Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শহরে শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৩৪ পিএম

শহরে শ্রমিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ

গাজীপুরে নাসা গ্রুপের লিজ কমপ্লেক্স গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।

Swapno

গাজীপুরে নাসা গ্রুপের লিজ কমপ্লেক্স গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এ সময় শ্রমিকদের উপর গুলি করা পুলিশ সদস্যদের শাস্তি, আহতদের ক্ষতিপূরণ, মামলা প্রত্যাহার ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, জেলা সহ-সভাপতি ও গাবতলী পুলিশ লাইন আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হাসনাত কবীর, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, বিসিক আঞ্চলিক শাখার সভাপতি নূর হোসেন সর্দার, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার খান, গাবতলী পুলিশ লাইন আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, রিকশা, ব্যাটারী রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৬ জানুয়ারী নাসা গ্রুপের লিজ কমপ্লেক্স কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে কর্মস্থল থেকে ফ্যাক্টরী কম্পাউন্ডে অবস্থান নেয়। অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরবর্তী কারখানার নির্বাহী পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মিলে পুনরায় কাজে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ ও মারমুখী আচরণ করে এমনকি কারখানার সিকিউটিদের দিয়ে শ্রমিকদের গালাগালি ও মারধোর করে। পরবর্তীতে শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করে কারখানা থেকে বের হয়ে যায়।

 

পরের দিন শ্রমিকেরা যথারীতি কাজে যোগদান করে। ২৯ জানুয়ারি শ্রমিকেরা যথারীতি কারখানায় গিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষ বেআইনী ও অবৈধভাবে শ্রমআইনের ১৩(১) ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে কারখানাটি বন্ধ ঘোষনা করে এবং গেইটে পুলিশ মোতায়েন করে। শ্রমিকেরা বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করলে পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের উপর লাঠি চার্জ, গুলিবর্ষন ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে আহত করে।

 

শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে মালিকের ভাড়াটে বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বর্তমানে ১২ বছর যাবৎ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কোন ভূমিকা পালন না করে মালিকের স্বার্থ রক্ষার্থে পেটোয়া বাহিনী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অসহায়ত্ব ও ভয়ের মধ্যে রেখে সস্তায় তাদের শ্রম লুট করে মালিকদের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতেই পুলিশ যে শ্রমিকের করের টাকায় বেতন-ভাতা পায় সেই শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষন করছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আদমজী ইপিজেড এ অবস্থিত কুনতং কারখানার শ্রমিকদের উপর ২০২১ সালের ৭ ও ৯ জানুয়ারী পুলিশ বর্বরোচিত হামলা করে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিককে আহত করে।

 

কারখানার শ্রমিকেরা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নেতৃত্বে নিয়ম মেনে আন্দোলন সংগ্রাম করায় আইনগত প্রাপ্য পাওনা থেকে মাত্র ৩৬ শতাংশ পাওনাদি পরিশোধ করে কর্তৃপক্ষ। বকেয়া ৬৪ শতাংশ পাওনাদির দাবিতে দীর্ঘ ১বছরের অধিককাল যাবৎ আন্দোলন সংগ্রাম করছে কিন্তু এখনও শ্রমিকেরা তাদের পাওনাদি পায় নাই। নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, কারখানা খুলে দেওয়া, শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা-ক্ষতিপূরণ, কুনতং শ্রমিকদের ৬৪ শতাংশ পাওনাদি পরিশোধ করার দাবি জানান।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন