনতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম আরও জোরদার হবে আমি আশা করছি।

 


উল্লেখ্য, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ২৪ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে তৈমুর আলম খন্দকারকে সরিয়ে দেয় বিএনপি। এ ঘটনার ৯ দিন পর ৪ জানুয়ারি তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচনে হারার দুই দিন পর ১৮ জানুয়ারি তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে দলটি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন