প্রথমবারের মত ত্বকী হত্যার বিচার চাইলেন শামীম ওসমান
নীরব প্রকাশ
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৫৮ পিএম
# র্যাব ১১ জনের নামও প্রকাশ করে বলেছে : হালিম আজাদ
# র্যাবের তদন্তে নাম আসায় অনেকেই সেই পরিবারের কথা বলে : এড. আওলাদ
# ত্বকী হত্যার বিচার নানা কূটকৌশলে সেই বন্ধ রেখেছে : এড. মাসুম
# তারা বিষয়টা নিয়ে র্যাবকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন : ভবানী শংকর
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে হত্যার ঘটনার বিচার চাইলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এ বিষয়ে ২৯ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নম পার্কে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ বিষয়ে দাবি জানান। মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সামনে আরেকটা দাবি জানাতে চাই। এই কয়দিন পর থেকেই আবার নাটক শুরু হবে। এ নাটক হবে, দশজন দাঁড়াবে, তিনজন শুনবে। দশজন বক্তা তিনজন শ্রোতা। গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে চলতেছে, ‘ত্বকী হত্যার বিচার চাই’।
তিনি বলেন, আজকে আমি সরকারকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে এবং দেশের আইন বিভাগকে বলতে চাই। ত্বকী না শুধু, সারা বাংলাদেশে যে হত্যা হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে যে ত্বকী হত্যা, এ ত্বকী হত্যা নিয়ে কেউ কেউ আমাকে এবং আমার পরিবারের দিকে আঙ্গুল দেখাতে চান। আমি বলতে চাই, অবিলম্বে এ হত্যার বিচার করা হোক। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচার করা হোক এবং অবিলম্বে করা হোক। আমি দাবি তুলছি, এ হত্যার বিচার হওয়ার জন্য। তাই আমি জানি, এই কথাগুলো বলে নারায়ণগঞ্জে অনেকে স্বস্তা জনপ্রিয়তা নিতে চান। তাই আজকে আমি দাবি করছি। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হোক। আর দুর্নীতি যারা করে তাদের বিরুদ্ধে নজর দেওয়া হোক।’
এবিষয়ে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ বলেন, ‘এমপি শামীম ওসমান ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে থাকলে সেইটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব বিষয়। আমরা বিচার চেয়ে আসছি আদালতের কাছে। সত্যিকার অর্থে হাজার হাজার মানুষ এই বিচার চাইছে। আমরা যে বলে আসছি যে, কার নির্দেশে কারা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে এটা আমাদের কথা না। এটা তদন্ত করার পর র্যাবই বলে দিয়েছে। র্যাব ১১ জনের নামও প্রকাশ করে বলেছে। তাই আমরা সবসময়ই এই দাবি করে আসছি। এখানে এমপি কি বললো না বললো আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা কোন পরিবারের প্রতি আঙ্গুল দেখাচ্ছি না। র্যাবের তদন্তে তাদের নাম এসেছে। সেই হিসেবেই আমরা বলে আসছি। এখানে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে, সেখানে কে কে জড়িত ছিল, কোথায় কারা কীভাবে মেরেছে তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে বিচার করা হোক এটাই আমরা সবসময় দাবী জানাচ্ছি।’
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এটা হল, বলার জন্য বলা। আজ ৮ বছর পর উনি হঠাৎ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছেন। যেখানে র্যাব তদন্ত করে খসড়া চার্জশীট দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে চার্জশীট দিতে না বলে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন। সে আসলে হচ্ছে সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি। একথা বলে, সে বোঝাতে চেয়েছে সে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়েছে। কিন্তু ত্বকী হত্যার বিচার নানা কূটকৌশলে সেই বন্ধ রেখেছে।’
এ বিষয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নারায়ণগঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন বলেন, ‘এটা বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে যেহেতু পুলিশ এজেন্সি চার্জশীট দেওয়া এখতিয়ার রাখে। সরকার এরজন্য আলাদা কোন কমিটিও করেনি এবং কমিটি করার প্রয়োজনও নাই। পুলিশ তদন্ত করে যারা প্রকৃত আসামী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিবে। চার্জশীটে এজাহারকারী যদি মনে করে কেউ বাদ পড়ছে তাহলে সে নারাজী দিতে পারবে। আর র্যাবের তদন্তে যেহেতু ওদের পরিবারের (ওসমান পরিবারের) একজনের নাম আসছে, সে কারণে অনেকেই সেই পরিবারের কথা বলে। এটা বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ তদন্ত করে একটা চার্জশীট দেওয়া। এবং চার্জশীটটা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আসলে এই মুহুর্তে দরকার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক চার্জশীট সাবমিট করা। এখানে একটি মেধাবী কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারী বা দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেওয়া। এখানে যাদের বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারা করা হয়েছে তাদেরকে ধরে এনে যদি এর কিছু তথ্য উদঘাটন করতে পারে তাহলে তদন্তকারীর সংস্থার জন্য সেটা হবে একটা মাইল ফলক। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা জানি না কে খুন করেছে বা কে খুনি। তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো তাদের খুঁজে বের করা। যাদেরকে ১৬৪ করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞেসে করলেই সত্যটা বের হয়ে আসবে।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার চাচ্ছে, আমরাও চেয়ে আসছি এবং বিচারটা যত দ্রুত হবে ততই ভাল। তবে তাদের (ওসমান পরিবারের) পরিবারের দিকে আঙ্গুল দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের বিষয়টি এসেছে ২০১৪ সালে র্যাবের যে খসড়া চার্জশীট দেয়া হয়েছে তার মাধ্যমে। সেটা সংবাদ মাধ্যমেই এসেছে। সেই আলোকে বিষয়টা কাউকে বলার কোন অপেক্ষা রাখে না। তারপরেও যদি তাদের পরিবারের দিকে আঙ্গুল তোলার বিষয়টা তিনি বলে থাকেন, তারা বিষয়টা নিয়ে র্যাবকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।’


