Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ঘুরে ফিরে একই কথা !

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:০৫ পিএম

ঘুরে ফিরে একই কথা !
Swapno

# গতানগতিক বক্তব্য ছাড়া নতুনত্ব নাই : এড. দীপু
# মিথ্যার রাজাতে পরিণত হয়েছে : জাহাঙ্গীর আলম


 নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকটা তোপের মুখে ছিলেন শামীম ওসমান ও তাঁর কর্মীরা। মূলত আইভীকে নৌকার প্রার্থী করার পরেই তাদের বিপরীতমূর্খ কর্মকান্ডের কারনেই চাপ ছিলো তাদের উপর। নির্বাচনের পর অনেকটা চুপসে গিয়েছিলেন শামীম। কোনো ‘রা’ পর্যন্ত করতে পারেননি তিনি। একের পর এক তাঁর নিয়ন্ত্রিত কমিটি বিলুপ্ত করার কারনে মুষড়ে পড়েছিলেন ওসমানীয় বলয়। তবে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রসঙ্গকে পুঁজি করে শামীম ওসমান তাঁর কর্মী সমর্থকের মন থেকে ভয় দূর করতে গতকাল নম পার্কে সভা করেছেন। সেই সভাতে শামীম ওসমান তাঁর কর্মী সমর্থকদের নতুন কোনো ম্যাজেস দিতে পারেনি। পুরনো বক্তব্যই তিনি ঘুরে ফিরে দিয়েছেন। শুধু মাত্র যোগ করেছেন প্রধান মন্ত্রী তাঁকে ‘থ্যাংকস’ জানিয়েছেন। আর এ ‘ থ্যাংকস’ জানানোকে কেন্দ্র করেই শামীম ওসমান তাঁর নেতা কর্মীদের ডেকে সভা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে যে ‘থ্যাংকস’ দিছেন বলে তিনি দাবী করছেন এর সত্যতা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধুম্রজাল।

 

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় শামীম ওসমানের কর্মকান্ড নিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে একের পর এক, যখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন তখনই শামীম ওসমানের টনক নড়েছিলো। কিন্তু আইভী যখন মুখ খুলেছেন,তখনই শামীম নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তবে সেই সংবাদ সম্মেলন সিটি নির্বাচনে নৌকার জন্য কোনো জোয়ারের সৃষ্টি করতে পারেনি। কারন আইভীকে মানুষ তাঁর ও সরকারের কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ণ করেই ভোট দিয়েছেন বলে দাবী করেছেন আইভী নিজেই। ইতিমধ্যে কথা উঠেছে,আগামীতে জেলা ও মহানগরসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গদলে শামীম ওসমানের কর্তৃত্ব থাকবে না। এমন আভাস পেয়ে অনেকটা মনোকষ্টে ছিলেন শামীম ওসমান ও তার বলয়। বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়নে ওসমান বলয়ের লোকজনের ঠোঁটের কোন থেকে হাসি মিঁইয়ে গিয়েছিলো। এমন অবস্থা আঁচ করতে পেরেছিলেন শামীম ওসমান নিজেই। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিটি নির্বাচনের জন্য শামীম ওসমানকে ‘থ্যাংকস’ জানিয়েছেন বলে দাবী করেছেন। এমন দাবী থেকেই শামীম ওসমান গতকাল নম পার্কে সভা করেছেন তিনি। আতংকে থাকা কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই তিনি সভাটি আহ্বান করেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

 


সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। তিনি বক্তব্যে পটু। বক্তব্য প্রদানের সময় সবাই তাঁর বক্তব্যে আকৃষ্ট হয়। তবে তিনি একই বক্তব্য বারবার দিয়ে থাকেন। তাঁর প্রতিটি সভায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে শুরু করেন তাঁর বক্তব্য। এরপর ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে তাঁর দাদা একেএম খান সাহেব ওসমান আলী, বাবা একেএম শামসোজ্জাহা, বড় ভাই নাসিম ওসমানের গুন কীর্তনও থাকে। এরপর চাষাঢ়ায় বোমা হামলায় শহীদদের নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি সভাতে কি বক্তব্য রাখবেন তা তাঁর নেতাকর্মীদের মুখস্ত। সভাতে শুধু দু একটি কথা তিনি সংযোজন করেন। গতকালের সভাতেও শামীম ওসমান একই বক্তব্য প্রদান করেছেন। বরাবরের মতো শামীম ওসমানের পারিবারিক কবরে আগের মতোই উঠে এসেছে শ্মশানের মাটি কবরে দেয়ার প্রসঙ্গ। তিনি আগের যেকোন বক্তব্যের মতোই নেতাকর্মীদের খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। গতকালও নতুন কোনো ম্যাসেজ পায়নি নেতা কর্মীরা।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শামীম ওসমান বক্তব্য খুব ভালো রাখতে পারেন এটা সত্য। তবে তিনি মাঝে মধ্যে যে সভা ডাকেন তাতে তিনি নতুন কোনো ম্যাসেজ দিতে পারেননা। তাঁর বক্তব্যের বেশির ভাগই ওসমান পরিবার মানে তাঁর পরিবারের বন্দনা। তিনি যেভাবে বক্তব্য রাখেন তাতে মনে হয়,ওসমান পরিবারের আনুগত্য প্রকাশ না করে এই জেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি কেউ করতে পারবেন না। তিনি আরো মনে করেন,এই জেলায় আওয়ামীলীগ করতে হলে তাঁর পরিবারকে তোঁয়াজ করেই আওয়ামীলীগ করতে হবে। তবে শামীম ওসমান বুঝেন না, আগের দিন আর এখন নেই। দিন পাল্টেছে। তিনি যা বলবেন আর তা-ই জনগন বিশ্বাস করবে,সেই দিনটা এখন নেই তিনি তা আর বুঝেন না। তবে আগামীতে জেলা, মহানগরসহ অনেক কমিটিই ওসমান বলয়ের বাইরে থেকে হবে এমনই  সিগন্যাল রয়েছে কেন্দ্র থেকে। সিটি নির্বাচনের পর শামীম ওসমানের বলয় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ে। সিটি থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নেও এই প্রভাব পড়েছে। কোন উপায় পাচ্ছিলেন না শামীম ওসমান। হঠাৎ করেই জাতীয় সংসদের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথোপকথনের সূত্র ধরে তিনি তার বলয়ের লোকজনদের শান্তনা দিতে চাচ্ছেন বা উজ্জিবিত করতে চাচ্ছেন সভায় বক্তব্যের মাধ্যমে।

 


শামীম ওসমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, শামীম ওসমানের বক্তব্য গতানুগতিক। নতুন কিছু নেই। সবসময় যেটি বলে আসছেন, তাই আবারো বলেছেন।


প্রতিক্রিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যে প্রশ্ন রেখেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনির ভাই, জেল হত্যার ফাসির আসামি কী করে বার বার কাউন্সিলর হন তার বাড়ির সাথে। আবার রাজাকারের সন্তান ও প্রেতাত্মারা তো তাদের সাথেই সবসময় থাকে।আবার তারাই বড় বড় কথা বলেন। শামীম ওসমানের অনুসারীরা যদি ত্যাগী নেতাই হত তাহলে নৌকার প্রার্থী আইভীর পক্ষেই কাজ করতো। কিন্তু তারা নৌকায় ভোট না দিয়ে সকলে হাতিতে ভোট দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা যখন তাদের সববিষয় জেনে গেছে, ভাই লীগ করা ব্যক্তিদের সমস্যা হয়ে গেছে। আমাদের নেত্রী মহান নেত্রী। তার কাছে গেলে তিনি সবার মাথায় হাত দিবেন। এখন ওইটা টেনে এনে ভাইলীগকে উজ্জ্বীবিত করার মিশনে নেমে গেছে। আসলে এটা শামীম ওসমানের ভাওতাবাজী। ত্বকী হত্যার বিচারের কথা বলায় তাকে সাধুবাদ জানাই। এতোদিন পরে তার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। ত্বকী হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার আইভীসহ সকল নারায়ণগঞ্জবাসী চায়। আর বছর ধরেই শামীম  ওসমান ষড়যন্ত্রের যে কথা শুনায়, ওটা হচ্ছে তার অভ্যাস। মিথ্যা কথা বলতে বলতে তার মধ্যে নতুনত্ব কিছু নাই। শামীম ওসমান অবাস্তব কথা বলে। সে বলে তার পিঠে সাইকেল ভাঙছে। এতোদিন বলছে তিনটা সাইকেল ভাঙছে, আজকে দুইটা নাই হয়ে একটা ভাঙছে। সে মিথ্যার রাজাতে পরিণত হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন