নাসিক নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম-৪
‘তমার চোখের পানিও অবশেষে ব্যর্থ হল’
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:২৫ এএম
# মুক্তিযোদ্ধা অলি ভুইয়াকে ছাপোষা বলে গালাগাল করলো বাবু
# অনেকেই তাদের অবজ্ঞা করে : মন্ত্রী গাজী
১৭নং ওয়ার্ডে আবদুল করিম বাবুর কাছে বীরমুক্তিযোদ্ধা অলিউদ্দিন ভুইয়ার মাত্র দুই হাজার তিনশ’ ৪৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজযের পর এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এলাকাবাসী। এ নির্বাচনে অলিকন্যা তমা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি কেঁদে কেঁদে পিতার জন্য ভোট ভিক্ষা করেছে এক সন্তানের জননী তমা। সে সময় এলাকাবাসী বলেছে, তমার চোখে এত পানি কোথা থেকে আসে। এবার তমার চোখের পানির জন্যই জিতবে অলি ভুইয়া। এলাকার প্রতি বাড়িতে গিয়েই কেঁদেছে তমা। তবে, এলাকাবাসীর এ কথা সত্যি হয়নি। ২ হাজার ৩৪৫ ভোটে হেরে গেছে তার পিতা অলিউদ্দিন ভুইয়া।
এখন সবাই বলছে, বাবুর টাকার কাছে হেরেছে অলি। ভোটের জন্য বাবু এলাকায় নিজের টাকায় পানির লাইন স্থাপন করে বাড়ি বাড়ি খাবার পানি সরবরাহ করেছে। দরিদ্র পরিবারগুলো থেকে জনপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে দিয়ে সে এক একটি ভোটও ক্রয় করেছে। এ ব্যাপারে আলাপকালে অলিউদ্দিন ভুইয়া বলেন, টাকার অভাব এবং নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আমি পরাজিত হয়েছি। এদিকে, এ নির্বাচনের পর বাবু এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে,‘এবারের নির্বাচনে আমাদের ওয়ার্ডের শিল্পপতিরা একত্রিত হয়ে একজন “ছাপোষা” ব্যক্তিকে সমর্থন দিয়েছিল।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে কোন মূল্যে বাবুকে ঠেকাতে হবে। কিন্তু এলাকার খেটে খাওয়া মজদুর, ভালো মানুষ আর গরীবের সমর্থন আমার উপর থাকায় আমি ২০১৬ সালের মতো এবারও দাপটের সাথে নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনের সময় আমাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে মশগুল ছিল একটি মহল। তবে, আল্লার অশেষ রহমতে এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনে আমি বিজয়ী হয়েছি। বড় বড় শিল্পপতিরা নেমেও আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি। বরং তারাই অপদস্ত হয়েছেন। তারা যেসব বিতর্ক উস্কে দিতে চেয়েছিল তাতে সফল হয়নি। নির্বাচনের আগেই আমি বলেছি, আমি লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করি। এ এলাকায় আমার চেয়ে যোগ্য কাউকে পেলে আপনারা তাকেই ভোট দিয়েন। এ এলাকার ৭০ শতাংশ গরীব মানুষ আমাকে গরীবের বন্ধু মনে করেই আবার কাউন্সিলর বানিয়েছে। গরীব মানুষের জন্য এবার এলাকায় আমি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ও কমিউনিটি সেন্টার গড়বো।
বাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন পরাজিত প্রার্থী ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, পানির রাজনীতি ও ভোট কিনে বাবু এবার জয়ী হয়েছে। নির্বাচনের ১৫ দিন আগ থেকে বাবু ভোট কেনা শুরু করে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাবু ও তার ছেলে ৩০ থেকে ৫০ জন করে গরীব মাহলাকে আদর্শ স্কুলের ভিতর ঢুকিয়েছে। বাবু সেখানে প্রত্যেকের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল ফোন নাম্বার নিয়ে তাদের দেড় থেকে দু’হাজার টাকা করে দিয়ে তাদেরকে তাকে ভোট দেয়ার শপথ করিয়েছে।
এদিকে, স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানের দালাল পরিবার সদস্য মাউড়া বাবু কর্তৃক স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বছরে একজন বীর মুক্তিয়োদ্ধার আর্থিক দারিদ্রতাকে কটাক্ষ করে তাকে ‘ছাপোষা’ বলে গালাগালের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করে মুক্তিয়োদ্ধা কমান্ডার সামিউল্লা মিলন ও মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রাজাকার মাউড়াবাবু চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গালাগাল করেছে। এজন্য তাকে বিবৃতি দিয়ে অলিউদ্দিন ভুইয়ার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় এ শহরের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা অচিরেই বাবুকে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।
এদিকে গত ২৭ জানুয়ারী মর্গ্যান স্কুলের এক অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর বিক্রম) আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, মুক্তিয়োদ্ধারা সমাজে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, আর্থিকভাবে বলিয়ান নয়। এই কারণে অনেকেই তাদের অবজ্ঞা করে। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।


