Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

‘মোটিভেশনাল ওয়ার্ক’ এবারের মূল টার্গেট : কাউন্সিলর খোরশেদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:০৪ এএম

‘মোটিভেশনাল ওয়ার্ক’ এবারের মূল টার্গেট : কাউন্সিলর খোরশেদ
Swapno

# শুধু সচেতনতাই নয়, আমাদের ইচ্ছাশক্তিরও প্রয়োগ করতে হবে


সারাদেশে করোনায় ফ্রন্টলাইনার হিসেবে এগিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ পাইওনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। তার এবং তার টিমের কাজ দেশ ছাপিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে। বীর বাহাদুর খেতাবটিও তার নামের সাথে জুড়ে যায়। সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দাপটের সাথে তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন খোরশেদ।

 

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে ওমিক্রনের চোখ রাঙানিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কাউন্সিলর খোরশেদ যুগের চিন্তাকে জানান, সবসময়ের জন্য তিনি ও তার টিম কাজ করে চলেছেন। করোনা বাংলাদেশে হানা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৮৫টি দাফন ও সৎকার করেছেন তারা। ৯টি মরদেহের মুখাগ্নি টিম খোরশেদ নিজেরাই করেছেন।  আগামী দিনগুলোতে নিজের কাজের ব্যাপারে কাউন্সিলর খোরশেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, এবার নির্বাচিত হওয়ার আগেই আমি ঠিক করেছি সামনের দিনগুলোতে আমার মূল লক্ষ্য হবে ‘মোটিভেশনাল ওয়ার্ক।’  আর এটি হবেই। মোটিভেশনাল ওয়ার্ক বলতে ধরুন, কেউ অযথা রাস্তায় ময়লা,আবর্জনা ফেললো সেটি যাতে না ফেলে, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তিত। তাই এটি নিয়ে কাজ করবো।


এলাকায় মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডটিতে আমি যেটি লক্ষ্য করেছি, এখানে নির্দিষ্ট কোন মাদকের স্পট নেই।  হোম ডেলিভেরিতে, মোবাইলের পন্থায় মাদকব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছে।  আমরা এলাকার মানুষকে সচেতন করবো প্রশাসনকে সাথে নিয়ে। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি দৃশ্যমান তাই এটির বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
গরীবের জন্য এটি স্কুল করতে চান উল্লেখ করে কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, স্কুল তৈরির জন্য নারায়ণগঞ্জের কাশেম জামাল ভাই একজন প্রতিকৃত। আমি উনার কাছ থেকে পরামর্শ নেবো। জেলা প্রশাসক, মেয়র, এমপিদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমার ওয়ার্ডে যে কোন একটি প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করবো। তবে এখানে গার্মেন্ট শ্রমিকসহ নিম্নবৃত্তদের সন্তানরাই অগ্রাধিকার পাবে। গরীবের সন্তানরা যাতে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে ঝরে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করাই হবে আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বড় পরিসরে না পারলেও যে কয়জনের জন্য পারবো সেটিই হবে স্বার্থকতা। এটা শতভাগ বিনামূল্যেই করতে চাই।


বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার চিন্তার কথা তিনি যুগের চিন্তাকে জানান। খোরশেদ বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমরা বর্জ্য থেকে সার তৈরির একটি পাইলট প্রজেক্ট করেছিলাম। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর যেই ঠিকাদার ঠিক করেছিল, সে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আমরা বারবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও কোন উত্তর পাইনি।  আপাতত নিয়ে সেটি বন্ধ। আমরা জালকুড়ির প্রজেক্টের দিকে তাকিয়ে আছি। তাহলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আমরা এনজিওগুলোর রিনিউ করার সময়ও চলে এসেছে।  আমরা এবার তাদের কিছু শর্ত দিবো। তারা ভ্যানগাড়িতে যেভাবে বর্জ্য পরিবহন করে, আমরা প্রস্তাব রাখবো যাতে ওয়ার্ডগুলো থেকে বর্জ্য নেয়ার জন্য তারা ছোট ছোট পিকআপের ব্যবস্থা করে। তাহলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।


কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, মানুষের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলুন আর করোনা মানুষ সবজায়গাতেই অসচেতন।  যেই লোকটি সচেতনতার কথা বলছেন, তিনিই আবার নিজ বাড়িতে অসচেতন। যার দরুণ শৃঙ্খলা ফিরছেনা। আমাদের এখানে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। ইচ্ছা শক্তির অভাবেই আমরা আসলে অনাকাঙ্খিত অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ইচ্ছাশক্তিরও প্রয়োগ দেখাতে হবে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন