প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন কাউন্সিলর শকু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:০০ এএম
নাসিক ১২নং ওয়ার্ডের খানপুর মেইনরোড এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি সাব মার্সিবল পাম্প (গভীর নলকুপ) স্থাপন করে দেন কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু।
শপথের আগে প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডে চতুর্থবারের মতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। সোমবার ৩১ জানুয়ারী বিকেলে শহরের খানপুর মেইনরোড এলাকায় পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পেরুতে না পেরুতেই খানপুর মেইন রোড এলাকাবাসীর বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট দূর করলেন কাউন্সিলর শকু।
খানপুর মেইনরোড এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি সাব মার্সিবল পাম্প (গভীর নলকুপ) স্থাপন করে দেন কাউন্সিলর শকু। সোমবার ৩১ জানুয়ারী বিকেলে শহরের খানপুর মেইনরোড এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপনের পূর্বে খানপুর সাদা মসজিদে বাদ আসর দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু খানপুর মেইনরোড এলাকায় গভীর নলকুপ স্থাপনস্থলে আসলে সেখানেও দোয়ার মধ্য দিয়ে সাব মার্সিবল পাম্প (গভীর নলকুপ) স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়।
দোয়ার পরে সাব মার্সিবল পাম্প (গভীর নলকুপ) স্থাপন সুইচ দিয়ে নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করে কাউন্সিলর শকুসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা। স্থানীয় মুরব্বী জাহিদ হোসেন বলেন, কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু গত মেয়াদে এমপি সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় নিজ ওয়ার্ডে ৮টি গভীর নলকুপ স্থাপন করেছে। আমরা নির্বাচনের পূর্বে উঠান বৈঠকে তার কাছে খানপুর মেইনরোড এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দূরীকরণে আরো একটি গভীর নলকুপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছিলাম। তখন কাউন্সিলর শকু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচন পরবর্তী ২ মাসের মধ্যে তিনি গভীর নলকুপটি স্থাপন করে দিবেন। কিন্তু তিনি যে নির্বাচনের ১৫ দিনের মধ্যে গভীর নলকুপটি স্থাপন করে দিবেন সেটা আমাদের কল্পনাতেও ছিলনা। আমরা খানপুরবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুকে খানপুরবাসীর পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কাউন্সিলর শওকত এভাবেই আমাদের সেবায় কাজ করে যাবেন বলে প্রত্যাশা করছি। স্থানীয় মুরব্বী সামাল সরদার বলেন, কাউন্সিলর শকুর কাছে আমরা বিগত দিনে যতগুলো কাজ নিয়ে গিয়েছি তিনি সব কাজেই আমাদের মুরব্বীদের যথেষ্ট সম্মান দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী কাউন্সিলর শকু আজীবন ওয়ার্ডবাসীকে সেবা করে যাবে এবং আমরা এলাকাবাসীও তার আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাব। আমরা আগামী দিনে তাকে শুধু কাউন্সিলর হিসেবেই নয় আগামীতে মেয়রও দেখতে চাই।
স্থানীয় মুরব্বী সুজাত আলী বলেন, কাউন্সিলর শকু বিগত দিনে আমাদের জন্য অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও আমাদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করে যাবেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ওয়ার্ডবাসী কতটা উৎফুল্ল। ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগের শেষ দিনে খানপুর লাল মসজিদের সামনে পথসভা চলাকালীন তখন আমার কাছে খানপুর মেইনরোড এলাকায় বিশুদ্ধ একটি পানির সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছিল। আপনারা জানেন আমাদের স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান সাহেব এর আগে আমার ওয়ার্ডে নিজ তহবিল থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যার মধ্যে খানপুর লাল মসজিদ ও সাদা মসজিদসহ ৮টি গভীর নলকুপ, ডনচেম্বার মসজিদে ৪৭ লাখ টাকা, ওয়াইফাই জোন, এলইডি লাইটসহ যেসব প্রকল্প দিয়েছিলাম সেগুলোর জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
নির্বাচনের পূর্বে যখন আমার কাছে পানির সাব মার্সিবল পাম্পের কথা বলা হয়েছিল তখন আল্লাহর কাছে বলেছিলাম, আল্লাহ আমি পাশ ফেল যাই করি নির্বাচনের পূর্বে এখানে একটি পাম্প বসিয়ে দিব। আল্লাহ আপনি আমাকে এখানে পানির সাব মার্সিবল পাম্প বসানোর তৌফিক দিয়েন। নির্বাচনে পাশ করার পরে ২০ জানুয়ারী আমাকে খানপুরবাসী সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। তখন আমি তাদেরকে জায়গা দেখিয়ে দিতে বলেছিলাম। আল্লাহ আমাকে তৌফিক দেওয়ায় আমি শপথ গ্রহনের পূর্বেই পানির সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে দিচ্ছি। ইনশাল্লাহ আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যেই এখানকার লোকজন বিশুদ্ধ খাবার পানি পাবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ওয়ার্ডবাসীর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারি। আপনারা জানেন এই ওয়ার্ডের দুই দুইজন কৃতি সন্তান যারা সংসদ সদস্য। এছাড়াও পাশাপাশি অন্যান্য যারা আছেন তাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে আমার ওয়ার্ডটিকে বাগানের মতো সাজাবো। আমাদের স্থানীয় এমপি মহোদয়ও আমাকে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন প্রতিরোধ করা। আমি গত ১৮ জানুয়ারী থেকে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে মাস্ক করছি। আগামী ৭ দিন মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী বাড়িয়েছি। মঙ্গলবার সকালেও শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় মাস্ক বিতরণ করবো। সবাইকে নিয়মিত মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সাহায্য সহযোগিতা যতটুকু প্রয়োজন ইনশাল্লাহ করে যাব। আমার ওয়ার্ডের একজন লোকজনও ইনশাল্লাহ কষ্ট করতে হবেনা আমি যতক্ষন আছি। আমি সবসময়ই আল্লাহর কাছে চেয়েছি যাতে আল্লাহ আমাকে তৌফিক দেন যাতে আমি সবসময় মানুষের জন্য কাজ করতে পারি। যখন কাজের মধ্যে থাকি তখন আনন্দ পাই। আর যখন কাজ থাকেনা তখন মনে হয় পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি।
আমাদের টিম কুইক রেসপন্স সবসময় আপনাদের পাশে আছি। উল্লেখ্য গত দুই বছরে করোনাযোদ্ধা কাউন্সিলর শকু ও তার টিম কুইক রেসপন্স করোনা হাসপাতালসহ করোনা আক্রান্তদের সেবা ও মরদেহ দাফনের মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। ১৬ জানুয়ারী চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার দুদিন পরেই তিনি করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতায় নেমে প্রশংসিত হয়েছেন।


