# শহরে অবাধ করা হোক নগরবাসীর সাশ্রয়ে চলাচল
দু’দশক আগে সীমান্তে কাটাতার স্থাপন করা হলে বন্ধুবর আত্মাভিমানী কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ লিখেছিলেন, পৃথিবী আমার,আমি হেটে যাবো, তবু কেন পাশপোর্ট পাশপোটর্, কাটাতার কাটাতার খেলা।
বর্তমান নারায়ণগঞ্জ শহরে আমারও বলতে ইচ্ছে করে. এ শহর, শহরের এ রাজপথ আমার, তবু কেন প্যাডাল ও ব্যাটারী রিকশার এ বৈষম্য, রাজপথে কেন আমাকে নামিয়ে দেয়া হয় রিকশা থেকে, চালককে করা হয় অর্থদণ্ড, সিটি কর্পোরেশন ও সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স দেয়া নাগরিক আমি, হে নগরপতি, আমাকে মাথা উচুঁ করে অবাধে চলতে দাও।
প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই আপনার নজরে পড়েছে, এ শহরে রিকশা এখন দু’প্রকার। প্যাডাল (পায়ে চালানো) ও ব্যাটারীচালিত রিকশা। এরমধ্যে শতকরা মাত্র পাঁচটি হলো প্যাডাল রিকশা। নিশ্চয়ই আপনি খেয়াল করেছেন, সকাল বেলা ব্যটারীচালিত রিকশাগুলি বঙ্গবন্ধু সড়ক পার হতে পারে না।
এ সময় ব্যাটারীচালিত রিকশা বঙ্গবন্ধু সড়কে এলেই পুলিশ তাদের আটক করে এবং ১৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করে। সকালবেলা কেউ জামতলা বা মাসদাইর থেকে কালীরবাজার আসতে চাইলে তাকে চাষাঢ়া বা গলাচিপার মোড়ে নামিয়ে দেয়া হবে।
দেওভোগ নাগবাড়ি বা পানির টাঙ্কি থেকে কেউ টানবাজার যেতে চাইলে তাকে নামিয়ে দেয়া হবে ডায়মন্ড হলের মোড়ে। কাশীপুর বা পাইকপাড়া থেকে কেউ দ্বিগুবাবুর বাজার যাইতে চাইলে তাকে নামিয়ে দেয়া হবে জিমখানা মোড়ে। বলা হবে, এবার প্যাডাল রিকশা ধরে গন্তব্যে যান। আপনার কপাল ভাল হলে প্যাডাল রিকশা পাবেন।
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও একটি প্যাডাল রিকশা পাওয়া যাবে না। অতএব এবার পায়ে হেঁটে চলে যান। এদিকে অটোরিকশা নামে এদেরই মাসতুতো ভাই আরেকটি তিনচাকার যান শহরময় যানজট সৃষ্টি করে রেখেছে।
অতএব নগরপতি/ নগরমাতার কাছে অধমের বিনীত নিবেদন, হয় ব্যটারীচালিত রিকশাকে সর্বত্র যেতে দেয়া হোক, নয়তো তাদের দূর করা হোক রাস্তা থেকে। শহরে অবাধ করা হোক নগরবাসীর সাশ্রয়ে চলাচল।


