# সেলিম ওসমানের আহবানে সাড়া দেয়া উচিৎ আইভী’র
সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচনী ইশতিহারের অন্যতম ছিল শীতলক্ষ্যার শহর-বন্দরের যোগসংযোগ কদমরসুল সেতু। হ্যাট্রিক মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আইভী। এখনো শপথ গ্রহণ করেননি তিনি। এরই মাঝে কদম রসুল সেতু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান নতুন তথ্য দিয়েছেন। যা নিয়ে শহর ও বন্দরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডও সেলিম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার অধিভুক্ত।
তবে উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে সমন্বয়হীনতা রয়েছে সাংসদ সেলিম ওসমান ও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর। কদম রসুল সেতু নিয়ে মেয়র আইভী নানা সময় নানা বক্তব্য দিলেও এমপি সেলিম ওসমান ছিলেন একেবারে নীরব। তাই বন্দরে এক মতবিনিময় সভায় দেয়া সেলিম ওসমানের বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দিতে লক্ষ্য করা গেছে নগরবাসীকে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করছেন। বন্দরের সর্বস্তরে উন্নয়নে বন্দরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান দাবি করেন, কদম রসুল সেতু নির্মাণের জন্যও তিনি ডিও লেটার দিয়েছেন, ‘যেহেতু নদীর দুইপাড়ই সিটি কর্পোরেশনের তাই সেটা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে হবে।
তাই বলে উন্নয়ন কাজকে তো বাধা দেওয়া যাবেনা। সেতুগুলো হলে বন্দরের চেহারা পাল্টে যাবে।’ সেলিম ওসমানের এই ইতিবাচক বক্তব্য নিয়ে সেলিম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মদ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে ভরপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এদিকে সেলিম ওসমান যে ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন তাতে মেয়র আইভীরও সাড়া দেয়া উচিৎ বলে মনে করছে নগরবাসী। একসময় সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় নগরভবনের সামনে থেকে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানে যেটি আবারো দখল হয়ে পড়ে আছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরোধ না বারিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়ন ঘটানোর দাবি জানাচ্ছে নগরবাসী।
এদিকে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আইভীর স্বপ্নের কদমরসুল সেতু তৈরিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ফলে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই সেতুর অনুমোদন একনেকে পাশ হয়ে গিয়েছে। সাড়ে তিন কিলোমিটারের এপ্রোচ রোড এবং ৩৮০ মিটারের মূল সেতু তৈরি করার কাজটি টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে। শহরের ৫নং গুদারাঘাট এলাকা থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ঝুলন্ত এই সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। গত দুই মেয়াদে আইভীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর অনুমোদন একনেকে পাশ করেন। কোরিয়ান কোম্পানির মাধ্যমে টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে সেতুর কাজ। আইভী নির্বাচিত হলে মাত্র দুইবছরের মধ্যেই এই সেতু ব্যবহারের সুবিধা নিতে পারবে শহর ও বন্দরবাসী। নদী পারাপারের যে অসহনীয় দুর্ভোগ এবং বিপত্তি তা হ্রাস পাবে এই সেতুর মাধ্যমে।
সূত্র বলছে, শপথ নিয়েই সিটি করপোরশেন এলাকার এমপিদের সাথে দুরুত্ব কমিয়ে আনতে মেয়র আইভীরও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। নতুবা এই দুরুত্বের কারণে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হবে নগরবাসী। মতপার্থক্যের জেরে নগরবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত রাখাটা আদৌ ঠিক হবেনা। সুপেয় পানি, ফুটপাতের হকার, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মেয়র ও এমপিরা যদি ডিসি-এসপির সমন্বয়ে করেন তাহলে নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা আরো কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নের স্বার্থে সকল জনপ্রতিনিধিদের দুরুত্ব কমিয়ে নিয়ে আসার তাগিদ জানাচ্ছেন সবাই।
শনিবারের মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান দুরুত্ব কমিয়ে নিয়ে আসার প্রতি নিজের আগ্রহও ব্যক্ত করতে দেখা গেছে, নির্বাচনের মাঠে একটু ভূল বুঝাবুঝি হয়। আসলে আমরা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। স্থানীয় নির্বাচনে মার্কা হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা যারা রাজনীতির বুঝিনা তাদেরও নৌকার জন্য দৌঁড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। আসলে এই ব্যর্থতা আমরা যারা নেতৃত্ব দেই তাদের। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এরপরও খোঁচাখুঁচি থেকে যায়। আমি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেছি কেউ ডুয়েল গেম খেলবেন না মেয়রকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। একথা বলাতে কিছু কিছু পাতি নেতা আমার সমালোচনা করে। কিছু কিছু লোকের জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধিদের বিভক্ত হয়ে যেতে হয়। আর কিছু লোক সুবিধা নেয়। তিনি আরো বলেন, নাসিম ওসমান সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পর্কে বলেন, ব্রিজ হতে এতো সময় লাগেনা। এখন সেতুর কাজ দেখে মনটা ভাল হয়ে গেছে।’ রাজনৈতিক বোদ্ধারাও বলেন, সেলিম ওসমানের মতো দুরুত্ব ঘুচিয়ে আনা উচিত মেয়র আইভীরও।


