# তারা এখন বাঁচার পথ খুঁজতেছে : মাহবুবুর রহমান মাসুম
# তারা মরণ কামড় দিবে এটাই স্বাভাবিক : হালিম আজাদ
# বিচার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: শরীফ উদ্দিন সবুজ
ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে বছরে পর বছর ধরে রাজপথে আছে ত্বকী পরিবারসহ দেশ ও বিদেশের হাজারো মানুষ। তবে হত্যাকাণ্ডে জেলার প্রভাবশালী একটি পরিবারের নাম উঠে আসায় হত্যাকাণ্ডটির বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে মনে করেন বিচার প্রার্থীরা। এজন্য তারা বিভিন্ন উপায়ে তাদের হত্যার বিচারের দাবি করে আসছেন। আর এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়া তাদের সে আবেদন যথাযথ বিভাগে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংবাদ প্রকাশ করেও যাচ্ছে। তবে এ ঘটনাটিকে আড়াল করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে অভিযুক্তরা। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থেকে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এ পুরো হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা ব্যবহার করছেন তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র অর্থাৎ হুমকি ধামকি, হামলা ও তাণ্ডব। যার সর্বশেষ ঘটনা হলো প্রকাশ্য দিবালোকে বিশেষ মহড়া প্রদর্শনীর পর নারায়ণগঞ্জের একটি স্থানীয় পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো। পত্রিকার কর্তপক্ষের দাবি তারা ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে র্যাবের একটি খসড়া চার্জশিটের বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। আর এ জন্য তাদের অফিসে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের গালাগাল করে এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার জন্য মাফ না চাইলে সম্পাদককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি তারা হামলার চালিয়েই ক্ষান্ত হননি। সেখানকার সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর ও হার্ডডিস্ক ডিভাইস খুলে নিয়ে গেছে তারা। ত্বকী হত্যার প্রতিবাদ কারীদের উপর সেই গ্রুপের হামলা আজকে নতুন কিছু নয়। এর আগেও প্রতিবাদ কারীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবি আরিফ বুলবুল, গায়েনের প্রধান গায়ক শাহীন মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীতের সভাপতি অমল আকাশ ও ছড়াকার আহমেদ বাবলুর উপর হামলা চালানো হয়। সে সময় এ চারজনকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে আরিফ বুলবুলকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি তিনজনকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তারা মূলত ত্বকী হত্যার প্রতিবাদকারী হিসেবে পরিচিত। তবে হামলা চালিয়ে হত্যার বিচার দাবিদারদের আটকানো যাবে না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সচেতন মহল। তার প্রমাণ হিসেবে তারা জানান, এবারের হামলায় ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে গ্রেফতার করে রিমাণ্ডে আনা হয়েছে। যা ত্বকীর স্বজনদের আশান্বিত করে তুলেছেন এবং ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার করায়র সরকারের এই সদিচ্ছা প্রকাশ বলে মনে করছেন তারা।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর হরমান মাসুম বলেন, ‘তাদের মনের মধ্যে প্রচণ্ড ভীতি এসে গেছে। যেহেতু তারা অপরাধী তাই তারা এখন বাঁচার পথ খুঁজতেছে। তাই তারা নির্যাতনের পথ বেঁছে নিয়েছে। কিন্তু তারা জানে না, যে প্রচলিত আইন আছে। আর নারায়ণগঞ্জের জনগণ যদি একবার ক্ষেপে উঠে তাহলে তাদের শেষ রক্ষা হবে না। তাই আঘাত করতেছে। পরিস্থিতি ঘোলা করে ফায়দা লুটতে চাইতেছে। তারা নিজেদের প্রভাশালী দেখাইয়ে বাঁচার একটি চেষ্টা করতেছে। কিন্তু বাঁচার কোন পথ পাবে না তারা।’
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ জানান, ‘হামলা মামলা করে কোন হত্যার বিচার কার্য বন্ধ করা যাবে না। যে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে তা খুবই নৃশংস। আমি এর বিচার দাবি করছি। তাদেরকে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে। যারা হত্যাকান্ড ঘটায় তারা সব সময় আতঙ্কের মধ্যেই থাকে। তাই তারা হামলার মাধ্যমে চেষ্টা করে সেটাকে বন্ধ করার জন্য। কিন্তু হামলা মামলা করে বিচার বন্ধ করা যাবে না। তারা এখন মরণকামড় দিচ্ছে। তিনি বলেন, যত দেরী করেই হোক না কেন ত্বকী হত্যার বিচার হতেই হবে। তদন্ত রিপোর্টটা প্রকাশ হওয়ায় তার মাধ্যমে একটা ক্লু বের হয়েছে। চার্জশীটে অভিযুক্তদের নামগুলো এসেছে। তাই সামনের দিকে যেন বিচারটা না হতে পারে তাই তারা মরন কামড় দিবে এটাই স্বাভাবিক।’
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে আজকে প্রায় ৯ বছর হয়ে গেছে এখনও বিচার হচ্ছে না। এখান থেকেই বুঝা যায় যারা হত্যা করেছে তারা খুবই শক্তিশালী। তারা প্রভাবশালী সন্ত্রাসী, যেহেতু তারা নারায়ণগঞ্জটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। তারা মনে করে সবকিছু অস্ত্রে জোরে সবকিছু টাকার জোরে দমিয়ে দেওয়া যায়। এ কারণে যারা ত্বকী হত্যার প্রতিবাদ করে বিচার চায়, তাদের হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তারা সবসময় একই রকম আচরণ করতেছে। যারাই বিচার চাইছে হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাদের উপরই তারা হামলা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা তাদের স্বভাবটা দেখাচ্ছে। আগে আমরা হামলাকারীদের আটক হতে দেখিনি। এইবারই প্রথম দেখলাম হামলাকারীদের আটক করতে। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, তাদের উপরের মহল তাদের উপর যে ছাঁয়া দিয়ে রেখেছিল, এখন তা সরে গিয়েছে। যে ছায়ার কারণে এতদিন বিচার হয় নাই সেইটা সরে গিয়েছে। আর তাই আজ আটজন আটকসহ রিমাণ্ডে আছে। যার মাধ্যমে বিচার হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’


