দিনদুপুরে নারায়ণগঞ্জে একটি পত্রিকা অফিসে ঢুকে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা। পত্রিকা অফিসে সন্ত্রাসী হামলা
# হামলাকারীরা আজমেরী ওসমানের অনুসারী
# হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান, আটক ৯
# কাউকেই ছাড়া হবেনা : এসপি
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে শহর উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই দিনদুপুরে নারায়ণগঞ্জে একটি পত্রিকা অফিসে ঢুকে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা। শতাধিক মোটরসাইকেলে শহরে কয়েক দফা মহড়া চালানোর পর প্রেসিডেন্ট রোডে অবস্থিত সিরাজ ম্যানশনের চতুর্থ তলায় ‘দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ’ ও ‘নিউজ নারায়ণগঞ্জ’ কার্যালয়ে হানা দেয় সন্ত্রাসীরা। অফিসে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে ১৫ মিনিটি অফিস কার্যালয়ে তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় তারা অফিসের সিসিটিভি ডিভাইস ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। হামলার সময় অভিসে চারজন্য সংবাদ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এঘটনায় ১৯ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়েরের পর গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘সংবাদপত্র অফিসে হামলার কারণে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে আজমেরী ওসমানের বাসার সামনে থেকে তার অনুসারী নাসিরকে আটক করা হয়েছে। সে হামলায় অংশ নেওয়া আরেক আসামি মনিরের কথায় হামলায় অংশ নিয়েছিল। এছাড়া আরও ২ জন এজাহারনামীয় আসামি লক্ষণ, কৃষ্ণাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি মোটর সাইকেল। হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এরআগে সন্ত্রাসীরা ১২ ফেব্রুয়ারি ১২টা ২৫ মিনিটে ওই পত্রিকা অফিসের কার্যালয়ে হামলা চালায়। অফিসের প্রহরী হাফিজউদ্দিন জানান, হঠাৎ করে শতাধিক লোকজন উপরে উঠতে চায়। আমি তখন বাধা দিতে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে হুমকি দিয়ে সবাই উপরে উঠে। আমি একা সকলের সঙ্গে পারছিলাম না।
অফিসে থাকা সময়ের নারায়ণগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার আরিফ হোসাইন কনক বলেন, ‘বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে অফিসের নিচে শতাধিক মটরসাইকেল অবস্থান করে।পরে মটরসাইকেল থেকে শতাধিক লোকজন সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে। অফিসে ঢুকেই আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তারা ১১ ফেব্রুয়ারি সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার লিড নিউজ ‘যা ছিল খসড়া চার্জশীটে’ সংবাদটি কেন প্রকাশ হয়েছে তার কৈফিয়ত জানতে চান। তারা বলতে থাকেন, ‘তোরা আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে নিউজ করস। কালকের মধ্যে পত্রিকায় এর জন্য ক্ষমা না চাইলে পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দিব ও সম্পাদককে গুলি করে মেরে ফেলবো।’ তারা প্রায় ১৫ মিনিট অফিসে অবস্থান করে হুমকি দিতে দিতে চলে যায়। যাওয়ার সময়ে তারা অফিসে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়। সেই সঙ্গে অফিসে থাকা সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ডিভাইস খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া একটি পিসির হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে গেছে। ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে। এদিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ওই হামলায় নাসির, আক্তার নূর, সুমন, সানি, ইসমাইল, আন্নান, কাজল, রুবেল, সিনাফি, রবিন, মনির, লক্ষণ, কৃষ্ণা, রাতুল প্রমুখকে চিহ্নিত করা গেছে।
তাদের মধ্যে নাসির ও আক্তার নূর এর আগে একাধিকবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিল সে এখন আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। এছাড়া অপর একটি ফুটেজে দেখা গেছে, অফিসে হামলার আগে শতাধিক লোকজন মটরসাইকেলে করে শহর মহড়া দেয়। ওই মহড়া শেষ করেই সময়ের নারায়ণগঞ্জ অফিসে হানা দেয়।
এব্যাপারে সময়ের নারায়ণগঞ্জের প্রকাশক ও সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল বলেন, সম্প্রতি ত্বকী হত্যা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। ১১ ফেব্রুয়ারী একটি র্যাবের সেই প্রকাশিত খসড়া চার্জশীট নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। মূলত সেই খসড়া চার্জশীট র্যাব প্রকাশ করে এবং ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি গণমাধ্যম কর্মীদের সরবরাহ করে। সেটাই হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে আমাদের নিজেদের মনগড়া বক্তব্য নাই। কিন্তু তারা যেভাবে অফিসে হানা দিয়েছে সেটা ন্যাক্কারজনক। তারা অফিসের সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন ও একটি পিসির হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে। ভাঙচুর করেছে ক্যামেরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক বলেন, ‘সময় নারায়ণগঞ্জ পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন, শ্যামল সাহা, লক্ষণ, কৃষ্ণা, নাসির, ইব্রাহিম, লিটন, আসিফ, ফয়সাল এবং হিরা। হামলার ঘটনায় ১৯জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০জনকে আসামী করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ, অফিসের লোকজনদের সঙ্গে থাকা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো.জায়েদুল আলম বলেন, ‘পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যে-ই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’


