পুরো ওয়ার্ডকে সাজানোই এখন মূল লক্ষ্য : কাউন্সিলর শকু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:১৪ এএম
# ‘কুইক রেসপন্স’ নামের টিম নিয়ে ননস্টপ করোনায় সেবা
রাস্তাঘাট-ড্রেনের উন্নয়ন কাজ গোটা ওয়ার্ডে শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজানোই এখন মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ১২নং ওয়ার্ডে তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া শওকত হাশেম শকু। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, শপথ গ্রহণের আগেই আমি নির্বাচনী যেসকল ওয়াদা করেছি তা পূর্ণ করার চেষ্টা করেছি। খানপুরে একটি টিউবওয়েলের বিশেষ দরকার হয়ে পড়েছিল, সেটি সম্পন্ন হয়েছে। পুরো ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যাতে ডিজিটালভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারেন এখন সেটি নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য। শকু বলেন, এখন আমার ওয়ার্ডে আমি জন্মনিবন্ধন সেবা ফ্রি করে দিয়েছি।
সার্ভিসটা যাতে আরো সহজ হয়ে যায় সেই জন্য লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ডিজিটাল ওয়ার্ড করাটা কষ্টকর হবে কেননা আমার ওয়ার্ডে অনেক নিম্নআয়ের লোকজন রয়েছে। তারা ডিজিটাল সেবা নিতে প্রাথমিকভাবে সমস্যার সম্মুখিন হবে, সেটি দূর করতে আমি নানামূখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছি।
ওয়ার্ডে তেমন কোন বড় সমস্যা নেই উল্লেখ করে কাউন্সিলর শকু যুগের চিন্তাকে জানান, আমি প্রতিনিয়ত নিম্নআয়ের মানুষকে খাদ্য সহযোগিতার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের সহযোগিতা, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা এবং মেয়রের সহযোগিতা কর্মক্ষেত্রের সবজায়গায় পাচ্ছি। নিম্নআয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দেশে করোনা সংক্রমন শুরুর পর থেকে করোনায় সেবা দানে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে অন্যতম কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। তিনি করোনায় আক্রান্ত রোগী ও মৃতদের স্বজনদের নানামুখী সেবা দেয়ার জন্য ‘টিম কুইক রেসপন্স’গঠন করেন। ১১ জন সদস্যের এই টিম লিডার কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। তিনি তার বন্ধুদের মাধ্যমে করোনার গোটা সময়টা নানামুখী সেবা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। বিশেষ করে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের নানামুখী সেবা নিতে প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু যুগের চিন্তাকে জানান, আসলে আমরা নানামুখী সেবা দিচ্ছি প্রথম থেকেই।
বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি সহায়তা, অক্সিজেন সাপোর্ট, অক্সিজেন সাপোর্টে কোন সমস্যা হলে আমরা নিজেরাই অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, রোগীর ওষুধপত্র সরবরাহ, করেনায় কেউ মারা গেলে তার মরদেহ দাফন ও সৎকারে সহযোগিতা, অন্যত্র নিতে হলে এ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ, রোগীদের জন্য ভিটামিনযুক্ত ফল-ফলাদি সরবরাহ করা আমাদের মূল টার্গেট এবং আমরা করোনার শুরু থেকে তাই করে যাচ্ছি। আর সর্বত্র মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি আমাদের দৈনন্দিন কাজেরই একটি অংশ।
কাউন্সিলর শকু বলেন, আমার ওয়ার্ডে পুরো জেলার গুরুত্বপূর্ণ করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল। এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। অভিমানে তিনি সভাপতির পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এরপরেও মানুষের উপকারে দেখভাল করছেন। জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ মনিটরিংয়ে করোনা রোগীদের সার্ভিস নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের মাধ্যমে অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কাউন্সিলর হিসেবে আমি সবসময়ই মানুষের সহযোগিতার জন্য এই হাসপাতালে নানামুখী কার্যক্রমে যুক্ত থাকি। সামনের দিনগুলোতেও নিজেক সম্পৃক্ত রাখবো।
শকু বলেন, শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমার ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই আমি নিজেকে স্বার্থক মনে করবো। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছি। এলাকার প্রতিটি জায়গায় যদি মনের মতো করে সাজিয়ে দিতে পারি তবেই ওয়ার্ডবাসীর কাছে আমার দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা হবে। আশা করছি, আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবো।


