গতকাল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডস্থ নম পার্কে এক সভায় বক্তব্য রাখেন এমপি শামীম ওসমান।
# মনের বিষ চোখের পানি হয়ে বেরিয়ে গেছে
# এনায়েতনগরে নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করতে যাইনি
# কথা বলতে পারিনি, নয়তো আরো ৮/১০ কাউন্সিলর পাশ করতো
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার পর তারপক্ষে শামীম ওসমান ও তার অনুগতরা কাজ না করার অভিযোগ উঠলে চাপে ছিলেন এমপি শামীম ওসমান। পরবর্তীতে প্রেসকনফারেন্স করলেও তার এবং তার অনসারীদের বিরুদ্ধে সন্দেহের তীর ছিল কেন্দ্রের। এরই মাঝে মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয় যেগুলেতে তার অনুসারীদের আধিক্য ছিল। নির্বাচনে আইভী ৬৬ হাজার ভোটের বেশি ব্যবধানে জয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি প্রতীকের বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে কাজ করা নিয়ে ব্যাপক চাপ ও সমালোচিত এমপি শামীম ওসমান। এই চাপ কমাতে হতাশ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে গতকাল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডস্থ নম পার্কে তার অনুসারীদের নিয়ে এক সভার আয়োজন করেন শামীম ওসমান।
দীর্ঘ এক ঘন্টার বক্তব্যে তার অনুসারীদে হঠাৎ করে ডাকা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, সামনে চরম কঠিন পরীক্ষা অতিক্রম করতে হবে। পদ-পদবী বাদ দেন। কমিটির রাজনীতি আমি করিনা। বিশেষ দরকারে আপনাদের ডেকেছি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে একটা নির্বাচন হয়েছে। ছোট্ট একটা সিটি করপোরেশন। মাত্র শোয়া পাঁচ লাখ ভোট। আমার এলাকার তিনটা ইউনিয়নে এর চেয়ে বেশি ভোট আছে। এই নির্বাচন আসলেই চতুর্দিকে খেলা শুরু হয়ে যায়। কেন হয় আমি ঠিক জানিনা। ২০১৬ তে কী করেছি আমি ঠিক জানি, বলবোনা কারণ দলকে ভালবাসি। ২০১১’ তে কী করেছি জানি, বলবোনা কারণ দলকে ভালবাসি। এবারও কী করেছি, আমি জানি, বলবোনা, আমি দলকে ভালবাসি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কেমন জানি সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। একটি রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে গেছে দেখে রক্তক্ষরণ হয়ে গেছে। রাজনীতিতে আমি কষ্ট পাইনা। কবরস্থানের একটি ঘটনা ঘটেছে, যেটি কোন সন্তান মেনে নিতে পারেনা। গত পাঁচবছর আমি কারো বিরুদ্ধে কোন কথা বলিনি। নীলকণ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার অনেক কঠিন রোগ হয়েছিল। ডা. বীরু স্বাক্ষী। আমি শুধু বলেছিলাম ওই ঘটনায় তাদের আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে। আমি সেটুকুও পাইনি, কষ্টটা আরো বেড়ে গিয়েছিল। আমার বাবা মৃত্যুর সময় শেখ হাসিনার হাতে আমাদের তিন ভাইকে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন। সিটি নির্বাচনের সময় আমি হঠাৎ প্রেস কনফারেন্স ডেকেছি। কারণ একটা পক্ষ মাঠে নেমেছে। কারা এরা?
নির্বাচনে তৈমূরকে সমর্থন দেয়া প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, এরআগে বলি কেউ কেউ ফেসবুকে লেখে, আমাকে দিয়ে নাকি সরকার তৈমূর আলম ভাইকে নির্বাচনে দাঁড়া করিয়েছে। কেন? আমি আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই, আমার দল কিংবা আমার নেত্রী কেউই আমাকে এই নির্দেশনা দেন নাই যে, তুমি বিএনপি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে একটা প্রার্থী বানিয়ে দাঁড় করাও। কিন্তু এটা লেখা হচ্ছে। অনেকে বলছে, আওয়ামী লীগ প্রমাণ করতে চায় আওয়ামী লীগ অনেক পপুলার। এতো নিচু চিন্তা আমার মনে হয় জাতির পিতার কন্যার নাই। আমি এটা ক্লিয়ার করলাম।
রাজনীতিতে নোংরামি আছে উল্লেখ করে বলেন, আমি যদি রাজনীতি বুঝে থাকি,তবে বলতে পারি সামনে বড় ধরণের একটা আঘাত আসছে। আওয়ামী লীগের উপরে নয়, বাংলাদেশের উপরে, বাংলাদেশের মানচিত্রের উপরে, আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের উপরে। জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে তারা পেরে উঠছেননা। নেত্রীর উপর আঘাত যখন এসেছে তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।
নারায়ণগঞ্জে গত ১৫দিনের কর্মকাণ্ডে তার অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, অনেকে অসম্মান, অপমান হয়েছে। কেউ কেউ কান কথা বলেছে, কান কথা শুনেছে। সময় আসতেছে, সাচ্চা আওয়ামী লীগারদের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ও লোকাল একটা পলিটিক্স আমাদের উপর আসছে। হয়তো আগামী এক দুই মাস কিংবা জুলাইয়ের মধ্যে আঘাত করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু জিততে পারবেনা। গত কয়েকদিন আমার মধ্যেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি জানি আমি ইচ্ছে করলে কী করতে পারি। আমি ব্যক্তি শামীম ওসমান হিসেবে ডাক দিলে দুইচার লাখ লোক আসবে। প্রচণ্ড কষ্ট লেগেছে আমার মনে। কিন্তু সংসদে আমি বসা ছিলাম, হঠাৎ জাতির পিতার কন্যা তার বক্তব্য শেষ করে আমার দিকে ঘুরে বসে বললেন, স্পেশাল থ্যাংক্সস টু ইউ। পরে তিনি বললেন, শামীম ওসমানকে স্পেশাল থ্যাংক্সস। আমি আমার কষ্টের কথা বলেছি। তিনি আমাকে শান্তনা দিয়েছেন। আমার ভেতরে যে কষ্টের বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল, আমি যখন তার কাছে গেলাম, তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলেন। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে, আমার ভিতরে যে বিষাক্ত জিনিসটি ছিল সেটি চোখের পানি হয়ে বেরিয়ে গেছে।
শামীম ওসমান নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জকে টার্গেট করা হয়েছে দাবি করে বলেন, ছোট্ট একটা নির্বাচন। আমি এমপি হিসেবে প্রেসকনফারেন্স করেছি। ইউপি ইলেকশনে কোথাও যাইনি। এনায়েতনগরে গেছি, কারণ শুনেছি ওখানে অনেক গেম খেলাম হচ্ছে, আমাদের ছেলেদের উপর হামলা হয়েছে, নাটক সাজানো হয়েছিল। আমি অন্য জায়গায় যাচ্ছিলাম ভোট দিতে। আমি তো নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করতে যাইনি। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে অনেকে কান কথা বললেন, কান ভারী করার চেষ্টা করলেন। কষ্ট লাগে, দুঃখ লাগে, আবার হাসিও লাগে, যেই পত্রিকা আমার প্রধানমন্ত্রী বলেন আমি পড়িনা, সেই প্রথম আলো আমাদের নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কীভাবে করতে হবে সেই ট্রেনিং দেয় আমাদেরকে। অবাক লাগে।
শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জকে টার্গেট করা হয়েছে। এখানে কিছু লোকের নাম আমি জানি। উনারা পর্দার অন্তরালে আছেন। একজন আছেন যার বাসায় গোলাম আজম যখন নাগরিকত্ব পায়নি, প্রেসিডেন্ট রোডে তার বাড়ি ছিল। গোলাম আজম প্রথম যখন এসেছিল নারায়ণগঞ্জে তার ওই বাসাটায় ছিল। আমরা তখন ছোট খাটো ছাত্র। আরেকজন আছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী বজলুল হুদার পরিবারিক সদস্য, যেখানে বসে বন্দরে বজলুল হুদা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্ল্যান করেছিল, শুনেছি, সেই পরিবারের একজন লোক, অঢেল টাকার মালিক; তারা ফাইন্যান্স করছে, আমার দলের ভেতরের কাউকে, আবার বাইরের কাউকেও। কেন ? তারা মনে করে ওই শক্তিটাকে সরানো দরকার। মেন্টালি অথবা ফিজিক্যালি। ফিজিক্যালি ২০১১ সালের ১৬ জুন একবার চেষ্টা করেছিল। তারা চেষ্টা করেছে, এদের সরিয়ে দিলে খেলতে সুবিধা হবে। ঢাকা থেকে আঘাত করতে সুবিধা হবে। তাদের প্রোগ্রাম ‘হিট এন্ড রান’। ফান্ডামেন্টালি সব শক্তি নিয়ে ঢাকাকে আঘাত করবে এখানে যাতে কোন বাধা না আসে। এই খেলা খেলার চেষ্টা তাদের ছিল, আছে সামনে আরো বেশি সক্রিয় হবে। যারা এই খেলাটা খেলতে চান তাদেরকে বলি, চলেন, খেলি আমরা। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এইবার কিন্তু খেলার জবাবটা কঠিনভাবে দিব। খুব কঠিনভাবে দিব। আমরা জানি কীভাবে দিতে হয়। সুন্দরভাবে খেলা যায়, ছোটবেলায় কাবাডি খেলা দেখেছি। কাবাডি খেলায় পা দিয়ে গলায় প্যাচ দেয়, তখন দম নিতে পারেনা। আমরা লম্বা লম্বা মানুষ আছি, আমরা কাবাডি খেলতে জানি। খেলা আমরা খেলবো। খেলা হবে। আমরা জিতবো।
শামীম ওসমান তার দাবিটিতে আরো জোর দিয়ে বলেন, আমার কথাটিকে হালকাভাবে নিবেননা। টোপ দিবে। তোমাকে এটা দিব, তোমাকে ওটা দিব। কর্মী থাকেন। সম্মান পাবেন। কর্মীর সম্মান অনেক বেশি। পদপদবীর প্রয়োজন নাই। রাজনীতি করতে এসেছি, রাজনীতি বেচতে আসি নাই। রাজনীতি বেচে খাইনা। আমাদের আরেকবার ক্ষমতায় আসতে হবে এই দেশকে বাচানোর জন্য। নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুতি নেন। ডাক আসলে নারায়ণগঞ্জ থেকে যাতে লক্ষ লক্ষ লোক ভীমরুলের চাকের মতো ঢাকায় যেতে পারে। মান-অভিমান ভুলে যান। যারা চাওয়া পাওয়ার চিন্তা করেন, গিভ এন্ড টেক তারা আমার পাশে থাকবেননা। কোন কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নাই। আমি শুধু রাজনীতি দিতে পারবো।
আইভীর প্রতি ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান বলেন, এইবার আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, অনেকবার আওয়ামী লীগের কথা বলেছেন। বলতে বলতে মৃত্যুর সময় কী বলবেন, সেটাও বলে দিয়েছেন। আমি আশা করি, মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সামনে যে ক্রাইসিস আসছে, আপনাদের রাজপথে পাবো একসাথে মিছিল করার জন্য। পোস্ট-পজিশন চান, নো প্রবলেম। আমাদের এতো পদপদবী লাগবেনা, কর্মী-টর্মি কইরা রাইখেন আপনাদের পাশে। সদস্য রাখার দরকার নাই। জাস্ট রাইখেন। না রাখলেও থাকবো। আমরা দেয়ার জন্য এসেছি, নেয়ার জন্য আসি নাই। দিলে দিছে, না দিলে নাই।
নাসিক নির্বাচনে তার অনুসারী কাউন্সিলদের ভরাডুবি প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমার এবার কষ্ট লেগেছে, খারাপ লেগেছে। আমি এবার কথা বলতে পারিনাই। কথা বললেই সন্দেহের তীর দেওয়া হচ্ছিল। না হলে আমাদের মিনিমাম আরো ৮ থেকে ১০ জন কাউন্সিলর আরো পাশ করার কথা। যাদেরকে ফেল..। না, আমি বলবোনা। যাদেরকে.. যাদের পাশ করার কথা। ব্যস এটুকুই বলবো, আর কিছু বলবোনা। আমি দেখেছি, কিছু কিছু আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা এই সুযোগে নিজের এলাকায় অস্তিত্ব ঠিক রাখার জন্য (ভালো লোক বিএনপির হলেও আপত্তি ছিলনা) সন্ত্রাসীদের এস্টাব্লিস্ট করার জন্য আওয়ামী লীগকে সাইজ করে সন্ত্রাসীকে আপ করেছেন। ইলেকশন শেষ কিন্তু। কর্মীদের নজর আপনাদের দিকে থাকবে, এটা মাথায় রাইখেন। এছাড়া আরেকটি জিনিস হয়েছে, ম্যানেজমেন্টের অভাব। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের দায়ী করতে চাই। আমি দায়ী করতে চাই শ্রদ্ধাভাজন আনোয়ার ভাই, খোকন সাহাকে। উনাদের উচিত ছিল কেন্দ্রের সাথে বাকবিতণ্ডা করে (মূল প্রার্থী হয়তো বলেছে, কাউন্সিলরদের ব্যাপারে কোন কথা বলা যাবেনা) কিন্তু আপনাদের উচিত ছিল বলা, বলতে হবে। কারণ আমি এক জায়গায় থেকে আওয়ামী লীগ করবোনা। আমার প্রত্যেকটা ইউনিয়ন, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে দরকার। তাহলে প্রত্যেকটা জায়গায় শেখ হাসিনার পতাকা উড়তো। তিন চারজন দাঁড়ানোয় প্রত্যেক জায়গায় ভোট ভাগ হয়ে গেছে। রেজাল্ট যা হওয়ার তাই হয়েছে। দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। যারা জিতেছেন, যারা হেরেছেন আপাতত জুন মাস পর্যন্ত আমরা সবাই একটা পরিবার।
শামীম ওসমান বলেন, যারা খেলতে চাইবে। তাদের ঘরে ঢুকে ঢুকে আঘাত করা হবে। ঘরে ঢুকে ঢুকে আঘাত করবো। নেত্রীর দিকে যদি কেউ নজর দেয়। সবাই সবার এলাকা গুছান। মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করেন, মানুষকে কাছে ডেকে নেন। জনগণকে নিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আমি মাঠে নামবো। আমাকে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, সোনারগাঁয়ে ডাকবেন। রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারে ভালো ভালো নেতা আছেন। আমি করতে চাই। এলাকায় এলাকায়, মহল্লায় মহল্লায় পঞ্চায়েত কমিটি করতে চাই। একাধিক পঞ্চায়েত কমিটি হবে। কাজ হবে মানুষকে শান্তি দেওয়া। মাদক-সন্ত্রাস, ইভটিজিং, জঙ্গীবাদ এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। নির্বাচনী জয়টা বড় কথা না, মানুষের মনকে জয় করাটা বড় কথা। সিদ্ধিরগঞ্জের মুজিবুর ভাই আসেননি, উনি কষ্ট পেয়েছেন। কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। কারণ উনার ডানে বায়ের লোকজনও হয়তোবা উনার দড়ি ধরে টান দিয়েছেন। কষ্ট লাগে যখন ত্যাগী লোকেরা কষ্ট পান। আমার কষ্ট সহ্য করতে করতে হজম শক্তি বেড়েছে। আর কয়েকটা মাস কষ্ট হজম করেন। আঘাত আসবে, টাইম ধরে বলতে পারি। কতখানি আসবে তা রণকৌশলের কারণে বলবোনা। সামনের শুক্রবার প্রত্যেক মসজিদের দোয়ার আয়োজন করবেন।
ত্বকী হত্যার বিচার প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমাকে যারা কম পছন্দ করেন। ত্যাগী নেতা রয়েছেন। সবকিছু ভুলে এই সময়টাতে সবাই একসাথে কাজ করি। পোষ্ট-পদবি আপনারা নেন, আমার আপত্তি নাই। এই অনুরোধ জানাই। সামনের ধাক্কাটা আসছে, খুব প্ল্যান মাফিক। ধাক্কা কঠিন হবে। ভাবছিলাম একটা সময় আসলে রাজনীতি থেকে রিট্যায়ারমেন্টে যাবো। আমি এমপি থাকা অবস্থায় সরে যেতে চেয়েছিলাম। আবার আরেকটি আঘাত মোকাবেলা করতে থাকতে হবে। এটা মজাও লাগে। যারা খেলতে চান বাংলাদেশে, নারায়ণগঞ্জে মনে রাখবেন আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। আবার কয়দিন পরে আবার নাটক শুরু হবে। দশজন দাঁড়াবে, তিনজন শুনবে। গত ৫/৭ বছর যাবত চলতেছে। ত্বকী হত্যার বিচার চাই। আজ আমি সরকারকে জানাতে চাই। স্বরাষ্টমন্ত্রীকে বলতে চাই, দেশের আইনবিভাগকে বলতে চাই, ত্বকী হত্যা নিয়ে কেউ কেউ আমি এবং আমার পরিবারের দিকে আঙ্গুল দেখাতে চায়। আমি বলতে চাই, অবিলম্বে এই হত্যার বিচার করা হোক। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে বিচার করা হোক এবং অবিলম্বে এই হত্যার বিচার করার দাবি আমি তুলছি। আমি জানি, এই কথাগুলো বলে নারায়ণগঞ্জে অনেক সস্তা জনপ্রিয়তা চান। তাই আমি দাবি করছি, এই হত্যার বিচার করা হোক। দুর্নীতি যারা করে তাদের বিরুদ্ধে নজর দেয়া হোক।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক কাজীমউদ্দিন প্রধানসহ নাসিক নির্বাচনে বিলুপ্ত চার কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


