Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

‘জীবনের শেষ অবধি জনতার জন্য মাঠে থাকবো’

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৩ এএম

‘জীবনের শেষ অবধি জনতার জন্য মাঠে থাকবো’
Swapno

 

# বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সমৃদ্ধ এক রাজনীতিক


এটিএম কামাল। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এমন কোনো নেতা বা তৃণমূলকর্মী নেই যারা তাঁকে চেনেনা। জীবনের অনেকটা পথ তিনি পাড়ি দিয়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে। রাজনীতি করতে গিয়ে শিকার হয়েছেন রাজনৈতিক  হামলা মামলার। কিন্তু এই রাজনীতিক তাঁর অবস্থান থেকে পিছপা হননি। যখনই বিএনপি পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে তখনই এটিএম কামাল ছিলেন রাজপথে সক্রিয়। আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সাঁড়িতেই ছিলেন তিনি।

 

তবে এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে এড.তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বহিষ্কারের হতে হয়েছে তাঁকে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এই নেতা বহিস্কার হওয়ার পর  জেলার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ দুঃখ পেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তা কেউ মুখ ফুটে প্রকাশ করতে পারেনি। দল থেকে বহিস্কার হওয়ার কারনে এটিএম কামালের মনে কোনো কষ্ট নেই। তবে যতোদিন বেঁচে আছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করেই বিএনপির একজন কর্মী হয়ে থাকবেন বলে জানান তিনি। এছাড়াও তিনি গনতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগেই মতোই রাজপথে থাকবেন বলে একান্ত সাক্ষাৎকারে দৈনিক যুগের চিন্তাকে এসব কথা বলেন।


১৯৭১ সালে কিশোর বয়সে সোনারগাঁয়ের সন্মান্ধি ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোমিন উল্লাহ ভুঁইয়া ভুলুর তত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছিলেন এটিএম কামাল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দেশের জন্য যুদ্ধেও গিয়েছিলেন। তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম লেখাননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭৮ সালে ইরানে চলে যান। এরপর ইরান থেকে ১৯৮১ সালে ডুবাই অবস্থান করেন।  ১৯৯৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৬ সালে সেই সময় তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ডের মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এটিএম কামালের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিকভাবে ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এমনটিই জানিয়েছেন তিনি।  শুধু বিএনপির  রাজনীতিই নয়, নাগরিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা  উন্নয়ন পরিষদ,নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কমিটি,সোনারগাঁও নাগরিক কমিটি,পরিবেশবাদী সংগঠন নির্ভীক বাপার ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও টিপাই মুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। এছাড়াও শীতলক্ষ্যা বাঁচাও ও পানাম বাঁচাওসহ বিভিন্ন আন্দোলনে ছিলেন ইটিএম কামাল উল্লেখযোগ্য একজন।


এটিএম কামাল সাক্ষাৎকারে দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, পারিবারিকভাবেই তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক ছিলেন। তাঁর মা শাহানা খানম চৌধূরী জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ছিলেন। চাচা মনিরুজ্জামানও ছিলেন বিএনপির রাজনীতিক। জাগো দলের প্রতি তাঁর পরিবারের যে ভালোবাসা সেই থেকেই তিনি বিএনপির আদর্শের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের  পক্ষে মাঠে থেকে কাজ করার অভিযোগে বিএনপির সমস্ত পদ তথা সদস্য পদ থেকেও তাঁকে বহিস্কার করা হয়। বিএনপি এমন সিদ্ধান্তকে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তনুযায়ী তা মাথা পেতে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর ক্ষোভ নেই বলেও তিনি জানান।


সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিলো দলীয় কোনো নেতা বা কর্মী  বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি থেকে নির্বাচন করেনি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিটি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। দল বর্তমান কমিশনের অধীনে নির্বাচন করবে না এ বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মীরা অবগত। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কোনো নেতা নির্বাচন করতে পারবে না এই ম্যাসেজটি যখন দল থেকে দেয়া হয়,তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিলো। দল যদি শুরুতেই এমন ম্যাসেজ দিতো তাহলে তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে তিনি মাঠে থাকতেন না বলেও দাবী করেন।



তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছন তিনি। কিন্তু যখন বিএনপি থেকে ম্যাসেজ দেয়া হয়,তখন আর জনগনের কাছে ওয়াদাবদ্ধ থাকায় ঘরে ফিরে আসতে পারেননি তিনি।  বিএনপি থেকে বহিস্কারের পর তাঁর অনুভুতি কেমন ছিলো এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুল করেছি এটা সত্য। তবে এই ভুলে এতো বড় মাশুল গুনতে হবে এমনটি ভাবেননি তিনি। দল যদিও তাঁকে বহিস্কার করেছেন তবুও তিনি দলের একজন সমর্থক হয়েই আজীবন কাজ করে যাবেন বলেও তিনি জানান।  


এটিএম কামাল আরো বলেন, দুই যুগ ধরে বিএনপির দলের রাজনীতি করি। বিএনপি হচ্ছে একটি মহাসাগর। এখানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আরও অনেক নেতাকর্মী আছেন। আমরা তো অনেক দিন ছিলাম, দলের জন্য সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন নতুনদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে, নেতৃত্ব নিতে হবে। দলের কর্মী হিসাবে শহিদ জিয়ার আদর্শ নিয়ে সারাজীবনই লড়াইয়ের মাঠে ছিলাম। আর এ লড়াই বিএনপির হয়েই করে যাবো। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গে আগে যেমন মিছিলের সর্বাগ্রে ছিলেন তিনি,বাকি জীবনও রাজপথেই থাকবেন। আগে বিএনপি নেতা হিসেবে মাঠে ছিলেন, আগামীতে কর্মী হয়ে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সর্বাগ্রেই থাকবেন বলেও তিনি জানান। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন